আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণই নড়তে বাধ্য করবে : খালেদা

0
46
Print Friendly, PDF & Email

বিএনপি দাবি করলেও সংবিধান থেকে এক চুলও নড়া হবে না বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বক্তব্য রেখেছেন তার জবাবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, জনমতের কারণে ওনাকে (শেখ হাসিনাকে) পুরোটাই নড়তে হবে। স্বেচ্ছায় না নড়লে আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণই তাকে নড়তে বাধ্য করবে। গতকাল বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে ১৮ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে এ কথা জানান জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান। প্রধান বলেন, প্রথম পর্যায়ে জোটনেতা ঢাকার বাইরে কয়েকটি বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করবেন। পরে পর্যায়ক্রমে হরতাল-অবরোধসহ অন্যান্য কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবে ১৮ দলীয় জোট। আজ দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জোটের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। অন্য সূত্র জানায়, বৈঠকে খালেদা জিয়া বলেছেন, এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে কোনো অবস্থাতেই ১৮ দলীয় জোট অংশ নেবে না। তিনি জোটের শরিক দলগুলোকে সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে আহ্বান জানান। গতকাল রাত সোয়া ৯টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়ে শেষ হয় রাত ১১টায়। খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে ১৮ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জোট নেতাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আবদুল হালিম, ইসলামী ঐক্যজোটের আবদুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিসের মজিবুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির আন্দালিব রহমান পার্থ, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির রেদোয়ান আহমেদ, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জাগপার শফিউল আলম প্রধান, এনপিপির শেখ শওকত হোসেন নীলু, এনডিপির খন্দকার গোলাম মূর্তজা, লেবার পার্টি মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামী পার্টির আবদুল মবিন, ন্যাপের জেবেল রহমান গানি, ন্যাপ ভাসানীর শেখ আনোয়ারুল হক, মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান খান, পিপলস লীগে গরীবে নেওয়াজ, জমিয়তে ওলামা ইসলামের মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, ডেমোক্র্যাটিক লীগের সাইফুদ্দিন মনিও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
‘বর্তমান সংবিধানে নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি’ : সংবিধান থেকে সরকার এক চুলও নড়বে না-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপি এক তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হলে বিএনপি তাতে অংশ নেবে না। তারা একই সঙ্গে সরকারকে সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় অন্তর্বর্তী সরকারের বিধান সংযুক্ত করারও আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত এক তাত্ক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন এবং ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গতকাল বিকেলে গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনের আগে সংবিধানে কোনো সংশোধন হবে না। জনগণের ভোট নিয়ে সংবিধান সংশোধন করেছি। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। এক চুলও নড়া হবে না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে হতাশা প্রকাশ করে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ঘোষণা রাজনৈতিক সঙ্কট আরও ঘনীভূত করবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকারের ‘শুভবুদ্ধি’ হবে। বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, আজ সবাই আশা করেছিল, বিদ্যমান সঙ্কট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী জাতিকে পথ দেখাবেন, দিকনির্দেশনা দেবেন। কিন্তু জাতি হতাশ হয়েছে। তার বক্তব্যে সঙ্কট আরও ঘনীভূত হয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের উচিত সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে সঙ্কট নিরসনে উদ্যোগী হওয়া, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করা।
প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের ফিরিস্তিকে ‘দুর্নীতির ফিরিস্তি’ দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান না করে উন্নয়নের ফিরিস্তি দিয়ে জনগণের মন জয় করা যায় না। পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খান ও আশির দশকে এরশাদ উন্নয়ন করলেও গণঅভ্যুত্থানে তাদের পতন হয়েছিল।

শেয়ার করুন