তারেক ফিরলে আ. লীগ ভেসে যাবে: ফখরুল

0
64
Print Friendly, PDF & Email

খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানকে নিয়ে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্যের প্রতিবাদে সভা করেছে বিএনপি।

জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে রোববার অনুষ্ঠিত ওই সভায় দলের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “ক্ষমতাসীনরা যত অপপ্রচার করুক না কেন, কোনো লাভ হবে না। তিনি (তারেক) দেশে ফিরলে গণজোয়ারে খড়কুটোর মতো আওয়ামী লীগ ভেসে যাবে।”

প্রধানমন্ত্রীর ছেলে গত সপ্তাহে যুবলীগের এক ইফতার অনুষ্ঠানে ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলার বিষয় ধরে বলেছিলেন, “আমার মাকে হত্যার জন্য তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছিলেন।”

২০০৪ সালের ২১ অগাস্টের হামলার ওই মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্রে খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ছেলের ওই বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা অপপ্রচার’ দাবি করে প্রেসক্লাবে প্রতিবাদ সভা ডাকে ঢাকা মহানগর বিএনপি।

সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকতউল্লাহ বুলু বলেন, “তারেক রহমান ইনশাল্লাহ শিগগিরই সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসবেন। সেদিন বাংলাদেশের চেহারাই পাল্টে যাবে। বিমানবন্দরে লাখ লাখ মানুষ তাকে অভ্যর্থনা জানাবে।”

যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘‘ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সজীব ওয়াজেদ জয় দেশে আসতে পারবেন, আর তারেক রহমান আসতে পারবেন না, তা জাতীয়তাবাদী দলের নেতা-কর্মীরা মেনে নেবে না।”

সভার সভাপতি সাদেক হোসেন খোকা বলেন, ‘‘ তারেক রহমান সময়মতোই দেশে ফিরবেন। তার আগমনের অপেক্ষায় মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে।”

সভায় বক্তব্যে বিএনপির সব নেতা দলের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেকের প্রশংসা করেন। কর্মীরাও বৃষ্টির মধ্যে মিলনায়তনের বাইরে প্রাঙ্গণের বসেই বক্তব্য শোনেনও স্লোগান দেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “তারেক রহমানের পরিচয় কেবল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র- এটাই নয়। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতা ইতিবাচক রাজনীতি করেন।

“লন্ডনে সম্প্রতি এক সভায় তারেক রহমান ভবিষ্যতে কিভাবে দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাবেন, তার একটি রূপরেখাও তুলে ধরেছেন।”

২১ অগাস্টের ঘটনায় তারেক রহমানকে জড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী ও তার ছেলের বক্তব্য ‘আদালত অবমাননার’ শামিল বলেও দাবি করেন বিএনপির মুখপাত্র।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, “তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করার কোনো মামলাই সরকার প্রমাণ করতে পারেনি। এখন তারা তার চরিত্রহননের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তবে তাতে কোনো লাভ হবে না “

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, “তিনি (তারেক) তিনি পরিপূর্ণভাবে একজন রাজনীতিবিদের সন্তান। তার মুখ দিয়ে কখনো খারাপ ভাষা আসে না। আর যারা বিদেশি শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিত দাবি করেন, তাদের মুখে মিথ্যাচার ও অর্বাচীন বক্তব্য প্রকাশ পাচ্ছে।”

সহসভাপতি খোকা আরো বলেন, “আমার কাছে তথ্য আছে আওয়ামী লীগই আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় যাবে-এই কথা বলে জয় আমাদের উপকার করেছেন। তারা যে আগামী নির্বাচন নিয়ে দুরভিসন্ধিমূলক কাজ করছে, তা আজ পরিষ্কার হয়ে গেছে। তাদের থলের বিড়াল বেরিয়ে গেছে।”

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রফিকুল ইসলাম মিয়া, আবদুস সালাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবীর খোকন, শামীমুর রহমান শামীম, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, শিরিন সুলতানা, হাবিবউন নবী খান সোহেল, মীর সরফত আলী সপু,  আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল প্রমুখ।

‘পলিটিক্যাল স্লোগান দাও’

তারেক রহমানকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের মন্তব্যের প্রতিবাদে সভায় সংগঠনের নামে স্লোগান শুনে অসন্তোষ ঝেড়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার প্রথম প্রহরে অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত ওই সভায় যান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। নবজাতক নাতনীকে দেখতে বিদেশ গিয়েছিলেন তিনি।

বৃষ্টির মধ্যেই সকাল সাড়ে ১১টায় এই সভা শুরু হয়। মহানগর বিএনপি ছাড়াও যুবদল, ছাত্রদল ও মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা বৃষ্টিতে ভিজেই এতে অংশ নেন।

সভা চলাকালে যুবদল ও ছাত্রদলের কর্মীরা কিছুক্ষণ পরপরই নিজ নিজ সংগঠনের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছিলেন।

বিষয়টি দেখে ফখরুল যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গীরকে ডেকে বলেন, “এভাবে স্লোগান দেয়া বন্ধ কর। পলিটিক্যাল স্লোগান দাও।

“আজকের সমাবেশটি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী ও তার ছেলের কটূক্তির প্রতিবাদে। এই বিষয়ে একটি স্লোগানও শুনলাম না। নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থার দাবি নিয়ে কোনো স্লোগানও নেই। এটা ঠিক নয়,” অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিএনপির মুখপাত্র।

‘মোরগ-পোলাওর টাকা কি পদ্মা সেতুর’

ছেলের জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মোরগ-পোলাও রান্না নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস।

শনিবার একমাত্র ছেলের জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রীর মোরগ-পোলাও রান্নার ছবি সজীব ওয়াজেদ জয় তার ফেইসবুক পাতায় তুললে তা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়।

জয় বলেন, তার মায়ের রান্না মোরগ-পোলাও তার সবচেয়ে প্রিয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস জাতীয় প্রেসক্লাবের সভায় এই বিষয়টি ধরে বলেন, “আজকের পত্রিকায় ছবি দেখলাম- প্রধানমন্ত্রী তার পুত্র জয়ের জন্মদিনে মোরগ-পোলাও রাঁধছেন। আমি জানতে চাই, মোরগ-পোলাওর টাকা কি পদ্মা সেতুর।”

প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ তোলার পর তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশে আলোচনা চলছে।

বিরোধী দলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা এই ‘দুর্নীতিতে’ জড়িত। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী এই অভিযোগ নাকচ করে বলছেন, এই প্রকল্পে কোনো দুর্নীতিই হয়নি।

শেয়ার করুন