শুনানির দিন ধার্যে সাঈদীর মামলা কার্যতালিকায়

0
59
Print Friendly, PDF & Email

একাত্তরে খুন-ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিলের শুনানির দিন ধার্যের জন্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় এসেছে।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মঙ্গলবারের কার্যতালিকায় দেখা যায়, প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে দিনের তালিকার শীর্ষে রয়েছে জামায়াত নেতার আপিল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের নায়েবে আমির সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে ২০টি অভিযোগের মধ্যে ইব্রাহিম কুট্টি ও বিসাবালীকে হত্যা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি ঘরে আগুন দেয়ার দুটি অভিযোগে ফাঁসি দেয়া হয় রাজাকার সাঈদীকে।

আরো ছয়টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবেই আদালতে প্রমাণিত হলেও অন্য অভিযোগে ফাঁসির আদেশ যাওয়ায় সেগুলোতে কোনো দণ্ড দেয়নি আদালত।

এই ছয় অভিযোগে তার শাস্তি চেয়ে আপিল করে প্রসিকিউশন। এছাড়া ট্রাইব্যুনাল যে ১২টি অভিযোগ থেকে সাঈদীকে খালাস দিয়েছে, সেগুলোতেও আপিলে ‘পূর্ণ ন্যায়বিচার’ চাওয়া হয়।

অন্যদিকে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি ও দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেন সাঈদী।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে এই বেঞ্চেই আব্দুল কাদের মোল্লার মামলার শুনানি হয়েছিল। প্রথমদিকে এই বেঞ্চে বিচারপতি ছিদ্দিকুর রহমান মিয়াসহ মোট ছয় বিচারপতি ছিলেন। তিনি অবসরে যাওয়ার পর বর্তমানে এই বেঞ্চে ৫ বিচারপতি রয়েছেন।

ট্রাইব্যুনালের সংশোধিত আইনে ৬০ দিনের বিধান অনুযায়ী হলে তার অবসরের আগেই সাঈদীর আপিলের শুনানি শেষ হয়ে যেত।

২০১০ সালে ট্রাইব্যুনাল গঠনের মধ্য দিয়ে বহু প্রতীক্ষিত এই বিচার প্রক্রিয়া শুরুর পর সাঈদীর রায় ঘোষণার মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধের মামলার তৃতীয় রায় হয়।

সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা সহিংস বিক্ষোভ দেখায়। সরকারি হিসেবে এতে পুলিশসহ নিহত হয় ৬৭ জন।

এর আগে গত ২১ জানুয়ারি প্রথম রায়ে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির আদেশ হয়। মামলার পুরো প্রক্রিয়া চলাকালে পলাতক বাচ্চু রায়ের পরও আত্মসমর্পণ করেননি বা তিনি গ্রেপ্তার হননি। এ কারণে তার মামলাটি আপিল পর্যায়ে আসেনি।

৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় রায়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুর কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। এই মামলার উভয়পক্ষের আপিল শুনানি শেষ হয়ে রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

এরপর চতুর্থ রায়ে গত ৯ মে জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানকেও মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। কামারুজ্জামানের মামলাটিও আপিল পর্যায়ে রয়েছে।

আর গত ১৫ জুলাই গোলাম আযমের ৯০ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ হয়। ১৭ জুলাই দেয়া ষষ্ঠ রায়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মো. মুজাহিদের ফাঁসির আদেশ হয়।

শেয়ার করুন