নির্বাচন সংবিধানমতো: প্রধানমন্ত্রী

0
34
Print Friendly, PDF & Email

সংবিধান অনুযায়ী দেশ চলছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ীই।নির্বাচন সংবিধানমতো: প্রধানমন্ত্রী
রোববার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি-সমকাল
 
রোববার বিকেলে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেল ৪টার দিকে শুরু হওয়া এক ঘণ্টার এ সংবাদ সম্মেলন টেলিভিশন ও বেতারে সম্প্রচারিত হয়।
 
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরের সময়টুকু বাংলাদেশের জন্য ‘স্বর্ণযুগ’ ছিল বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ সব ক্ষেত্রে উন্নয়ন করেছে।
তখন বাংলাদেশ নানা ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “ওই সময় বাংলাদেশের জন্য স্বর্ণযুগ ছিল।”
 
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ক্ষমতায় ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল সেনাসদস্যের হাতে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ।
 
পরবর্তীতে ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট। ২০০১ পরবর্তী বিএনপি জোট আমলে বাংলাদেশের কোনো ক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
 
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী বর্তমান সরকারের মেয়াদের শেষ ৯০ দিনে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের’ অধীনে আগামী নির্বাচন হওয়ার কথা। ২০১১ সালে উচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার পর সংবিধানে এই সংশোধনী আনা হয়।
 
তবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ‘নির্দলীয় সরকারের’ অধীনে আগামী নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়ে আসছে। দলটি বলছে, ‘নির্দলীয় সরকার’ ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না এবং নির্বাচন হতে দেবে না।
 
এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা তার সরকারের বর্তমান মেয়াদে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের জয়ী হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পাঁচ হাজার সাতশ ৬৩টি নির্বাচনে ৬৩ হাজার নয়শ ৪১ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন।
 
সাম্প্রতিক সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু না হয়ে থাকলে আপনারা পদত্যাগ করুন।”
 
গত দু’মাসে পাঁচটি সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে নির্বাচনে সবগুলোতেই বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হন।
 
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী চলতি বছরের ২৬ অক্টোবর থেকে আগামী বছরের ২৪ জানুয়ারির মধ্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।
 
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা এর আগে এক ঘোষণায় বলেছেন, চলতি নবম সংসদ আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত হবে। এরপর সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে।
 
লোডশেডিং কিছুটা বাড়তে পারে
 
সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ খাত নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
 
তার নির্দেশে প্রতিদিন দু’বার করে লোডশেডিং হচ্ছে- এই বিষয়টি ‘স্মরণ করিয়ে’ দিয়ে হাসিনা বলেন, মানুষ যেন ভুলে না যায় এজন্য আগামীতে লোডশেডিং আর একটু বাড়ানো হতে পারে।
 
বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা গ্রহণের সময় বিদ্যুৎ চাহিদা নিয়ে হাহাকার ছিল বলে এসময় উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
 
তিনি বলেন, “দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিদ্যুৎ নিয়ে যে হাহাকার ছিল তার সমাধান করা হয়েছে। এতে লোডশেডিং কমে গেছে।”
 
“এখন আমার নির্দেশেই লোডশেডিং করা হচ্ছে যাতে মানুষ এ সমস্যার কথা ভুলে না যায়। আগামিতে লোডশেডিং কিছুটা বাড়তে পারে।”
 
মহাজোট সরকারের বর্তমান মেয়াদে ৮৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও এ সময় উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
 
গ্রামের মানুষের কর্মসংস্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ যারা শহরে বাস করছেন, তাদের অনেকেই গ্রাম থেকে কাজের লোক আনতে পারছেন না। তার কারণ আমরা গ্রামের লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি।”
 
এ সময় তিনি দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে ৯০৫ ডলার হয়েছে বলে জানান।
 
টেলিভিশন লাইসেন্স দেওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা আসার পর বেসরকারিভাবে টিভি লাইসেন্স দেওয়া শুরু করে। এরপর ২০০৯ দায়িত্ব নেওয়ার পর তা অব্যাহত রাখে। এখন গভীররাতে টকশোর নামে চলে ‘টককথা’।
 
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার সাংবাদিক হত্যার বিচার শুরু করেছে। সাংবাদিকদের বিপদে কেউ পাশে না থাকলেও আমি তাদের পাশে থাকি।”
 
তিনি সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণ ফান্ড গঠনের কথা জানান।
 
মোবাইল ফোন নিয়ে তিনি বলেন, “এক সময় মোবাইল ফোনের ব্যবসা ছিল বিএনপির এক মন্ত্রীর হাতে। ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে মোবাইল ফোনের ব্যবসা উন্মুক্ত করে দেয়। যা আজ থ্রিজি পর্যায়ে চলে গেছে।”
 
ঢাকার উন্নয়নে হাতিরঝিল ও ফ্লাইওভার নির্মাণের কথা বলে প্রধানমন্ত্রী বলেন,”আপনারা নিজেরাই চোখে দেখছেন সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। তারপরও বিরোধীদল তা স্বীকার করে না। তারা এতকিছুর পরও কোথায় ভুল হয়েছে কী না তা খোঁজার চেষ্টা করে।”
 
৫ মে হেফাজত ইসলামের অবরোধে শত শত কোরান শরীফ পোড়ানো হয়েছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিএনপি, জামায়াত ও হেফাজতকর্মীরা যা করেছে বিশ্বের কোথাও এ ধরণের ঘটনার নজির নেই। তারা ইসলামের ওপর সরাসরি আঘাত করেছে।”

শেয়ার করুন