দেশের ব্যাংকগুলোও স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্কুল ব্যাংকিং এ এগিয়ে এসেছে: গভর্নর

0
68
Print Friendly, PDF & Email

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, স্কুল ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয়তা  দেশে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা ২০১০ সালের নভেম্বর মাসে সকল বাণিজ্যিক ব্যাংকে স্কুল ব্যাংকিং সেবা চাল করার নির্দেশনা দিই। স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম বাস্তবায়নের এই অভিযাত্রায় দেশের ব্যাংকগুলোও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছে।

শনিবার বিকেলে বাংলাদেশে ব্যাংকের সিলেট শাখার এক আলোচনা সভায় সিলেট অফিসে বসে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, স্কুল ব্যাংকিং কর্মসূচি গ্রহণের ফলে আঠারোর নিচের বয়সী স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এখন ব্যাংকে হিসাব খুলতে পারছে, ব্যাংকের বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে জানতে পারছে এবং এটিএম, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, অনলাইন ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং এর মতো তথ্যপ্রযুক্তিগত নতুন নতুন সেবার সাথে পরিচিত হতে পারছে। এসব সুবিধা তারা গ্রহণ করতেও পারছে।

তিনি আরো বলেন,  অল্প বয়স থেকেই তাদের মধ্যে সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়ছে। আর সঞ্চয়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে তারা অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। একাউন্ট খোলার পর তাদের হাতে আসা টাকার পুরোটা ব্যক্তিগত কাজে অযথা খরচ না করে তারা এর কিছুটা সঞ্চয় করতে উৎসাহিত হচ্ছে। আর পরিবার ও সমাজের কল্যাণ হয় এমন খাতেই তারা তাদের সঞ্চয় থেকে খরচ করছে। এটাই ছিল আমাদের লক্ষ্য।

গভর্নর লিখিত বক্তব্যে বলেন.  বাংলাদেশ ব্যাংক ও সকল তফসিলি ব্যাংকের যৌথ আয়োজনে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রথম স্কুল ব্যাংকিং কনফারেন্স-২০১৩। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর রংপুর ও চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে আরো দু’টি স্কুল ব্যাংকিং কনফারেন্স। তাছাড়াও, বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক শিক্ষা প্রসারে সুপরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শিগগিরই রেডিও, টেলিভিশন ও সংবাদপত্রে আর্থিক শিক্ষার ব্যাপারে প্রচারণা চালানো হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে একটি বিশেষ লিঙ্কও সংযোজন করা হচ্ছে। সহজ ভাষায় ব্যাংকিং বিষয়ের ওপর নানান ফিচার, গল্প ও ভিডিও গেমস দিয়ে সাইটটি এমনভাবে সাজানো হবে যাতে ছোট-বড় সব বয়সী মানুষ এটি ভিজিট করে খুব সহজেই আর্থিক শিক্ষা অর্জন করতে পারেন।

পাশাপাশি রেডিও এবং টেলিভিশনে বিশেষ প্রোগাম থাকবে। এসবের মাধ্যমে  স্কুল ব্যাংকিং এর ধারণা সাধারণ মানুষের মনে পাকাপোক্ত হবে বলে আমার বিশ্বাস। ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমীর দ্বিতীয় তলায় টাকা জাদুঘর স্থাপন করা হয়েছে যার শিলান্যাস অনুষ্ঠিত হয়েছে। টাকা জাদুঘরে একটি স্কুল ব্যাংকিং কর্নার থাকবে যেখানে ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুল ব্যাংকিং সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য জানতে পারবে। সেখানেও থাকবে ডিজিটাল ব্যবস্থা। 

স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর পরবর্তী সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বিশ্বাস করি যে, বাংলাদেশ ব্যাংক সঠিক পথেই হাটছে। তবে আমাদের পেরোতে হবে আরো অনেকটা পথ। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুল শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা স্কুল ব্যাংকিং সুবিধা সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না। এমনকি অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকাও ব্যাংকিং বিধি ও রীতি-নীতি সম্পর্কে সঠিকভাবে অবহিত নন। শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর। একটি জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান জাতি গঠনে তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা দরকার। আমাদের চলমান স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমও ফলপ্রসূ হবে না তাদের কার্যকর সহযোগিতা ছাড়া।

তাই আমরা সম্মানিত স্কুল শিক্ষক-শিক্ষিকার মাধ্যমে স্কুল ব্যাংকিং ধারণাকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেবার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। ব্যাংক ও স্কুল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদেরও আনা হবে স্কুল ব্যাংকিং কমসূচির আওতায়। তাছাড়া, আর্থিক শিক্ষার বিষয়টি স্কুল পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনার বিষয়টিও বাংলাদেশ ব্যাংক ভাবছে। এসব ব্যাপক আকারের উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন তৃণমূলের জনগণকে উন্নয়নের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে, অন্যদিকে স্কুল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহায়তায় আর্থিক শিক্ষার প্রসারের ফলে একটি দূরদর্শী ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

শেয়ার করুন