নতুন ধারার সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়তে হবে

0
71
Print Friendly, PDF & Email

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে এক ইফতার অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় বিএনপির আগামী নির্বাচনের ইশতেহার তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে এক হয়ে অসুস্থ রাজনৈতিক চর্চা থেকে বেরিয়ে গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে কাজ করতে হবে। বুধবার সন্ধ্যায় লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপির ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

পুরো বক্তৃতায় রাজনীতির বিষয় এড়িয়ে আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষি, শিল্প, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কীভাবে কাজ করবে সেসব পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। নির্বাচনবান্ধব এ বক্তব্যকে লন্ডনের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা ‘বিএনপির আগামী নির্বাচনী ইশতেহার’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন। তারেক রহমান সেন্ট্রাল লন্ডনের গৌমান দ্য টাওয়ার হোটেলে পেঁৗছালে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো হল। যুক্তরাজ্য বিএনপি সাধারণ সম্পাদক এম কয়সর আহমেদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস সভাপতিত্ব করেন। তারেক রহমানের ৫৪ মিনিটের দীর্ঘ বক্তৃতার পুরোটাই ছিল ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন। দেশকে এগিয়ে নিতে কী কী করণীয়, সেই সম্পর্কে নিজের ভাবনাও তুলে ধরেন পাঁচ বছর ধরে লন্ডনপ্রবাসী বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, আমাদের গড়ে তুলবে হবে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে বহু দূরে। এ অগ্রযাত্রার গতি হতে হবে দ্রুত। লক্ষ্য হতে হবে সুনির্দিষ্ট। অতীতমুখী নয়, আমাদের চেতনা ও দায়বদ্ধতা হতে হবে ভবিষ্যতে। গতানুগতিক ধারার রাষ্ট্র পরিচালনায় আবদ্ধ না থেকে আমাদের উৎসাহ দিতে হবে আধুনিকতাকে, বরণ করে নিতে হবে অভিনবত্বকে। বক্তৃতায় তিনি আরও বলেন, সামনের দিকে এগিয়ে যেতে রাজনৈতিক সংস্কৃতির ‘পরিবর্তন’ সবচেয়ে বেশি জরুরি। কৃষি, শিল্প ও শিক্ষা ক্ষেত্রে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি কৃষি ক্ষেত্রে ভর্তুকির উপযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে বলেন, কৃষিকাজে ব্যবহৃত প্রধান তিন উপাদান চারা ও বীজ, সার ও কীটনাশক এবং সরঞ্জামের আমদানি ও বিতরণ ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস সঠিকভাবে করতে হবে। উৎপাদনমূল্যের সঙ্গে ১০-১৫ শতাংশ লাভ ধরে বিক্রয়মূল্যের বাজারব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। স্বাধীন কৃষিবান্ধব মূল্য নির্ধারণ কমিশন গঠন করা প্রয়োজন।

শিক্ষা ক্ষেত্রে সৃজনশীলতার বিকাশে পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতি পুনর্মূল্যায়নের সময় এসেছে বলে মনে করেন তারেক রহমান। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষার পদ্ধতি এবং পাঠ্যসূচিতে নতুন নতুন বিষয় যোগ করার চিন্তাভাবনার কথাও বলেন তিনি। বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও ব্যবহারিক জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে কারিগরি শিক্ষার প্রসার করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ইংরেজির পাশাপাশি চীনা, ফরাসিসহ আরও ভাষা শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে পাঁচ বছরের মধ্যে রেমিট্যান্স বর্তমানের ১৪ বিলিয়ন থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার গুরুত্ব উল্লেখ করে এ ক্ষেত্রে মনোযোগ দেওয়ার কথা বলেন। দেশে কয়েকটি আইটি পার্ক স্থাপন করতে চান তিনি, যেখানে স্থানীয় ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো একসঙ্গে সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার ডেভেলপ এবং প্রযুক্তিগত গবেষণা করবে। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বহু কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। আমাদের তরুণদের গুগল, মাইক্রোসফট, স্যামসং, ইন্টেল, সনি, এলজির মতো কোম্পানিতে কাজ করার মেধা ও যোগ্যতা আছে। ইন্টারনেট সহজলভ্য করতে ব্যান্ডউইডথের দাম আরও কমানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ গ্রহণ করলে দেশে এই মুহূর্তে থাকা ৩ কোটি কর্মক্ষম বেকারের সংখ্যা ১ কোটির নিচে নেমে আসবে। কর্মজীবীর সংখ্যা সাড়ে ৫ কোটি থেকে ৮ কোটিতে উন্নীত হবে। দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষের সংখ্যা ৩১ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নেমে আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি। পাঁচ বছর ধরে লন্ডনে চিকিৎসার জন্য অবস্থানরত তারেক রহমানের দলের প্রকাশ্য কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ঘটনা গত দুই মাসে এটি তৃতীয়। শীঘ্রই তিনি দেশে ফিরে দলের হাল ধরবেন বলে বিএনপির নেতৃস্থানীয় পর্যায় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

শেয়ার করুন