২৫ হাজার পরীক্ষার্থী প্রবেশপত্র পাননি

0
76
Print Friendly, PDF & Email

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা শুরু আজ পরীক্ষার্থী ৩ লাখ ১৪ হাজার ৬১১

অভিজিত্ ভট্টাচার্য্য : প্রায় ২৫ হাজার প্রার্থীকে বাদ দিয়েই শুরু হচ্ছে নবম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা। এরা কেউই পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য প্রবেশপত্র পাননি। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দেশের পুরনো ২০টি জেলার ২৫৮টি ভেন্যুতে (স্কুল/কলেজ/মাদ্রাসা) একযোগে এ পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। আগামীকাল শনিবার পরীক্ষা শেষ হবে। দুদিনব্যাপী পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে নেয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৬ কর্মকর্তাকে মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া সব জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রার্থীরা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য আবেদন করার যোগ্যতা অর্জন করেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গত বছর ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর অষ্টম নিবন্ধন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গত বছরের পরীক্ষায় ২৯ হাজার প্রার্থী প্রবেশপত্র না পেয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। এর আগে ২০১১ সালে ২ ও ৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল সপ্তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা। সেবার প্রবেশপত্র না পাওয়ায় ৩২ হাজার প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। আর এবার প্রায় ২৫ হাজার প্রার্থী প্রবেশপত্র না পাওয়ায় নবম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না।

জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) নামের একটি দফতর এ পরীক্ষা নিয়ে থাকে। ওই দফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রার্থীদের আবেদন যথাযথভাবে না পৌঁছানোর জন্য প্রবেশপত্র দেয়া যায়নি। এই একই কথা গত কয়েক বছর ধরেই বলা হচ্ছে। বছর বছর একই ঘটনা কেন ঘটছে, জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আশীষ কুমার সরকার বর্তমানকে বলেন, আবেদন করা সব প্রার্থী যাতে প্রবেশপত্র পান সেজন্য এবার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু অনেক প্রার্থীই আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযোজন না করার কারণে প্রবেশপত্র দেয়া যায়নি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না দিলে কম্পিউটারের যে ফরম্যাট দেয়া আছে, তা গ্রহণ করবে না। ফলে আবেদন না হলে সেটি বাতিল হয়ে যাবে। এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষের করার কিছু থাকে না। তবে গত কয়েক বছরে প্রবেশপত্র না পাওয়ার সংখ্যা কমে আসছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম) ভবনের ছয় তলায় অবস্থিত এনটিআরসিএর অফিসে গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশপত্র না পেয়ে কিছু প্রার্থী হট্টগোল করছেন। তারা দাবি করেন, সব প্রক্রিয়া মেনে আবেদন করার পরও তাদের প্রবেশপত্র দেয়া হয়নি। প্রবেশপত্র না পেলে তারা পরীক্ষা দিতে পারবেন না বলে জানান। হট্টগোলের মুখে এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান বলেন, শেষ সময়ে এসে যাদের আবেদন ঠিকঠাক পাওয়া গেছে তাদের প্রবেশপত্র দেয়া হয়েছে।

আবেদনকারীদের অভিযোগ, এনটিআরসিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অযোগ্যতা, অদক্ষতা এবং খামখেয়ালীর কারণে যোগ্যতা অর্জন করার পরও তারা প্রবেশপত্র পাননি। অন্যদিকে এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান বলেন, ভুল বা মিথ্যা তথ্য দেয়া, নির্দিষ্ট সময়ে ও নিজস্ব বিষয়ে আবেদন না করাসহ নানা দুর্বলতার কারণে নীতিমালা অনুসারেই অনেকে বাদ পড়েছেন। এ ক্ষেত্রে এনটিআরসিএর করার কিছু নেই। এনটিআরসিএ ইচ্ছা করে কাউকে বাদ দেয়নি।

সূত্র জানিয়েছে, পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অনলাইনে তিন লাখ ৩৯ হাজার ৬০৯ প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। তাদের মধ্যে তিন লাখ ১৪ হাজার ৬১১ প্রার্থীর প্রবেশপত্র অনলাইনে পাঠানো হয়েছে। আবেদনকারীদের মধ্যে ২৪ হাজার ৯৯৮ প্রার্থী প্রবেশপত্র পাননি। এনটিআরসিএর পরিসংখ্যানে বলা হয়, এবার অংশ নেয়া তিন লাখ ১৪ হাজার ৬১১ প্রার্থীর মধ্যে এক লাখ ৯৭ হাজার ৫২৭ জন পুরুষ এবং এক লাখ ১৭ হাজার ৮৪ জন নারী রয়েছেন। পরীক্ষায় পুরুষ প্রার্থীর অংশগ্রহণের হার ৬২ দশমিক ৭৮ এবং নারী প্রার্থীর হার ৩৭.২২ শতাংশ। এ ছাড়া স্কুল পর্যায়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের সংখ্যা দুই লাখ ৫ হাজার ৪৭ জন। এর মধ্যে এক লাখ ২৭ হাজার ৮০৬ জন পুরুষ এবং ৭৭ হাজার ২৪১ জন নারী। কলেজ পর্যায়ে মোট প্রার্থীর সংখ্যা এক লাখ ৯ হাজার ৫৬৪ জন। এর মধ্যে ৬৯ হাজার ৭২১ জন পুরুষ এবং ৩৯ হাজার ৮৪৩ জন নারী রয়েছেন। সব সূচকেই দেখা গেছে এ পরীক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণের হার কম। তবে গত বছরের চেয়ে এ বছর নারীদের অংশগ্রহণের হার বেশি।

সারাদেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা অর্জনের জন্য নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। এ বছর থেকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর সনদের মেয়াদ আজীবন নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর পর্যন্ত সনদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। এদিকে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে নেয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক আদেশে মন্ত্রণালয়ের ১৬ কর্মকর্তার সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করেছে। মনিটরিং টিমের সদস্যরা পরীক্ষার সময় বিভিন্ন জেলায় থাকবেন। গত ১৩ আগস্ট মন্ত্রণালয় এ আদেশ জারি করে।

মনিটরিং টিমে দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন, অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আতোয়ার রহমান। তিনি দিনাজপুরের পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন। রাঙামাটি পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পেয়েছেন অতিরিক্ত সচিব স্বপন কুমার সরকার। চট্টগ্রাম পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পেয়েছেন যুগ্ম-সচিব এ এস মাহমুদ। যশোর পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পেয়েছেন যুগ্ম-সচিব আহসানুল জব্বার। রংপুর পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পেয়েছেন যুগ্ম-সচিব মো. মজিবুর রহমান। রাজশাহী পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পেয়েছেন যুগ্ম-সচিব এ কে এম জাকির হোসেন ভূঁঞা। বরিশাল পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পেয়েছেন যুগ্ম-সচিব রঞ্জিত্ কুমার সেন। ময়মনসিংহ পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পেয়েছেন উপ-সচিব মো. বেলায়েত হোসেন তালুকদার। সিলেট পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পেয়েছেন উপ-সচিব মো. অলিউল্লাহ। কুমিল্লা পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পেয়েছেন উপ-সচিব মো. তাজুল ইসলাম। ঢাকা পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পেয়েছেন উপ-সচিব শেখ জসিম উদ্দিন আহম্মেদ ও সিনিয়র সহকারী সচিব শাহীন আক্তার। খুলনা পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পেয়েছেন উপ-সচিব গৌতম কুমার। ফরিদপুর পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পেয়েছেন উপ-সচিব মো. আজিম উদ্দিন বিশ্বাস। বগুড়া পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পেয়েছেন সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শাহ আলম এবং পাবনা পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পেয়েছেন সহকারী সচিব অসীম কুমার কর্মকার।

আমাদের চট্টগ্রাম অফিস জানিয়েছে, পরীক্ষা চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নগর পুলিশ। সিএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চট্টগ্রাম পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষা শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা আগে এবং পরীক্ষা শেষে পরবর্তী এক ঘণ্টা পর্যন্ত অস্ত্রশস্ত্র, তলোয়ার, বর্শা, বন্দুক, ছোরা, লাঠি, বিস্ফোরকদ্রব্য, ইট-পাথর প্রভৃতি বহন, উচ্চৈঃস্বরে চিত্কার, হইচই, গান-বাজনা, মাইক্রোফোন, লাউড স্পিকার বা অন্য কোনো শব্দ উত্পাদনকারী যন্ত্র ব্যবহার, বহিরাগত ও অননুমোদিত ব্যক্তির প্রবেশ নিষিদ্ধ। তবে পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ও নিরাপত্তায় নিয়োজিতরা এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। এ আদেশ আগামী ২৪ আগস্ট দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশে বলবত্ থাকবে।

শেয়ার করুন