তারা এবার এলে ১০ বছরেও নির্বাচন হবে না: হাসিনা

0
108
Print Friendly, PDF & Email

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “এবার যদি অসাংবিধানিক কাউকে ক্ষমতায় বসানো হয়, তখন দুই বছর কেন, ১০ বছরেও দেশে নির্বাচন হবে না।

২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারির পর সেনা সমর্থনে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নিয়েছিল, তারা দুই বছর পর নির্বাচন দিয়েছিল।

ওই সরকারের সময় শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াসহ শীর্ষস্থানীয় অনেক রাজনীতিককে কারাগারে যেতে হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ছিলেন ফখরুদ্দীন আহমদ। কিন্তু, প্রকৃত সরকার চালাত ডিজিএফআইয়ের ব্রিগেডিয়ার আমিন আর বারী। আমাকে অ্যারেস্ট করে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গেছে। আপনারা বাধাও দিতে পারেননি।”

২০০৮ সালে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করা আওয়ামী লীগ আদালতের এক রায়ের পর সংবিধানের সংশোধন এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বিলুপ্ত করে।

এর ফলে দেশের আগামী নির্বাচন নির্বাচিত অর্থাৎ আওয়ামী লীগের অধীনেই হবে।

এক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “আদালতের রায় তো বহাল রাখতে হবে।”

তবে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না দাবি করে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলনে রয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল।

নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠা না হলে আগামী নির্বাচন বয়কটের হুমকিও রয়েছে বিরোধী দলের।

তবে সংবিধান অনুসরণ করে নির্বাচনের পক্ষপাতি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেয়ার সাহস শুধু আওয়ামী লীগ রাখে। আগামী নির্বাচনও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।”

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সরকার সমর্থক অংশের এই ইফতার অনুষ্ঠানে অন্য অংশের নেতা রুহুল আমিন গাজী, আব্দুস শহীদ ও সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামালউদ্দিন সবুজ ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাদের গণিও ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের সত্য সংবাদ পরিবেশেনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সমালোচনা করেন গঠনমূলক। এমন সমালোচনা নয়, যেন গণতন্ত্রটা ধ্বংস হয়ে যায়।

“সংসদ সদস্য সাংবাদিকদের আঘাত করল, আমি গ্রেপ্তার করেছি, ছাড় দিইনি। কিন্তু আমাদের ওপর যখন আঘাত করা হয়, আমরা কার কাছে বিচারের জন্য যাব? আমি জানি না।”

আইন সংশোধন করে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারের বিধান বাতিল করার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এর সুযোগ এখন অনেকে নিচ্ছে। সত্য-মিথ্যা বলে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।”

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে ঘুরে ঘুরে সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।  

সাংবাদিকদের অষ্টম ওয়েজ বোর্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ঈদের আগে ওয়েজবোর্ড করার ইচ্ছা ছিল। মন্ত্রণালয় চেষ্টা করছে। তবে, যত শিগগিরই সম্ভব করে দেব।”

এই ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূইয়া এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওমর ফারুক বক্তব্য রাখেন।

অনূষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্ আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব শেখ মো. ওয়াহিদউজ জামান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ, সাংবাদিক এ বিএম মূসা, মাহবুবুল আলম, হাবিবুর রহমান মিলন, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, ঢাকা রিপোর্টার ইউনিটির সভাপতি শাহেদ চৌধুরী।

শেয়ার করুন