সিসি ক্যামেরায় যুবলীগ নেতার খুনের দৃশ্য

0
64
Print Friendly, PDF & Email

যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন খান ওরফে মিল্কি গুলশানে শপার্স ওয়ার্ল্ডের সামনে গাড়ি থেকে নেমে সবেমাত্র দাঁড়িয়েছেন। হঠাৎ পেছন থেকে সাদা পাঞ্জাবি পরা ঘাতক ছুটে আসেন। ঘাতক বাঁ হাতে মুঠোফোন কানে দিয়ে কথা বলছিলেন আর ডানহাতে পিস্তল দিয়ে একের পর এক গুলি করে যাচ্ছিলেন। শপার্স ওয়ার্ল্ডের সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে এ দৃশ্য। র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ঘাতকের নাম জাহিদ সিদ্দিকী তারেক। রিয়াজের পরিবারের সদস্যরা জানান, তারেক নিহত রিয়াজের ছোটবেলার বন্ধু। তাঁরা দুজন একসঙ্গে বড় হয়েছেন মতিঝিলের এজিবি কলোনির বাসায়।
গতকাল সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে গুলশানের শপার্স ওয়ার্ল্ডের সামনে গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই গুলি করেন তারেক। এ সময় কালো রঙের পাঞ্জাবি পরা ছিলেন রিয়াজ। হেঁটে শপার্স ওয়ার্ল্ডে প্রবেশ পথের দিকে যাওয়ার পরপরই বাঁ কানে মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে রিয়াজের সামনে দাঁড়ান ওই ঘাতক, যাঁর মাথায় ছিল সাদা টুপি, গায়ে সাদা রঙের পাঞ্জাবি। রিয়াজের সঙ্গে কোনো কথাও বলেননি ঘাতক। মুঠোফোনে কথা বলতে বলতেই রিয়াজকে একের পর এক গুলি ছুড়তে থাকেন। গুলিবিদ্ধ রিয়াজের দেহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। গুলি করার দৃশ্য দেখেও রিয়াজকে বাঁচাতে বা ঘাতককে ধরতে আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন এগিয়ে যাননি। রিয়াজ মাটিতে পড়ার পরও দমে যাননি হত্যাকারীরা। বরং মৃত্যু নিশ্চিত করে লাল রঙের মোটর সাইকেলে চড়ে আরও একজন এগিয়ে যান রিয়াজের দিকে। মাটিতে পড়ে থাকা রিয়াজকে আরও কটি গুলি করেন। তবে একটি গুলি সাদা পাঞ্জাবি পরা প্রথম ঘাতকের শরীরে লেগে যায়। এরপর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে লাল রঙের ওই মোটরসাইকেলে উঠে বাধাহীনভাবে পালিয়ে যান ঘাতকেরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক আত্মীয় প্রথম আলো ডটকমকে জানান, ঈদ উপলক্ষে আগে কেনা বাচ্চাদের পোশাক বদলাতে গত রাতে শপার্স ওয়ার্ল্ডে গিয়েছিলেন রিয়াজ। সাগরের প্রাইভেট কারে চড়ে মোহাম্মদপুরে নিজ বাসা থেকে গুলশান যান রিয়াজ। সাগরকে তিনি ভাগনে বলে ডাকতেন।
র‌্যাব-১ এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আজ মঙ্গলবার ভোর দুইটা থেকে চারটা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিয়াজ হত্যার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁরা হলেন এইচ এম জাহিদ সিদ্দিকী তারেক (৩৫), তুহিনুর রহমান (২৫), সৈয়দ মোস্তফা আলী রুমি (৩৩), মোহাম্মদ রাসেদ মাহামুদ (২৫), সাইদুল ইসলাম নুরুজ্জামান (২২) ও মোহাম্মদ সুজন হাওলাদার (২২)। মূল আসামি জাহিদকে রাজধানীর উত্তরার ফরচুন হসপিটাল থেকে আটক করা হয়েছে।
র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার হাবিবুর রহমান বিকেলে প্রথম আলো ডটকমকে জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় প্রথম আলো ডটকমকে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, এখনো মামলা হয়নি। তবে মামলা হবে।’
এর আগে আজ সকালে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ কোনো কোন্দলের কথা আমার জানা নেই। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে। তারাই প্রকৃত ঘটনা উদ্ধার করবে। আমরা এখন শোকে মুহ্যমান। এ বিষয়ে পরে কথা বলব।’

শেয়ার করুন