ক্রেতাদের দুর্ভোগ বাড়ায় বৃষ্টি

0
126
Print Friendly, PDF & Email

গতকাল ছিল ১৭ রমজান। সরকারি ছুটির দিন। সকাল থেকেই ক্রেতারা পরিবার-পরিজন নিয়ে মার্কেটগুলোতে আসতে শুরু করেন। কিন্তু সারাদিন মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় মার্কেটগুলোতে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তবুও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতার ঢল নামে রাজধানীর মার্কেট, বিপণি বিতান ও শপিংমলগুলোতে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্যান্য দিনের চেয়ে ছুটির দিনগুলোতে বেচাবিক্রি ভালো হয়। ক্রেতাদের চাপ সামাল দিতে বিক্রেতাদেরও হিমশিম খেতে হয়। তবুও বিক্রেতারা খুশি, ক্রেতাদের চাহিদা ও পছন্দসই পোশাক দিতে পেরে। ছুটির দিনে অন্যান্য এলাকার রাজপথ ফাঁকা থাকলেও মার্কেট সন্নিহিত এলাকায় যানজটে মানুষের নাভিশ্বাস ওঠে।
নগরীর নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনিচক, রাপা প্লাজা, প্রিন্স প্লাজা, সানরাইজ প্লাজা, প্লাজা এ আর চন্দ্রিমা মার্কেট, মৌচাক, রাজধানী সুপার মার্কেট, বঙ্গমার্কেট, শাহআলি মার্কেট, ধানমন্ডি রাইফেল স্কয়ার, পলওয়েল মার্কেট, গাজী ভবন, বসুন্ধরা শপিংমল, আড়ংসহ বিভিন্ন বুটিকস হাউজগুলো ছিল ক্রেতা পদচারণায় মুখরিত।
মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের কেনাকাটায় জনপ্রিয় মৌচাক মার্কেট। এখানে আসা অধিকাংশ ক্রেতা আমার দেশকে জানান, যানজটের কারণে তারা অনেকেই গাড়ি ছেড়ে হেঁটে মার্কেটে এসেছেন। পূর্ব গোড়ান থেকে খিলগাঁও রেলগেট পর্যন্ত রিকশায় এসে তারপর যানজটের কারণে পায়ে হেঁটে সন্তানদের নিয়ে মৌচাক মার্কেটে আসেন রিনা রহমান। অনেকটা বিরক্তি নিয়ে রিনা রহমান বলেন, কিছুক্ষণ পর পর বৃষ্টি হওয়ায় যানজট ঠেলে পায়ে হেঁটে মার্কেটে আসতেও অনেক কষ্ট হয়েছে। তবুও কি আর করার, ঈদের তো আর বেশি বাকি নেই। ঈদ করতে বাড়ি চলে যাবো। তাই যত তাড়াতাড়ি কেনাকাটা সেরে ফেলা যায়। তাই বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা’। মৌচাকে পাওয়া যাচ্ছে নতুন ডিজাইনের দেশি বিদেশি থ্রিপিস, শাড়ি, কাপড়, সেলাইবিহীন থ্রিপিস। তবে গাউছিয়া ও চাঁদনিচক মার্কেটে ভারতীয় পোশাক বেশি। এসব পণ্যের দামও আকাশছোঁয়া বলে অভিযোগ করেন ক্রেতারা। গাউছিয়া ও নিউমার্কেটে পোশাকের পাশাপাশি ইমিটেশন গহনার দোকানগুলোতেও তরুণীদের ভিড় বেশি দেখা গেছে। এসব মার্কেটে আধুনিক ডিজাইনের দেশি বিদেশি চুড়ি, কানের দুল, ভারি ও হালকা কাজের গলার নানারকম গহনা পাওয়া যাচ্ছে। পাওয়া যাচ্ছে রঙ-বেরঙের চুলের ব্যান্ড। তবে আমার দেশ-এর সঙ্গে আলাপচারিতায় অনেক ব্যবসায়ী অবশ্য জানান ভিন্নকথা। তারা বলেন, ‘এখন ক্রেতারা মার্কেটের আসছেন এবং দেখে বুঝে তারপর কিনবে। এখনও ঈদবাজার আশানুরূপ জমে ওঠেনি। হয়তো মার্কেটগুলোতে বিশ রোজার পর ক্রেতার ঢল নামবে।
শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার ঈদে ছেলেদের বিভিন্ন ধরনের পাঞ্জাবি ৬৫০ থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকা, টি-শার্ট ১৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, শার্ট ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা, ফতুয়া ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং জিন্সপ্যান্ট ১ হাজার ৫৫০ থেকে ২ হাজার ৬৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। মেয়েদের থ্রিপিস ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা, টু-পিস ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা, টপস ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, শাড়ি ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা, সিঙ্গেল কামিজ ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা, লেডিস ব্যাগ ৫৫০ থেকে ৬৮০ টাকা, ওড়না ৩৫০ টাকা, সালোয়ার ৪০০ টাকা, চুড়ি জোড়া ২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাচ্চাদের ফতুয়া ২৫০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। আজিজের সালোয়ার-কামিজের ক্ষেত্রেও দেশি বুটিক শিল্পের সৃজনশীলতা উল্লেখ করার মতো। সালোয়ার-কামিজে বৈচিত্র্য আনতে ডিজাইনারদের চেষ্টার যেন কোনো কমতি নেই। কামিজে এমব্রয়ডারি ও লেসের কাজ বেশি চোখে পড়ে। এছাড়া তরুণীরা বরাবরের মতো এবারের ঈদেও সুতির পোশাককে প্রাধান্য দিচ্ছেন বেশি।
এবারের ঈদে বসুন্ধরা সিটির দেশি দশের রঙের শোরুমে কারচুপির কারুকাজের পাঞ্জাবি ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে। এগুলোর দাম ৩ হাজার টাকা থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত। সুতি পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে ৮৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। নাগরদোলায় এবার ঈদে ব্লক ও লেগিনস ত্রয়ী থ্রি-পিস পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। জামদানি শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ৩ হাজার ৪৯০ টাকা ১০ হাজার ৯৯০ টাকায়। জুটমিলের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকা। কটনের শাড়ি ৩৯০ টাকা থেকে ২ হাজার ৮৯০ টাকা। ঘাস সিল্ক পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ৪৯০ টাকা থেকে ৩ হাজার ২৯০ টাকায়। রাজশাহী সিল্কের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ৩৯০ টাকা থেকে ২ হাজার ৮৯০ টাকায়। বাংলার মেলায় পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে ৫৫০ টাকা থেকে ৩ হাজার ২৫০ টাকায়। এসব পাঞ্জাবিতে নকশিকাঁথার কারুকাজ, সুতার কাজ এবং এমব্রয়ডারির কারুকাজ করা হয়েছে। এবারের ঈদে এসব পাঞ্জাবি ক্রেতা চাহিদার শীর্ষে রয়েছে। ক্রে-ক্রাফটে ইয়োক বসানো থ্রি-পিসগুলো ক্রেতা চাহিদার শীর্ষে রয়েছে। এগুলোর দাম ২ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত। এই শোরুমের সেলসম্যান রনি জানান, ঈদবাজার জমে উঠেছে।

শেয়ার করুন