নির্বাচন কমিশনের পাশে বিএনপি

0
75
Print Friendly, PDF & Email

নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে না রাখার বিষয়ে কমিশনের সুপারিশের সঙ্গে একমত প্রধান বিরোধীদল বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা আদালতের কাছে থাকা উচিত।
বিএনপির শঙ্কা, নির্বাচন কমিশনের কাছে এমন ক্ষমতা থাকলে তারা এটার অপব্যবহার করতে পারে। সে ক্ষেত্রে গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়েই বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ আইনের সংশোধনীতে কমিশনের হাতে থাকা এই বিধান বাতিলের সুপারিশ করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার এ কথা জানিয়েছেন কমিশনার শাহ নেওয়াজ। তিনি বলেন, প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা তারা আদালতের কাছেই থাকার পক্ষে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ আইন-আরপিওর ৯১-ই ধারায় বলা আছে, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বা থাকার অযোগ্য হতে পারেন। তবে তার আগে কমিশন অভিযুক্ত প্রার্থীকে শুনানির যুক্তিসঙ্গত কারণ দর্শানোর সুযোগ দিয়ে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেবে। তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে কমিশন সেই প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অন্য প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের পর যদি একজন প্রার্থী অবশিষ্ট থাকেন, তবে সেই আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য পুনরায় তফসিল ঘোষণা করা হবে।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ আইন সংশোধন করে এই বিধানটি রাখা হলেও এখনো এর প্রয়োগ করেনি নির্বাচন কমিশন। কমিশন মনে করছে, আগামী নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে হলে এবং ১৮ দলীয় জোটের কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে এই বিধানটি প্রয়োগ করা হলে সেটি বড় বিতর্ক তৈরি করবে। এ কারণে রোববার কমিশনের সভায় বিধানটি বাতিলের সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত হয়।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হুসাইন অবশ্য কমিশনের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে যেখানে আরো শক্তিশালী করা উচিত, সেখনে এই সিদ্ধান্ত কমিশনকে আরো দুর্বল করবে।
তবে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে খুশি বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ এ ব্যাপারে বলেন, প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের কাছে থাকা উচিত নয়। কারণ, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতমূলক একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের কাছে এই ক্ষমতা দেয়া হলে তারা অসততা করবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য এমকে আনোয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশনকে এ রকম ক্ষমতা দেয়া হলে তারা স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠবে। তারা একটি বিশেষ দলের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কাজ করবে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান বলেন, প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা একমাত্র আদালতের কাছে থাকা উচিত।

শেয়ার করুন