হচ্ছে না উপজেলা উপনির্বাচন

0
101
Print Friendly, PDF & Email

দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে ৪০টি উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচন, পাশাপাশি থেমে আছে উপজেলা সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের নির্বাচনের বিষয়টিও। মূলত সরকারের অনিচ্ছার কারণেই নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিতে পারছে না বলে জানা গেছে ইসির বিশ্বস্ত সূত্রে। খবর বাংলানিউজ
জানা গেছে, এ নির্বাচনের বিষয়ে ইসিকে নড়াচড়া না করার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি উপজেলা সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের নির্বাচনের বিষয়টিও ইসিকে চেপে যেতে বলেছে তারা।
ইতোমধ্যেই মন্ত্রণালয়ের গোয়ার্তুমিতে নতুন পাঁচটি উপজেলার মধ্যে তিনটির নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাধারণ সময় পেরিয়ে গেছে। এখন এই তিন উপজেলা পরিষদের নির্বাচন নির্ভর করছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ওপর। ইসি কেবল ময়মনসিংহের তারাকান্দা এবং বরগুনার তালতলী উপজেলায় নির্বাচনের উদ্যোগ নিচ্ছে।
স্থানীয় নির্বাচন না হওয়ার পেছনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কেই সবচেয়ে বড় বাধা ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মন্ত্রণালয়ের অসহযোগিতায় স্থানীয় সরকারের অনেকগুলো নির্বাচন আটকে আছে বলেও দাবি করেছে ইসি সূত্র।
ইসি সূত্র জানায়, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকার আর কোনো স্থানীয় নির্বাচনে যেতে রাজি নয়। পাঁচ সিটির নির্বাচনে ভয়াবহ বিপর্যয়ই নির্বাচনে যেতে সরকারের অনীহার মূল কারণ বলে জানা গেছে।
সরকার এজন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে ব্যবহার করছে। মন্ত্রণালয়ের অসহযোগিতায় ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন, উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচন, উপজেলা উপনির্বাচন ও নতুন পাঁচ উপজেলায় নির্বাচন করতে পারছে না ইসি।
নির্বাচন কমিশন বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঠেকাতে একের পর এক কৌশল অবলম্বন করছে মন্ত্রণালয়টি। তাদের অসহযোগিতার কারণেই ইসি ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তর (ডিসিসি নর্থ) ও দক্ষিণের (ডিসিসি সাউথ) নির্বাচন করতে পারছে না।
এ নির্বাচন যদিও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়েরই নির্বাচন, তবু ইসি যেহেতু একবার নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়ে তফসিল ঘোষণা করেছে, তাই এ নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইসির বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, ডিসিসি নির্বাচনে এখন স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ নতুন করে জটিলতা তৈরি করছে। নতুন করে কিছু এলাকা ডিসিসি উত্তরের সঙ্গে যোগ করা হচ্ছে। এতে নির্বাচন বিঘি্নত হবে। নতুন এলাকার সীমানা নির্ধারণ না করে নির্বাচন করা যাবে না। আবার ডিসিসি দক্ষিণের সুলতানগঞ্জ বিষয়ক জটিলতারও দৃশ্যমান সমাধান টানেনি মন্ত্রণালয়। এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের ঢিলেমিতে ইসি নিজেই বিরক্ত বলে জানা গেছে।
কেবল ডিসিসি নির্বাচনই নয়, উপজেলাগুলোর সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচনের ব্যাপারেও ইসিকে সহযোগিতা করছেন না স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, অনেক দিন আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সীমানা নির্ধারণ করে দিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিল ইসি। মাঝখানে মাসের পর মাস চলে গেছে, তবুও মন্ত্রণালয়ের সাড়া পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে পদত্যাগ ও মৃত্যুজনিত কারণে দেশের ৪০টি উপজেলায় চেয়ারম্যান কিংবা ভাইস চেয়ারম্যানের পদ খালি হয়ে আছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নবগঠিত পাঁচটি উপজেলা। এগুলো হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালি, বরগুনার তালতলী, রাজবাডড়ীর কালুখালী ও ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলা।
৪০টি উপজেলার মধ্যে ১৯টিতে চেয়ারম্যান পদে, ২০টিতে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ও ১টিতে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠান প্রয়োজন।
এর মধ্যে রাজবাড়ীর কালুখালী, ব্রাহ্মণবাাড়িয়ার বিজয়নগর, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালি উপজেলার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সীমা ইতোমধ্যেই পার হয়ে গেছে।
ইসির দায়িত্বপূর্ণ একটি সূত্র এ বিষয়ে বলেন, সাধারণত প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মহাসচিব ও সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ের ব্যক্তিরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হয়ে থাকেন। এ মন্ত্রণালয়ের সচিবও নিয়োগ দেয়া হয় সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনায়। ফলে তারা ইসিকে সহযোগিতা করার চেয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থেই বেশি ব্যস্ত থাকেন।
ইসি সূত্র জানায়, সমপ্রতি অনুষ্ঠিত ৫ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভয়াবহ পরাজয়ের পর এসব নির্বাচনের ব্যাপারে ইসিকে ধীরে চলার নীতি গ্রহণ করতে বলেছে সরকার। একই সঙ্গে আইনি জটিলতা তৈরির জন্য নির্বাচনের বিষয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ঢিলেমি করছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজ এ বিষয়ে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে এটা আমি বলব না। কিন্তু এ নির্বাচন যেহেতু তাদের নির্বাচন, তাই এটা অনুষ্ঠানের জন্য তাদেরই উদ্যোগ নিতে হবে। ইসি কেবল নির্বাচন সম্পন্ন করে দেবে।’

শেয়ার করুন