নারী নির্যাতন : নওগাঁয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় তোলপাড় : রাজশাহীতে মাদরাসা ও গৌরীপুরে স্কুলছাত্রী অপহরণ

0
120
Print Friendly, PDF & Email

নওগাঁয় এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সপ্তম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেছেন।
এদিকে রাজশাহীতে মাদরাসা ও ময়মনসিংহের গৌরীপুরে অপহরণের শিকার হয়েছে এক স্কুলছাত্রী। এ দুটি ঘটনায় পৃথক মামলা করা হয়েছে। পুলিশ এর মধ্যে গৌরীপুরে দু’জনকে আটক করেছে।
প্রেম প্রস্তাব প্রত্যখ্যান করায় গৌরীপুরে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করা হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুই বখাটেকে আটক করে জেলে পাঠিয়েছে। বিস্তারিত আমার দেশ-এর প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
নওগাঁয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ : নওগাঁ সদর উপজেলার কাঠখৈর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাওলানা শিক্ষক আবদুস সাত্তারের বিরুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনায় স্থানীয় হাট কমিটির নেতা দাবিদার কয়েক মাতবব্ব মঙ্গলবার রাতে গোপন সালিশের মাধ্যমে ওই শিক্ষকের কাছ থেকে এক লাখ ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। বিষয়টি এলাকায় তোলপাড়ের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, গত সোমবার দুপুরে স্কুলের টিফিনের সময় মাওলানা শিক্ষক সাত্তার স্কুল মাঠ সংলগ্ন তার বইয়ের দোকানে স্কুলের আয়া সাজেদার মাধ্যমে সপ্তম শ্রেণীর ওই ছাত্রীকে ডেকে নেয়। এ সময় বৃষ্টি হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে শিক্ষক সাত্তার দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করে দিয়ে ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানি ঘটায়। বাড়ি গিয়ে ওই ছাত্রী তার অভিভাবকদের ঘটনার বিষয়ে জানালে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর থেকে ওই শিক্ষার্থী স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।
এদিকে হাট কমিটির নেতা পরিচয়ে স্থানীয় যুবলীগ নেতা আবুল কালাম আজাদ রাজা ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল মণ্ডলের নেতৃত্বে কয়েক মাতব্বর মঙ্গলবার রাতে গোপন সালিশের মাধ্যমে লম্পট শিক্ষক আব্দুস সাত্তারের কাছ থেকে এক লাখ ৬৫ হাজার টাকা আদায় করে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। বৈঠকে স্কুল কমিটির সভাপতি লুত্ফর রহমানসহ কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয লোকজন জানান, ওই স্কুলের শিক্ষক আব্দুস সাত্তারসহ আরও ২ শিক্ষক বিগত দিনে ৩ এসএসসি পরীক্ষার্থীর শ্লীলতাহানি করেছিল। এলাকাবাসী তাদের স্কুল থেকে অপসারণ দাবি করলেও অজ্ঞাত খুঁটির জোরে তারা এখনও বহালতবিয়তে রয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি লুত্ফর রহমান সালিশে উপস্থিত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তিনি লোকমুখে শুনেছেন। তবে তার কাছে কেউ অভিযোগ করেননি।
প্রধান শিক্ষক আরজাদ আলী জানান, ঘটনাটি স্কুলের ভেতরে নয়, বাইরে ঘটে থাকতে পারে। সালিশের বিষয়টি অবগত নন বলে তিনি দাবি করেন।
সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান জালাল হোসেন জানান, বিষয়টি লোকমুখে ছড়িয়ে পড়লেও তাকে অবহিত করা হয়নি। এমন ন্যক্কারজনক ঘটনায় অভিভাবকরা মেয়েদের স্কুলে পাঠানোর ব্যাপারে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
রাজশাহীতে মাদরাসা ছাত্রী অপহরণের শিকার : রাজশাহী মহানগরীতে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া এক মাদরাসার ছাত্রী অপহরণের শিকার হয়েছে। গত মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে নগরীর নওদাপাড়া এলাকায় এ অপহরণের ঘটনা ঘটে। অপহৃত ওই ছাত্রীর নাম হালিমা খাতুন।
সে বগুড়ার সোনাতলা থানার হরিখালি গ্রামের আবদুল্লাহের মেয়ে। হালিমা খাতুন নওদাপাড়ার আল সালাফিয়া মহিলা মাদরাসার ছাত্রী। এ ঘটনায় হালিমা খাতুনের মামাতো ভাই জোবাইদুর রহমান বাদী হয়ে মঙ্গরবার রাতে নগরীর শাহ মখদুম থানায় একটি অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগকারী জোবাইদুর রহমান জানান, হালিমা খাতুন মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল এলাকায় বাস থেকে নামে। সেখান থেকে রিকশাযোগ মাদরাসা যাওয়ার পথে হালিমা অপহরণের শিকার হয়।
তিনি আরও জানান, হালিমা খাতুনের কাছে একটি মোবাইল ছিল। বাস থেকে নেমে মাদরাসায় না পৌঁছলে তিনি বেলা আড়াইটার দিকে হালিমার নাম্বরে ফোন দেন। এ সময় এক নারীর কণ্ঠ ফোনে তিনি শুনতে পান।
পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হালিমার নম্বরের ফোন দিলে হালিমাকে ফোনে পাওয়া যায়। এ সময় হালিমা জানায়, তাকে একটি ঘরে কে বা কারা আটকে রেখেছে। তবে সে তার অবস্থান বলতে পারেনি। এরপর থেকে ওই নম্বরটি বন্ধ করে দেয়া হয়।
এ বিষয়ে শাহ মখদুম থানার ডিউটি অফিসার সহকারী উপ-পরিদর্শক আতিক জানান, হালিমাকে উদ্ধার করার জন্য জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
গৌরীপুরে স্কুলছাত্রী অপহরণের ঘটনায় ২ জনের জেল : প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় নবম শ্রেণীর ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে দু’জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। এ ঘটনায় অপহৃতা ছাত্রীর বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলা করায় আটক বাবুল মিয়া ও আজিজুল হককে মঙ্গলবার জেলহাজতে পাঠিয়েছে গৌরীপুর থানা পুলিশ।
অপহৃতার বাবা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের চড়াকোনা গ্রামের মো. জমশেদ আলীর ছেলে মো. আবুল কালাম দীর্ঘদিন যাবত ড. এমআর করিম উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। দফায় দফায় দেয়া তার এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় গত সোমবার সকালে প্রেমিক আবুল কালাম তার বড়ভাই আজিজুল হকের সহযোগিতায় এক ভাড়াটে মোটরবাইক নিয়ে বাড়ির সামনে থেকে ওই মেয়েকে জোর করে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় অপহৃতার আত্মীয়স্বজনসহ এলাকাবাসী অপহরণে সহযোগিতা করার দায়ে মোটরবাইক চালক মো. বাবুল মিয়া ও অপহরণকারী কালামের বড়ভাই মো. আজিজুল হককে আটক করে গৌরীপুর থানা পুলিশে সোপর্দ করে।
অপহৃতার চাচা মো. দুলাল মিয়া জানান, গত সোমবার সকালে মেয়েটিকে অপহরণ করা হলেও ওইদিন সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে মেয়ের পরিবার মেয়েটিকে উদ্ধার করেছে।

শেয়ার করুন