বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর বিয়ে, ছয়দিন পর তালাক

0
369
Print Friendly, PDF & Email

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের ছবুল্লা সিকদারেরডাঙ্গি গ্রামে এক দিনমজুরের মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চরহরিরামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কে এম ওবায়দুল বারী ওরফে দীপু খানের আপন ছোটভাই রাশেদুল বারী ওরফে টিয়ো খান এক সন্তানের জনক এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

এক পর্যায়ে ওই মেয়ে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে টিয়ো খান তাকে গত ২৩ জুলাই এফিডেভিট করে বিয়ে করে। ২৫ জুলাই জোরকরে মেয়েটির গর্ভপাত করা হয়। বিয়ের মাত্র ছয়দিন পর গত ২৯ জুলাই জোরপূর্বক একটি আপোসনামায় স্বাক্ষর করিয়ে ফের তাকে এফিডেভিটের মাধ্যমে খোলা তালাক দেয়।

অসময়ে গর্ভপাত করার কারণে অসুস্থ্য ওই মেয়েটি মঙ্গলবার গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সে টিয়ো খানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানাগেছে।

এ ব্যাপারে টিয়ো খান বলেন, ওই মেয়েটির সঙ্গে আমার তেমন কোনো সম্পর্ক ছিল না । সে অন্তঃসত্ত্বা প্রচার করে গ্রামের মাতুব্বরদের কাছে আমার নামে বদনাম করে। এক পর্যায়ে তাকে আমি বিয়ে করতে বাধ্য হই। বিয়ের পরে জানতে পারি ওই পরিবারের সব মেয়েরা খারাপ। তাই আমি তাকে তালাক দিয়েছি।

টিয়ো খানের ভাই ইউপি চেয়ারম্যান দীপু খান বলেন, বিয়ের ঘটনা পরিবারের জানা ছিল না। বিয়ের পর তাদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় টিয়ো তাকে তালাক এবং খোরপোষের ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ওই মেয়ে সাংবাদিকদের জানান, গত পাঁচ মাস আগে টিয়োর সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর থেকে  বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে টিয়ো তাকে ধর্ষণ করে।

এক পর্যায়ে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। তাকে বিয়ে করতে বললে  টিয়ো তাকে ওষুধ খাওয়ায়। পরে গত ২৩ জুলাই টিয়ো তাকে এফিডেভিট করে বিয়ে করে।

তিনি বলেন, এলাকার লোকজনের চাপে পড়ে টিয়ো তাকে বিয়ে করে।

কিন্তু বিয়ের মাত্র ছয়দিন পর ফের এফিডেভিট করে তাকে খোলা তালাক দেয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে ওই মেয়েটি জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি, ফরিদপুরের কাছে সহায়তার  চেয়েছে।

জাতীয় আইনজীবী সমিতি,ফরিদপুরের আইনজীবী শামসুন্নাহার নাঈম জানান, টিয়ো প্রভাবশালী হওয়ায় শুরু থেকেই মেয়েটির প্রতি সে জবরদস্তি করেছে । প্রথমে সে জোর করে তাকে ধর্ষণ করে। পরে বিয়ে করতে বাধ্য করে। ফের তাকে তালাক দিয়েছে। কোনো খোরপোষের টাকা দেয়নি।

তিনি বলেন, ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত করতে বাধ্য করায় মেয়েটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। আমরা তার পক্ষে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

শেয়ার করুন