স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হারাল ইসি

0
91
Print Friendly, PDF & Email

রাজনৈতিক দলগুলোর সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা নিজেদের হাতে রাখছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) আরপিও ৯১(ই) ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে কমিশন। ফলে স্বেচ্ছায় ইসি এ ক্ষমতা হারাল বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা।

এদিকে এ ধারা বাতিল করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলছেন, প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা না থাকলে ইসি দুর্বল হয়ে পড়বে। ধারাটি বিলুপ্তির সিদ্ধান্তকে অবিশ্বাস্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা ইসির কাছে থাকার পরও কমিশনের নির্দেশ প্রার্থীরা মানতে চাইতেন না। সদ্য সমাপ্ত পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ব্যাপক হারে আচরণবিধি লঙ্ঘিত হলেও কমিশন ছিল নির্বিকার। সেখানে উল্টো কমিশনের নিজের ক্ষমতা খর্ব করার প্রস্তাবের বিষয়টি আশ্চর্যজনক। তবে আর্থিক ও কারাদণ্ডের বিধানই যথেষ্ট বলে মনে করছে বর্তমান কমিশন। আজ নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আরপিও ৯১(ই) ধারা বাতিলের বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। গতকাল নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের প্রতিপক্ষ নয়। তাদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনায় নিয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ আরপিও থেকে ৯১(ই) ধারাটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই-একদিনের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবটি পাঠানো হবে। কারও চাপে নয়, বরং নির্বাচনে দল ও প্রার্থীদের বৈষম্য দূর করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইসি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ধারা বাতিল করায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা কঠিন হবে। ইসির এ সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন বলেন, প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা ইসির কাছে না থাকলে ইসি দুর্বল হয়ে পড়বে। সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে খুশি করা ইসির কাজ নয়। নির্বাচনের অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশ এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাই তাদের কাজ। কোন উদ্দেশ্যে তারা এটি করছেন জানি না। তারা কীভাবে রাজনৈতিক দলের আচরণবিধি লঙ্ঘন মোকাবিলা করবেন? ২০০৮ সালে এ বিধান চালুর ফলে কমিশন নোটিস করার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থিরা দৌড়ে যেত। এর পর কমিশনের নোটিসের জবাব কোনো প্রার্থী আর দেবে না। শুধু আর্থিক দণ্ড দিয়ে তাদের আইন মানতে বাধ্য করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার কমিশনের এ সিদ্ধান্তকে অবিশ্বাস্য আখ্যায়িত করে বলেন, নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সব মহল থেকে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প হিসেবে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহারের চিন্তাভাবনা চলছে। ইসি সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, ২০০৮ সালে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. শামসুল হুদার সময়ে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে আরপিওতে এ বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তখন রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে বিরোধিতা করা হয়। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এলে সংসদে এ বিধান রেখে অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হয়। এর আগে সাবেক সিইসি বিচারপতি আবদুর রউফ এই বিধান চালুর উদ্যোগ নিয়েও রাজনৈতিক দলের বিরোধিতার মুখে বাস্তবায়ন করতে পারেননি। পরে সাবেক সিইসি এমএ সাঈদও এই বিধান চালুর উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হন। এদিকে জাতীয় নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন কার্যালয়ে জনবল নিয়োগ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং পদোন্নতির দাবি জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা। শেরেবাংলানগরে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ‘বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন সার্ভিসেস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভায় এ দাবি জানানো হয়। সভায় যুগ্ম-সচিব, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, উপসচিব, পরিচালক, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, উপ-পরিচালক ও সিনিয়র সহকারী সচিব পদে আটকে থাকা পদোন্নতি প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার ৫০ শতাংশ পদকে সিনিয়র উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা করারও দাবি জানানো হয়।

শেয়ার করুন