গোলাম আযমের রায় নিয়ে এইচআরডব্লিউর প্রশ্ন

0
95
Print Friendly, PDF & Email

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন,  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যে আইনে বিচার চলছে তার ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে চাইলেও সরকার তা আমলে নেয়নি। যে রায় সরকার চেয়েছিল তা তারা পেয়েছে। কিন্তু সবার জন্য সুবিচার নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

গোলাম আযামের বিচার প্রক্রিয়ায় পাঁচটি বিষয়কে ‘ত্রুটি’ হিসাবে তুলে ধরে ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে পক্ষপাতেরও অভিযোগ আনা হয়েছে এইচআরডব্লিউর বিবৃতিতে।

‘বাংলাদেশ: অযম কনভিকশন বেইজড অন ফ্লড প্রোসিডিংস’ শীর্ষক ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গোলাম আযামের রায় দেয়ার আগে ট্রাইব্যুনাল নিজস্ব উদ্যোগে তদন্ত চালানোর যে কথা জানিয়েছে, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল তা পারে না। স্কাইপসহ ইন্টারনেটে প্রকাশিত কথোপকথন নিয়ে পক্ষপাতের যে অভিযোগ উঠেছে তার কোনো ব্যাখ্যা ট্রাইব্যুনাল দেয়নি। আসামিপক্ষের সাক্ষীদের আদালতে হাজির করতে ট্রাইব্যুনাল ব্যর্থ হয়েছে এং বিচারক প্যানেলেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

আর গোলাম আযমের রায়ে তাকে সন্দেহাতীতভাবে দোষী সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তথ্যপ্রমাণের অভাব ছিল বলেও এইচআরডব্লিউ মনে করে।      

অপরাধ বিবেচনায় সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়ার যোগ্য হলেও বয়স ও স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনায় গত ১৫ জুলাই গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর রায়ে বলেন, “তার যে  অপরাধ, এর সবগুলোই সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়ার যোগ্য। তবে গ্রেপ্তারের পর থেকেই তিনি বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ভর্তি আছেন। তার বয়স ও শরীরিক অবস্থা বিবেচনা করে এই সাজা দেয়া হয়েছে।

রায়ে গোলাম আযমকে সর্বোচ্চ শাস্তি না দেয়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চসহ বিভিন্ন সংগঠন এবং বাম ধারার রাজনৈতিক দলগুলো তীব্র হাতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় চালানো ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের পেছনে মূল ব্যক্তি হিসাবে গোলাম আযমের সর্বোচ্চ শান্তি না হওয়ায় জাতি অর্ধেক ন্যায়বিচার পেয়েছে।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হয়েছে। অন্যদিকে খালাস চেয়ে আপিল করেছে গোলাম আযমের আইনজীবীরাও।

আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলছেন, সকল আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বিচার কাজ চালানোর পরও এইচআরডব্লিও যে বিবৃতি দিয়েছে তা একটি স্বাধীন দেশের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের’ শামিল।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আমরা নিজেদের আইনে একটি অপরাধের বিচার করছি। এই বিচারের (গোলাম আযমের) একটা পর্যায় শেষ হয়েছে। এখন দ্বিতীয় পর্যায় চলছে। সেখানে ট্রাইব্যুনালের রায় পর্যালোচনা হবে। এই পরিস্থিতিতে এ ধরনের মন্তব্য করা যায় না। এর মাধ্যমে তারা (এইচ আরডব্লিউ) বিচারাধীন বিষয় প্রভাবিত করতে চাচ্ছেন।”

মানবাধিকার সংস্থাটির বক্তব্য বিবেচনায় নিয়ে আদালত চাইলে ‘অবমাননার’ অভিযোগ আনতে পারে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

এইচ আরডব্লিউর ব্র্যাড অ্যাডামস বিবৃতিতে বলেন, “আযমের বিচারের ক্ষেত্রে সমস্যা বহুমুখী। তবে সবগুলো বিষয় থেকে মাত্র একটি উপসংহারেই আসা যায়, আর তা হলো ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের প্রতি অনেক বেশি পক্ষপাতদুষ্ট। বিচার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়মও এক্ষেত্রে ঘটেছে।”

আইনমন্ত্রী বলেন, “আমাদের এই বিচার সকল আন্তর্জাতিক মান রক্ষা করেই করা হচ্ছে। যাদের বিচার এখানে হচ্ছে, তারা এতো সুবিধা পেয়েছেন যেটা অনেক বিচারের আসামিরা পাননি। মোট কথা এখানে স্বচ্ছতার কোনো অভাব ছিল না।”

“অপরাধের প্রমাণ পাওয়ার পর আদালত দণ্ড দিয়েছেন। এরপরও তারা সমালোচনা করছে। আদালত মনে করলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি।”

শেয়ার করুন