গণমাধ্যম নীতিমালা থাকা ভীষণ দরকার: প্রধানমন্ত্রী

0
62
Print Friendly, PDF & Email

জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য ‘প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার’ নীতিমালা করার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠান শেখ হাসিনা বলেন, “সুষ্ঠু নীতিমালা থাকা দরকার। ভীষণ দরকার।”

এ প্রসঙ্গে বিবিসি ও সিএনএনের মতো প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ টানেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকার প্রধান বলেন, “সব দেশেই আছে, সিএনএন বিবিসি নীতিমালার ভিত্তিতে চলে… সুষ্ঠু নীতিমালা থাকা দরকার। নীতিমালা দ্রুত করা দরকার।”

এই অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে নিহত এবং অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূইয়া এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওমর ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

নীতিমালা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি অনেকদিন ধরে তথ্য মন্ত্রণালয়কে বলছি। তারা বলছে, ‘করছি করছি’। আমি তাদের বলব এটা করে ফেলার জন্য।”

সাংবাদিকতা ‘স্বাধীন পেশা’ হলেও সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাক স্বাধীনতার নামে অন্যায়ভাবে অন্যের চরিত্রহনন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ পরিবেশন, গোষ্ঠী স্বার্থে অসত্য প্রচারের মতো বিষয়গুলো সুস্থ স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।

তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে ‘তথ্য অধিকার আইন ২০০৯’ পাস এবং তথ্য কমিশন গঠনের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।।

তিনি বলেন, গত মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার বেসরকারি খাতে প্রথম টিভি চ্যানেল পরিচালনার অনুমতি দেয়। এবার আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার আরো ১৫টি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের অনুমতি দিয়েছি। এছাড়া সাতটি এফএম রেডিওর অনুমতি দেয়া হয়েছে। সারাদেশে ১৬টি কমিউনিটি রেডিও স্টেশনের অনুমতিও দিয়েছে সরকার। বর্তমানে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও পাক্ষিকসহ অন্যান্য ম্যাগাজিনের সংখ্যা ৪২৫টি। এর মধ্যে দৈনিকের সংখ্যা ৩১৫টি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের (রাজনৈতিক দল) আসা না আসা আপনাদের লেখনির ওপর নির্ভর করে। কারণ জনমত সৃষ্টিতে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকরা অনেক ভূমিকা রাখেন।”

পরবর্তী কোনো সরকার এসে সাংবাদিকদের সহায়তার তহবিল যেন বন্ধ করতে না পারে সেজন্য একটি ট্রাস্ট ফান্ড করে দেওয়ার আগ্রহের কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এই অনুষ্ঠানে মোট ১৫৭ জন সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অনুদান দেয়ার কথা থাকলেও উপস্থিত ৫৩ জন এদিন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অনুদানের চেক নেন।

শেয়ার করুন