ব্রিটিশ আমলের আইন সংস্কারের সুপারিশ

0
103
Print Friendly, PDF & Email

দণ্ডবিধি, ফৌজদারি, দেওয়ানি কার্যবিধিসহ ব্রিটিশ আমলে প্রণীত আইন সংস্কারের সুপারিশ করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

কমিটির সুপারিশের সঙ্গে একমত পোষণ করে আইন কমিশনের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক বলেছেন, “ব্রিটিশ আমলের আইন দিয়ে বাংলাদেশ চলতে পারে না।”

রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির ৬৪তম বৈঠকে আইন সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা হয়। আইন কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হওয়ার পর এটাই সংসদীয় কমিটির সঙ্গে খায়রুল হকের এটাই প্রথম বৈঠক।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি মো. ফজলে রাব্বি মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, “আইন কমিশনের চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে বলেছেন, ১৮৬১ সালের আইন দিয়ে বাংলাদেশ চলতে পারে না। পুরনো সব আইনের সংস্কার প্রয়োজন।”

এক প্রশ্নের জবাবে সভাপতি বলেন, “বাংলাদেশে ১২শ’র বেশি আইন প্রচলিত আছে। আমাদের দণ্ডবিধি, ফৌজদারি ও দেওয়ানি কার্যবিধিসহ অনেক আইনেরই সংস্কার প্রয়োজন। ১৯৯৬ সালে আইন কমিশনের কার্যক্রম শুরু হলেও এ কমিশন যথাযথভাবে তার কাজ করেনি। এজন্য কমিটি আইন কমিশনকে প্রচলিত আইনের সংষ্কার দ্রুত শুরু করতে বলেছে।”

 

বিরোধী দল ছাড়াই বসতে যাচ্ছে সংসদ
বিরোধী দল ছাড়াই বসতে যাচ্ছে সংসদ
বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনা করে নতুন আইন প্রণয়নেও আইন কমিশনকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে বলে জানান অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া।

অচল আইন বাতিল, প্রচলিত অন্যান্য আইন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যুগোপযোগী সংস্কার অথবা ক্ষেত্রমত নতুন আইন প্রণয়ন করার উদ্দেশ্যে সরকারের কাছে সুপারিশ রাখতে ১৯৯৬ সালে আইন কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়।

সংসদীয় কমিটির কার্যপত্রে দেখা যায়, আইন কমিশনের সুপারিশে এখন পর্যন্ত ১৯টি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইবুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০০৯, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন-২০১২, অর্থ ঋণ আদালত আইন-২০০১, তথ্য অধিকার আইন-২০০৯।

বৈঠকে মামলার জট কমিয়ে আনতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারক নিয়োগেরও সুপারিশ করা হয়।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, অবকাঠামোর সমস্যার কারণে মামলা জট থেকে যাচ্ছে। এ বিষয়ে বর্তমান সরকার শুরু থেকে কাজ করছে। ৩৯টি জেলায় ১২তলা আদালত ভবন নির্মান করা হয়েছে। বাকিগুলোর কাজ চলছে। ৩শ’র বেশি বিচারক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য মো. রহমত আলী, খান টিপু সুলতান, মো. নূরুল ইসলাম সুজন ও শেখ ফজলে নূর তাপস। বিশেষ আমন্ত্রণে আইনমন্ত্রী বৈঠকে অংশ নেন।

আইন কমিশনের চেয়ারম্যান খায়রুল হক, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন