পরিবর্তনের আলামত নেই আওয়ামী লীগে

0
56
Print Friendly, PDF & Email

আওয়ামী লীগের ‘দুর্গ’ খ্যাত গাজীপুরসহ পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর জোরালোভাবে দল ও মন্ত্রিসভার পরিবর্তনের কথা উঠলেও আপাতত তা হচ্ছে না। পরিবর্তন আসছে না সাধারণ সম্পাদক পদেও। বর্তমান দুর্বল ওয়ার্কিং কমিটি নিয়েই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট লড়াই করবে আওয়ামী লীগ। হচ্ছে না বিশেষ কাউন্সিলও। এমনকি মন্ত্রিসভাও রদবদল না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী কয়েকজন নেতা এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানায়, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে পরিবর্তন আনলে তা দলের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তা ছাড়া এর ফলে নেতৃত্বের বিভাজন, এলাকাভিত্তিক ক্ষোভ তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া শেষ মুহূর্তে মন্ত্রিসভার রদবদল করা হলে তাদের ব্যর্থতা স্বীকার করে নেওয়া হবে। এগুলো সরকারের ব্যর্থতা উল্লেখ করে বিরোধী দল প্রপাগান্ডা চালাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইমেজ সংকটের আশঙ্কায় দল ও মন্ত্রিসভায় কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।
গাজীপুরে পরাজয়ের পর দেশে ফিরেই কয়েক দফা দলের সিনিয়র নেতা এবং এক দফা উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব বৈঠকে দল ও সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা হয়। দলীয় দুর্বলতা, কেন্দ্রীয় নেতাদের চরম ব্যর্থতা, তৃণমূলের কোন্দল, এমপি-মন্ত্রীদের দূরত্ব, ত্যাগী নেতা-কর্মীদের ক্ষোভ, মন্ত্রিসভার কিছু সদস্যকেও এর জন্য দায়ী করা হয়। সেখান থেকে দল ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কিছু জায়গায় পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আসে। দলে প্রেসিডিয়ামের দুটি, বন ও পরিবেশ সম্পাদকের শূন্য পদটিও পূরণ করার তাগিদ আসে সেখান থেকে। সে সময় দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। দলীয় সভানেত্রী সৈয়দ আশরাফের পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করলেও সে সময় দলের জন্য একজন মুখপাত্র নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন অনেকেই। দলের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাপক হামিদা বানু সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তিনি সক্রিয় হচ্ছেন না। তার যে ভূমিকা রাখার কথা তাও রাখছেন না। তিনি (হামিদা বানু) রাজনীতিতে সক্রিয় ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্য থেকে একজনকে দলের সাধারণ সম্পাদক করার দাবিও জানান। সিটি নির্বাচনের শোচনীয় পরাজয়ের পর দলের সাংগঠনিক ব্যর্থতা ও জাতীয় ইস্যুগুলোকে দায়ী করা হচ্ছিল। যে কারণে দলের পুনর্গঠনের চিন্তাও করছিল আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক মহল। অন্যদিকে মন্ত্রিসভায় অতিকথনপ্রিয় বেশ কিছু মন্ত্রী রয়েছেন, যাদের কারণে নন ইস্যুও বিরোধী দল ইস্যু হিসেবে কাজে লাগিয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে সরকারের কর্মকাণ্ড। তাদের মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার বা দফতর বদলের কথা ওঠে। কিন্তু জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দল ও মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেও এ মুহূর্তে কোনো ঝুঁকি নেবে না আওয়ামী লীগ। তবে শীঘ্রই দলের উপ-কমিটির বাকি নামগুলো ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সরকারের শেষ সময়ে দল ও মন্ত্রিসভার কোনো পরিবর্তন করা হচ্ছে না। তবে পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের সময়টাকে কাজে লাগানো হবে। দলীয় সূত্র জানায়, তৃণমূলকে চাঙ্গা করতে এবং সরকারের সাড়ে চার বছরের সাফল্যগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে প্রচারণায় নামবে আওয়ামী লীগ। দলের সম্পাদকীয় কয়েকটি পদে রদবদল এবং শূন্যপদগুলো পূরণ করার আভাস ঈদের পরে ছিল। কিন্তু সে আলামত দেখা যাচ্ছে না। বরং কেন্দ্রীয় কমিটি এবং উপদেষ্টাদের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করে সারা দেশ চষে বেড়ানো হবে। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় এমপি-মন্ত্রীদের দ্বন্দ্ব নিরসন, সরকারের বিভিন্ন সাফল্য জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। সেই সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত-হেফাজতের সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জবাব দেওয়া এবং বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সন্ত্রাস, দুর্নীতি, লুটপাটের চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এক প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, সাড়ে চার বছরে সরকারের অভাবনীয় সাফল্য রয়েছে। কিন্তু কিছু মন্ত্রীর অতিকথন নন-ইস্যুকে ইস্যু বানিয়ে দিয়েছে বিরোধী দলের হাতে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল হিসেবে সরকারের সাফল্যগুলো আমরা জনগণের সামনে তুলে ধরতে যেমন পারিনি, তেমনি তৃণমূলেও সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে ব্যর্থ হয়েছি। মন্ত্রিসভার রদবদল ও দলের পরিবর্তনের দাবি উঠলেও নির্বাচনের শেষ সময়ে তা দলের জন্য ঝুঁকিকর এবং বিরোধী দলের হাতে আরেকটি ইস্যু তুলে দেওয়ার শামিল। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দল বা মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত নেই। আর এ রকম করার মতোও সময় হাতে নেই। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, এ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের উচিত জাতীয় নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার নীতি নির্ধারণ করা। এ ছাড়া সিটি নির্বাচনের পরাজয়ের কারণগুলো চিহ্নিত করে সংশোধন হতে হবে। তৃণমূলকে চাঙ্গা করতে হবে।

শেয়ার করুন