এডিবির টাকায় ১০১ থানা

0
44
Print Friendly, PDF & Email

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ৮১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০১টি নতুন থানা ভবন নির্মাণ করা হবে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ২০১৫ সালের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে এসব ভবন নির্মিত হবে। পুলিশকে অবকাঠামোগত আধুনিক সুবিধা দেয়ার উদ্দেশ্যে এ কার্যক্রম হাতে নেয়া হলেও তা জাইকার অর্থায়নে মডেল থানার মতো ‘কেতাবি গোয়াল’ হবে কিনা তা নিয়ে খোদ পুলিশ প্রশাসনেই সংশয় রয়েছে।
এদিকে প্রথম ধাপে ভোলার তজুমদ্দিন ও লালমোহন থানা ভবন নির্মাণের টেন্ডার আহ্বানের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীর ২৩ থানা, সিএমপির বন্দর থানা এবং আরএমপির শাহমখদুম থানার ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের মতামত চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বাকি ৭৬টি থানা ভবন দেশের ৩৯ জেলায় পর্যায়ক্রমে নির্মাণ করা হবে।
প্রসঙ্গত ২০০৭ সালে রাজধানীসহ সারাদেশে প্রথম ধাপে চালু হয় ১১টি মডেল থানা। পিআরপির দ্বিতীয় ধাপে আরো ১৮টি থানাকে মডেল থানা বলে ঘোষণা দেয়া হয়। পাশাপাশি জাপান সরকারের অর্থায়নে জাইকা চালু করে আরো
৪৫টি মডেল থানা। সেখানেও প্রতিটি থানার পেছনে মোটা অঙ্কের টাকা ব্যয় করা হয়। এসব টাকা সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দেয়া হয়। কিন্তু যে উদ্দেশ্য নিয়ে মডেল থানা বানানো হয়েছিল বাস্তবতার সঙ্গে তার কোনো মিল পাওয়া যায়নি। নির্মাণ কাজের অর্থ নয়-ছয়েরও অভিযোগ রয়েছে বিস্তর।
পুলিশ সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় মেট্টোপলিটান শহরের থানাগুলো আটতলা ফাউন্ডেশন দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে ছয় তলা নির্মাণ করা হবে। অপরদিকে গ্রামাঞ্চলের থানাগুলো ছয়তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে চারতলা থানা ভবন নির্মাণ করা হবে।
নতুন নির্মিত থানা ভবনে থাকবে মনোরম পরিবেশের সার্ভিস ডেলিভারি অফিসার রুম। এ রুমে অভ্যর্থনা জানিয়ে আগত ব্যক্তির বক্তব্য শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে। এছাড়া সাব-ইন্সপেক্টরদের কাজের জন্য থাকবে ওয়ার্কস্টেশন। এখানেও তারা মনোরম পরিবেশ পাবেন। প্রত্যেকেই পাবেন চেয়ার, টেবিল ও কম্পিউটার। থাইগ্লাস দিয়ে সাজানো হবে ওয়ার্কস্টেশনের কর্মপরিবেশ।
নতুন নির্মিত থানা ভবনগুলোর প্রত্যেকটি চারটি হাজতখানা থাকবে। এর মধ্যে একটি পুরুষ হাজতখানা, একটি মহিলা হাজতখানা, একটি কিশোর হাজতখানা ও একটি কিশোরী হাজতখানা। থানায় জব্দকৃত মালামাল সুরক্ষিত রাখতে থাকবে নিরাপদ মালখানা । এছাড়া প্রত্যেক থানা ভবনেই লিফটের ব্যবস্থা থাকবে।
সূত্র জানায়, প্রকল্পের মেয়াদ জুলাই ২০১২ সাল থেকে জুলাই ২০১৫ সাল। প্রথম বছরে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় এবং চলতি বছরে ৪৫ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। এ টাকা দিয়েই প্রাথমিক চিঠি চালাচালির কাজ শুরু করা হয়েছে। এ অবস্থায় বরাদ্দকৃত টাকা দ্রুত না দিলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না বলে জানা সংশ্লিষ্টরা। এজন্য আগামী বছরে ১০০ কোটি টাকা নেয়ার চেষ্টা করবে সরকার।
ডিএমপির নির্মাণ আওতাধীন থানাগুলো হলো হাজারীবাগ, কামরাঙ্গীরচর, কদমতলী, আদাবর, শাহআলী, পল্লবী, দারুস সালাম, কাফরুল, দক্ষিণখান, উত্তরখান, বংশাল, ধানম-ি, সবুজবাগ, মতিঝিল, খিলগাঁও, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, খিলক্ষেত, তুরাগ, শ্যামপুর, গুলশান, ডেমরা, লালবাগ এবং ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ।
এছাড়া গাজীপুর জেলার টঙ্গী, কাপাসিয়া, মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং, নরসিংদী জেলার মনোহরদী, টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর ও ধনবাড়ি, কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর ও পাকুন্দিয়া, শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি, ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা, গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া ও গোপালগঞ্জ সদর, মাদারীপুর জেলার রাজৈর ও কালকিনি, কক্সবাজার জেলার টেকনাফ ও চকরিয়া, রাঙ্গামাটি জেলার চন্দ্রঘোনা ও কাউখালী, ননিয়ারচর, বান্দরবান জেলার লামা ও ধানছি, খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি ও রামগড় এবং চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটনের বন্দর থানা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল, কসবা, আখাউড়া, নাসিরনগর ও বিজয়নগর থানা। কুমিল্লা জেলার চান্দিনা, হোমনা ও বুড়িচং থানা, চাঁদপুর জেলার চাঁদপুর মডেল থানা, নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ ও সেনবাগ থানা, রাজশাহী জেলার পবা থানা, পাবনা জেলার বেড়া, ফরিদপুর, ঈশ্বরদী, ভাঙ্গুরা ও সুজানগর থানা।
সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ থানা, নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর থানা, গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি ও সাঘাটা, কুড়িগ্রাম জেলার কুড়িগ্রাম সদর, চুষমারা নৌথানা, কচাকাটা ও নাগেশ্বরী থানা, লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা থানা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানা, বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর থানা, রাজশাহী মেট্টোপলিটনের শাহমখদুম থানা, খুলনা জেলার কয়রা, তেরখাদা ও দাকোপ থানা।
সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা থানা, বাগেরহাট জেলার মংলা, ফকিরহাট, চিতলমারী, শরণখোলা ও মোল্লারহাট থানা, কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানা, নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানা, ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর থানা,
পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানা, বরগুনা জেলার আমতলী থানা, ভোলা জেলার লালমোহন, দৌলতখান ও তজুমদ্দিন থানা, সিলেট জেলার ওসমানী নগর থানা।
হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থানা, সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর ও দক্ষিণসুনামগঞ্জ ও দোয়ারাবাজার থানা এবং মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা ও জুড়ি থানা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে খুব শিগগিরই।

শেয়ার করুন