জয়কে ‘পরিশীলিত’ ভাষা চর্চার আহ্বান ফখরুলের

0
84
Print Friendly, PDF & Email

প্রধানমন্ত্রী তনয় সজীব ওয়াজেদ জয়কে ‘পরিশীলিত’ ভাষা চর্চা করে রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।

ফখরুল বলেন, “জয় একজন দ্বৈত নাগরিক। কিছুদিন হলো তিনি বাংলাদেশে এসেছেন। কতদিন এখানে থাকবেন, আমরা জানি না। তিনি আওয়ামী লীগের কোনো পদে আছেন তাও আমাদের জানা নেই।”

“আমরা চাই- জয় যদি দেশে রাজনীতি করতে চান, দয়া করে রাজনীতি অঙ্গনে পরিশীলিত ভাষা চর্চা করুন। দেশে আসার পর তিনি প্রথম দিন আগামী নির্বাচন নিয়ে তার দলের বিজয় সম্পর্কে যে তথ্য থাকার কথা বলেছেন, এতে জনগণের মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। সেই তথ্য কোথাকার?”

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে জয় ও মন্ত্রীদের কটূক্তির প্রতিবাদের এক সমাবেশের আয়োজন করে ‘নব্বয়ের ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য’ নেতারা।

কটূক্তি-অপপ্রচারে তারেকের জনপ্রিয়তা ঠেকানো যাবে না মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, “তারেক রহমান কখনো প্রতিপক্ষকে কটাক্ষ করে কথা বলেননি। তৃণমূল থেকে রাজনীতি করে তিনি আজ মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন।  তাই গালিগালাজ ও কটূক্তি করে তার জনপ্রিয়তা রোখা যাবে না।”

বিএনপিকে সুস্থধারার রাজনীতির বাহক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান এই রাজনীতির মাধ্যমে তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে দেশকে সামনের দিকে নিয়ে গেছেন। গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে বেগম খালেদা জিয়া পথে-প্রান্তরে ঘুরে চারণ কবির মতো গণতন্ত্র রক্ষার গান গেয়েছেন। সংবিধানে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার ছেলে তারেক রহমানও ওই পথ ধরে তৃণমূল থেকে রাজনীতি শুরু করেছেন।”

“আজ তাকে নিয়ে আওয়ামী লীগ মিথ্যাচার ও অপপ্রচার করছে। প্রধানমন্ত্রী ও তার পুত্র কটাক্ষ করে তার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছেন।”

২০০২ সালে সজীব ওয়াজেদ জয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরলে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ফুল পাঠিয়ে তাকে স্বাগত জানানো হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

নির্দলীয় সরকারের দাবি প্রসঙ্গে বিএনপি মুখপাত্র বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সংবিধানের বাইরে ওইরকম সরকার আসলে নাকি দেশে ১০ বছরেও নির্বাচন হবে না। আমরা স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, ১/১১ এর অসাংবিধানিক সরকারকে আমরা সমর্থন জানাইনি। আজকের প্রধানমন্ত্রী ওই সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে হাসিমুখে বলেছিলেন, তাদের আন্দোলনের ফসল ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনের সরকার।”

“আমরা ১/১১ এর মতো কোনো অসাংবিধানিক সরকার দেখতে চাই না।”

ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে বলব, বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হলে আগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট ছেড়ে দিয়ে আসুন।”

তারেক রহমানে নতুনধারার রাজনীতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “কিছুদিন আগে লন্ডনে একটি সভায় তিনি নতুনধারার রাজনীতির কথা বলেছেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিংবা তার পুত্র জয়কে কোনো গালমন্দ করেননি।  বিএনপি অসুস্থ ধারার রাজনীতি বিশ্বাস করে না।”

নব্বইয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি বর্তমানে বিএনপির সহ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, “ডা. মিলনসহ ছাত্রদের রক্তের বিনিময়ে স্বৈরশাসক এরশাদকে হটিয়ে আমরা নির্দলীয় সরকারের যে ধারণা প্রতিষ্ঠা করেছিলাম, তাকে বাতিল করেছে সরকার। আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে ওই নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা আবার পুনর্বহাল করব।”

সভাপতির বক্তব্যে ডাকসু’র সহসভাপতি ও দলের যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান বলেন, “যারা এদেশকে পরমুখাপেক্ষী ও আধিপত্যবাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়, তাদের কাছে বড় বাঁধা হচ্ছে- বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান। সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও কটূক্তি করছেন প্রধানমন্ত্রীসহ তার মন্ত্রীরা।”

তিনি বলেন, যতই তারেক রহমানের বিরোধিতা করুন, তারেক রহমান দেশে ফিরে আসবেই। তিনিই আগামীতে দলের নেতৃত্ব দেবেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন।

সভায় অন্যদের মধ্যে শামসুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, হাবিবুর রহমান হাবিব, ফজলুল হক মিলন,খায়রুল কবীর খোকন, নাজিম উদ্দিন আলম, কামরুজ্জামান রতন, সাইফুল আলম নিরব, আজিজুল বারী হেলাল, হেলেন জেরিন খান, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে ছাত্র দলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, বর্তমান সভাপতি আবুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিবসহ ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

শেয়ার করুন