গলদার লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা

0
42
Print Friendly, PDF & Email

অনুকূল পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও পুঁজি সঙ্কট ও দাম বেশি হওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে খুলনা জেলার অধিকাংশ গলদা চাষি এবার ঘেরে রেণু ছাড়তে পারেননি।
যে কারণে ভরা মৌসুমেও ফাঁকা পড়ে রয়েছে বিভিন্ন উপজেলার অধিকাংশ গলদার ঘের। এমন পরিস্থিতিতে এবার গলদা চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। জেলায় প্রায় তিনশ’ কোটি টাকার গলদা উৎপাদন কম হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, খুলনার তেরখাদা, দিঘলিয়া, ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাট ও রূপসাসহ বিভিন্ন উপজেলায় ছোট বড় প্রায় ৬০ হাজার গলদা চিংড়ির ঘের রয়েছে। এসব ঘেরের আয়তন ২০ থেকে ২৫ হাজার হেক্টর। তবে বেসরকারি হিসেব মতে, ঘেরের সংখ্যা ও জমির আয়তন আরো বেশি। এর মধ্যে ডুমুরিয়া উপজেলায় ৫-৭ হাজার, তেরখাদা উপজেলায় ২ থেকে আড়াই হাজার, রূপসা উপজেলায় দেড় থেকে ২ হাজার, দিঘলিয়া উপজেলায় ১ থেকে দেড় হাজার এবং বটিয়াঘাটা উপজেলায় ১ হাজার হেক্টরের অধিক জমিতে গলাদ চিংড়ির ঘের রয়েছে।
দিঘলিয়া উপজেলার প্রান্তিক চাষি নরেশ জানান, এবার বর্ষা হওয়ায় চিংড়ির ঘেরে আগেভাগেই পানি এসে যায়। তবে মৌসুমের শুরুতে রেণুর মূল্য অনেক বেশি ছিল। প্রতি হাজার রেণু সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। তাই মাত্র ২ বিঘা জমিতে ঘের থাকা সত্ত্বেও পুঁজি সঙ্কটের কারণে রেণু ছাড়া তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাই খালি পড়ে রয়েছে চিংড়ি ঘের। তবে গলদার চাষ করতে না পারলেও সাদা মাছের চাষ করার ইচ্ছে রয়েছে তার।
রূপসা উপজেলার কাজদিয়া গ্রামের চিংড়ি চাষি রাজ্জাক জানান, এবার ২ বিঘা জমিতে গলদার চাষ করেছেন। আর দাম বেশি হওয়ায় এই দুই বিঘায় এবার রেণু ছেড়ছেন মাত্র ৩ হাজার। যেখানে প্রতি বিঘায় অন্যান্য বছর রেণু দেয়া হয় ৮ থেকে ১০ হাজার। গেল বছর যে রেণু আড়াই হাজার টাকায় কিনেছেন, এবার সেই রেণু কিনতে হয়েছে সাড়ে চার হাজার টাকা প্রতি হাজার। তাই তার আরো অন্তত চার বিঘা ঘের তার খালি পড়ে রয়েছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার গলদা চাষ অন্তত ৭০ ভাগ কমে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
একই ভাবে তেরখাদা উপজেলার আজগড়া গ্রামের গলদা চাষি তপন জানান, গত ১৫ থেকে ১৬ বছর তিনি গলদা চাষ করে আসছেন। তবে প্রতি বছর কোনো না কোনো দুর্যোগ লেগে থাকলেও এবার আবহাওয়া ছিল অনুকূলে। তথাপি পুঁজি সঙ্কট ও রেণুর দাম বেশি হওয়ায় ঘেরে ঠিকমতো রেণু ছাড়া সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, প্রতি বিঘা ঘেরে ৫ থেকে ৭ হাজার রেণু ছাড়া হয়। আর বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে রেণু ছাড়তে পারলে মৌসুম শেষে ভালো ফলন পাওয়া যায়। তবে এবার রেণুর দাম বেশি হওয়ায় অধিকাংশ চাষি ঘেরে পর্যাপ্ত রেণু দিতে পারেননি। অনেকে ঘের ফাঁকা রেখেছেন। আবার অনেকে সাদা মাছের পোনা ছেড়েছেন।
এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রফুল্ল কুমার রায় জানিয়েছেন, মার্চ-এপ্রিল রেণু অবমুক্ত করার উত্তম সময় হওয়া সত্ত্ব্বেও এবার নদী থেকে আহরিত রেণু দাম ছিল অনেক বেশি। আর একারণে গলাদার চাষ কিছুটা কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন