মিশরে রক্তক্ষয়ী সেনা অভিযানে নিহত ৯৫, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

0
63
Print Friendly, PDF & Email

মিশরের রাজধানী কায়রোসহ অন্যান্য শহরে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি সমর্থকদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ৯৫ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে থাকায় একমাসের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সরকার। দমনাভিযানের প্রতিবাদে অন্তর্বর্তী ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মোহাম্মদ এল বারাদি।

কায়রোর উত্তরপূর্বে বুধবার রাবা আল-আদাওয়িয়া মসজিদে মুরসিপন্থিদের প্রধান বিক্ষোভ শিবির ঘিরে বুলডোজার দিয়ে অভিযান চালায় নিরাপত্তা বাহিনী।

রয়টার্সের এক সাংবাদিক মসজিদের কাছে হাসপাতালের একটি মর্গে ২৯ টি মৃতদেহ গুনেছেন বলে জানিয়েছেন। এর মধ্যে ১২ বছর বয়সের এক শিশুও ছিল। বেশিরভাগই মারা গেছে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে।

একই হাসপাতালের এক নার্স ৬০ টি মৃতদেহ গুনে দেখার কথা জানানোর পাশাপাশি মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনাস্থলে অন্তত ৪০ টি মৃতদেহ দেখতে পাওয়ার কথা জানায়। তবে মুরসির দল মুসলিম ব্রাদারহুড নিহতের সংখ্যা কয়েকশ বলে দাবি করেছে।

নাহদা স্কয়ারে মুরসিপন্থিদের আরেকটি বিক্ষোভ শিবিরও অভিযান চালিয়ে খালি করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। অভিযান শুরুর পর সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর বাইরের কয়েকটি শহরেও।

উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলের মিনা, আসিয়ুত, অ্যালেক্সান্দ্রিয়া সুয়েজ, কায়রোর দক্ষিণে ফায়ুম, বুহাইরা এবং বেনি সুয়েফ প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে মুরসি সমর্থকদের সংঘর্ষে সব মিলিয়ে পুলিশ ও বেসামরিক নাগরিকসহ ৯৫ জন নিহত হয়েছে বলে জানায় স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়।

অন্য কয়েকটি সূত্র ফায়ুম প্রদেশে অন্তত ১৭ জন এবং সুয়েজ এ ৫ জন নিহত হওয়ার কথা জানায়। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়তে থাকায় বুধবার বিকাল থেকে একমাসের জরুরি অবস্থা জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

নিরাপত্তা বাহিনীর প্রাথমিক অভিযানের ৯ ঘণ্টা পরও বিক্ষোভকারীরা জায়গায় জায়গায় রাস্তা অবরোধ করছে, স্লোগান দিয়ে পতাকা ওড়াচ্ছে। তাদেরকে নতুন করে জমায়েত হতে দিচ্ছে না নিরাপত্তা বাহিনী।

মুরসিপন্থীদের দুটো ক্যাম্প উৎখাত অভিযানে ঠিক কতজন নিহত হয়েছে তা পরিস্কার জানা যায়নি। নিহতের সংখ্যার ব্যাপক তারতম্য রয়েছে এবং নিরপেক্ষ সূত্রে মৃতের সংখ্যা যাচাই করা যায়নি।
পশ্চিমা সাংবাদিকরা রাবা আল-আদাওয়িয়া মসজিদের বিক্ষোভ শিবিরের কাছে অস্থায়ী একটি মর্গে ৪০ টি মৃতদেহ দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ওদিকে, মুসলিম ব্রাদারহুডের ওয়েবসাইট ইখওয়ানুল অনলাইনে সেনা অভিযানে ৮শ’রও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সংঘর্ষে নিহত হয় ব্রাদারহুডের নেতা মোহাম্মদ এল-বেলতাগির ১৭ বছর বয়সী মেয়ে।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে কোনো মানুষ মারা যাওয়ার কথা অস্বীকার করেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন মিশরে সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নও মিশর কর্তৃপক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

পুলিশ সোমবার ভোর থেকেই উচ্ছেদ অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয়। কিন্তু এর বিরুদ্ধে দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দেয় আন্দোলনকারীরা। এতে সাময়িক পিছু হটে অভিযান বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তারপরই বুধবার দিনের প্রথমভাগে অভিযান শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী।

মুরসির ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন সহিংসতা ও নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে মিশরজুড়ে ৩শ’রও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

শেয়ার করুন