জয়-তারেকে উত্তপ্ত রাজনীতি

0
122
Print Friendly, PDF & Email

সজীব ওয়াজেদ জয় ও তারেক রহমান। বর্তমান ও সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রীর দুই ছেলে। একদিনের ব্যবধানে দুজনের দুটি বক্তব্যকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও এখন তারেক রহমান আর সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্য নিয়ে চায়ের টেবিলে ঝড় তুলছেন। দুজনের বক্তব্যই ছিল আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে। পাঁচদিন আগে ঢাকায় একটি ইফতার পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে তথ্য আছে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে।’ এর ঠিক একদিন পরই লন্ডনে একটি ইফতার পার্টিতে বক্তব্য রাখেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান। সেখানে তিনি ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে তীব্র আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কী কী করা হবে সে সম্পর্কেও ধারণা দেন।
সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে সাধারণত খুব একটা মাথা ঘামান না। থাকেন আমেরিকায়। মাঝেমধ্যে দেশে আসেন। নীরবে এসে নীরবেই চলে যান। রাজনৈতিক বিষয়ে এর আগে তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তিনি দেননি। কিন্তু হঠাৎ করে আওয়ামী লীগের আবার ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনার কথা বলে আলোচনায়
এসেছেন তিনি।
এই বক্তব্য তার রাজনীতিতে আসার কোনো ইঙ্গিত কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘সজীব ওয়াজেদ জয় একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তিনি রাজনীতিতে আসুক তা আমরা সবাই চাই। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও চান তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হোন।’্থ
কী তথ্যের ভিত্তিতে জয় এমন কথা বললেন- তা জানতে চাইলে সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘দেশের মানুষ আবারো আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনবে এটা সবাই বিশ্বাস করেন। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি এ কথা বলেছেন। কেউ ক্ষমতায় থাকলে বা ক্ষমতার বাইরে থাকলে তিনি আশা করতেই পারেন আবার ক্ষমতায় আসবেন।’
তবে মোহাম্মদ নাসিমের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন তারেক রহমানের আইনজীবী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসতে চায়। জয়ের বক্তব্যে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। তবে বাংলাদেশের মাটিতে ষড়যন্ত্র করে কেউ পার পায়নি আর পাবেও না।’
এ সময় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে এনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ব্যারিস্টার খোকন।
পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন তারেক রহমান। ২০০৮ সালে জরুরি অবস্থা চলার সময় চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশে যান। যাওয়ার আগে রাজনীতি থেকে সাময়িক অবসরের ঘোষণা দিয়ে একটি বিবৃতিও দিয়েছিলেন। এরপর থেকে জনসম্মুখে আসেননি তিনি। রাজনীতি নিয়ে কথাও বলেননি।
তবে গত বুধবার লন্ডনের একটি ইফতার পার্টিতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কী কী করা হবে তার একটি বিবরণ তুলে ধরেন। তার এ বক্তব্য সম্পর্কে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘তারেক রহমান তো গঠনমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। দেশের জন্য তিনি ভাবেন এবং কিছু করতে চান। আর নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা তো শুধু তারেক রহমান নয়, দেশের সবাই চান। তাই আমাদের অবস্থান পরিষ্কার- নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন যাবে না বিএনপি। আর বিএনপিকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচনের চেষ্টা করা হলে তাও করতে দেয়া হবে না।’
এদিকে বিএনপির অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশে ফিরতে চান তারেক রহমান। তার বক্তব্যের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘তারেক রহমান দুর্নীতিবাজ। এটা দেশের সবাই জানেন। তার মতো একজন দুর্নীতিবাজ দেশে ফিরে এলে আবারো দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে বাংলাদেশ।’
তিনি আরো বলেন, ‘দেশের মানুষ যখন নির্বাচনমুখী তখন তারেক রহমান আন্দোলনের কথা বলে দেশকে একটা নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিতে চান। আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ীই হবে, তাতে কে এলো আর কে এলো না, সেটা বড় কথা নয়। আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’ খবর নতুন বার্তা।
এদিকে, সজীব ওয়াজেদ জয় ‘আমার কাছে তথ্য আছে আওয়ামী লীগ আবারো ক্ষমতায় আসবে বলে’ যে মন্তব্য করেছেন তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ। তিনি বলেন, জয় বোঝাতে চেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের কর্মী বাহিনীকে সক্রিয় করা গেলে ভবিষ্যতে দলটি জাতীয় নির্বাচনে জিতে আসবে।
শনিবার বিকালে ধানম-িতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হানিফ বলেন, জয় বোঝাতে চেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের বিশাল কর্মী বাহিনী আছে। এই বাহিনীকে সক্রিয় করে মাঠে নামাতে পারলে এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- জনগণের কাছে তুলে ধরতে পারলে জনগণ আগামীতে আবারো আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনবে।
অন্যদিকে মাহবুব-উল-আলম হানিফ লন্ডনে এক ইফতার মাহফিলে তারেক রহমানের রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়ার বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন, প্যারোলের সুযোগ অপব্যবহার করে তারেক রহমান নানাবিধ ষড়যন্ত্রমূলক অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছেন। তারেক ও কোকো আইনের ঊধর্ে্ব নয়। আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। কার বাবা ও মা অতীতে কী ছিলেন সে পরিচয়ে আইনের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই।
হানিফ বলেন, যুবলীগের ইফতার মাহফিলে শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র ও শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় দেশে বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির ওপর নির্দেশনামূলক বক্তব্য রেখেছেন। তার বক্তব্যে দেশের বাস্তব প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। অথচ বিএনপি নেতারা কদর্য মিথ্যাচারে লিপ্ত।
তিনি বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয় তারেকের অতীত কালিমা লিপ্ত ‘শতরূপী দুর্নীতি’, রাষ্ট্রীয় সম্পদ পাচার, হত্যা-সন্ত্রাস, গ্রেনেড হামলা, নির্যাতন ও লুণ্ঠনের কিছু অংশ উচ্চারণ করেছেন মাত্র। এতে তেড়ে ফুঁসে ওঠার কোনো কারণ নেই।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জবাবে তারেক-কোকের দুর্নীতির বিচার প্রসঙ্গে হানিফ বলেন, তাদের বিচার আদালতে চলছে। আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করছে। আশা করেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের বিচার আদালত শেষ করবে।
‘বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি (খালেদা) যে নতুন ধারার সরকারের কথা বলেছেন তাতে তিনি স্পষ্ট না করলেও বোঝাতে চেয়েছেন অতীতে তার সরকার পরিচালনা ভুল ছিল। কিন্তু তিনি স্পষ্ট করেননি, তার সময়কার অপরাধের জন্য তিনি অনুতপ্ত কিনা, ক্ষমা চাইবেন কিনা। জাতি তা জানতে চায়।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক বদিউজ্জামান ভূঁইয়া, ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, উপদপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস প্রমুখ।

শেয়ার করুন