প্রয়োজনে ‘লগি-বৈঠার’ চেয়েও কঠিন পদক্ষেপ: খোকা

0
59
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ২০০৬ সালে লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা করেছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় করতে প্রয়োজনে তার চেয়ে কঠিন পদক্ষেপ নিতে হবে।
আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক প্রতিবাদ সভায় খোকা এ কথা বলেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে ‘প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর ছেলের কটূক্তির’ প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর বিএনপি ওই সভার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের ক্ষমতায় থেকে নির্বাচনে প্রচারের সুযোগ রেখে সংশোধনী করা হলে বিএনপি তা মেনে নেবে না।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন নির্বাচন আচরণবিধি সংশোধনের একটি খসড়া তৈরি করেছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।
এর সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশন কোনো দলের সঙ্গে আলোচনা না করে নির্বাচনের আচরণবিধি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। বিএনপি তা মেনে নেবে না। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে ফখরুল বলেন, নিরপেক্ষ থেকে কাজ করতে পারলে তাদের বিষয়ে বিবেচনা করা হবে। নইলে কমিশন তাদের আসনে থাকতে পারবে না।

ফখরুল দাবি করেন, সরকার নিশ্চিত হয়েছে, জনগণের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা জনবিচ্ছিন্ন। এ জন্য দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে চাইছে। কিন্তু জনগণ রায় দিয়েছে, নির্দলীয় সরকার ছাড়া তারা কোনো নির্বাচন মেনে নেবে না। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেসামাল হয়ে গেছেন। তারেক রহমান ইতিবাচক রাজনীতি করেন, এ জন্য প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ তাঁকে ভয় পায় বলে দাবি করেন ফখরুল।

সম্প্রতি যুবলীগের ইফতারে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্যের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ। সেদিন জয় বলেছিলেন, তাঁর কাছে তথ্য আছে, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবেই।

তাঁর ওই বক্তব্যের উল্লেখ করে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘মায়ের মনের কথা পুত্র বলেছেন। সেটা হলো নীলনকশার নির্বাচন। তাঁরা ভোটারবিহীন নির্বাচন করতে চায়।’

মওদুদ বলেন, পাঁচ সিটিতে পরাজয়ের পরও মানুষ কী চায়—আওয়ামী লীগ তা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। অথবা বুঝেও সংঘাতের পথে এগিয়ে চলছে।

সভাপতির বক্তব্যে সাদেক হোসেন খোকা বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচন নিয়ে যে চক্রান্ত করছে, প্রধানমন্ত্রীর ছেলের বক্তব্যে তা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়। আওয়ামী লীগ নিজেদের অধীনে নির্বাচন করলে বিএনপি তাতে অংশ নেবে না। নীরব দর্শকও হয়ে থাকবে না। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গ্রামে-গঞ্জে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, যুগ্ম মহাসচিব বরকতউল্লাহ, রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

শেয়ার করুন