সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড: আপিল শুনানি সেপ্টেম্বরে

0
65
Print Friendly, PDF & Email

একাত্তরে হত্যা ও ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিল আবেদনের শুনানি শুরু হবে ১৭ সেপ্টেম্বর।সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড: আপিল শুনানি সেপ্টেম্বরে
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।
 
মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এ দিন ঠিক করেন।
 
আসামিপক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যার্টনি জেনারেল এম কে রহমান।
 
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাঈদীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের ২০টি অভিযোগের মধ্যে দুটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। আরও ছয়টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলেও অন্য অভিযোগে ফাঁসির আদেশ হওয়ায় সেগুলোতে কোনো দণ্ড দেয়নি ট্রাইব্যুনাল।
 
এ রায়ের বিরুদ্ধে ২৮ মার্চ সাঈদী ও সরকারপক্ষ আলাদা দু’টি আপিল করেন। সাজা ঘোষিত না হওয়া ছয়টি অভিযোগে সাঈদীর শাস্তির আর্জি জানিয়েছে প্রসিকিউশন। এছাড়া ট্রাইব্যুনাল যে ১২টি অভিযোগ থেকে সাঈদীকে খালাস দিয়েছে, সেগুলোতেও আপিলে ‘পূর্ণ ন্যায়বিচার’ চাওয়া হয়।
 
অন্যদিকে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি ও দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেন সাঈদী।
 
গত ৩ এপ্রিল আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল আবেদনের সারসংক্ষেপ জমা দেন সরকারপক্ষ। ১৬ এপ্রিল সারসংক্ষেপ জমা দেন আসামিপক্ষ।
 
আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন- ১৯৭৩ এর বিধান অনুসারে, ৬০ দিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এর আগে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে এই বেঞ্চেই ট্রাইব্যুনাল-২ এর রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার আপিলের শুনানি হয়। মামলাটি এখন রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।
 
২০১০ সালে ট্রাইব্যুনাল গঠনের মধ্য দিয়ে বহু প্রতীক্ষিত যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথম রায়ে গত ২১ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন পলাতক আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির আদেশ হয়। ৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় রায়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুর কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল।
 
যুদ্ধাপরাধ মামলার তৃতীয় রায়ে সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। ওই রায়ের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা সহিংস বিক্ষোভ দেখায়। এতে সরকারি হিসেবে পুলিশসহ নিহত হন ৭০ জনেরও বেশি।
 
চতুর্থ রায়ে গত ৯ মে জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানকেও মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। কামারুজ্জামানের মামলাটিও আপিল পর্যায়ে রয়েছে।
 
আর গত ১৫ জুলাই জামায়াতের মুক্তিযুদ্ধকালীন আমির গোলাম আযমের ৯০ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ হয়। ১৭ জুলাই দেয়া ষষ্ঠ রায়ে দলের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকেও মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল।

শেয়ার করুন