আন্দোলনে শরিকদের পাশে পাচ্ছে না জামায়াত

0
159
Print Friendly, PDF & Email

রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণার পরও ১৮-দলীয় জোটের শরিকদের সরাসরি পাশে পাচ্ছে না জামায়াতে ইসলামী। তবে এই ইস্যুতে বিএনপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ‘যুগপত্’ আন্দোলনে থাকবে। বিএনপির কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা প্রথম আলোকে এ কথা জানিয়েছেন।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াত। বিএনপির প্রধান মিত্র মনে করা হয় স্বাধীনতাবিরোধী এই দলটিকে।
নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণার পর এর প্রতিবাদে ১৩ ও ১৪ আগস্ট সারা দেশে হরতাল ডেকেছে জামায়াত। এরপর আরও কর্মসূচি দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের একজন সদস্য বলেছেন, চেম্বার জজ তাঁদের আপিল খারিজ করেছেন। এখন আপিল বিভাগে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করার আপিল করতে এক মাসের মতো সময় লাগবে। এ অবস্থায় কঠোর আন্দোলন ছাড়া তাঁদের সামনে কোনো পথ খোলা নেই।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ প্রথম আলোকে বলেন, জামায়াত যে সংকটে পড়েছে, সেটা বিচারিক ব্যবস্থা। এ নিয়ে প্রতিবাদের কী থাকতে পারে? আইনগতভাবেই বিষয়টির মোকাবিলা করতে হবে। ১৮ দলের শরিক হিসেবে জামায়াত বিএনপির সহায়তা চেয়েছে। তিনি বলেন, ‘দলীয় চেয়ারপারসন এলে সিদ্ধান্ত হবে। এখন ব্যক্তিগত মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই।’
বিএনপির নেতারা বলেন, গত বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পরের দিন জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ফোন করেন। জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণার পর বিএনপির নীরবতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মকবুল আহমাদ। টেলিফোনে মকবুল আহমাদ বলেন, জোটের শরিক হিসেবে দলের এমন সময়ে তাঁরা বিএনপির কাছ থেকে সহায়তা আশা করেন। মির্জা ফখরুল বিষয়টি নিয়ে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলবেন বলে ওই দিন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমিরকে আশ্বস্ত করেন।
সম্প্রতি ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতাদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের কথা হয়েছে। ঈদের পর নিবন্ধন বাতিলের প্রতিবাদে জামায়াতের কর্মসূচিতে ১৮-দলীয় জোটের সহায়তা কামনা করেন তাঁরা।
ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা বলেন, জামায়াতের নেতাদের তাঁরা বলেছেন, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাওয়া যায় না। এটা ১৮-দলীয় জোটের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের পর বিএনপি আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওই সময় জামায়াতও তাদের দাবিতে কর্মসূচি দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা জামায়াতকে বলেছি, আপনারা পৃথক কর্মসূচি দিন। ১৮-দলীয় জোটের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে কর্মসূচি থাকবে। জামায়াত ও ১৮-দলীয় জোটের কর্মসূচি পাশাপাশি চললে আন্দোলন জোরদার হবে।

শেয়ার করুন