শক্তি বৃদ্ধি করছে জামায়াত, ঈদের পরে মাঠে নামবে

0
88
Print Friendly, PDF & Email

জামায়াতে ইসলামীর ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত কি ঘটতে যাচ্ছে…! এ নিয়ে ভাবনার শেষ নেই জামায়াতের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের। পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে এই দলটি ঘিরে। সরকার দলটিকে নিষিদ্ধ করবে, নির্বাচন কমিশন জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করবে, নাকি সরকার মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে জামায়াতকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে আনার প্রক্রিয়া করছে-এমনি সব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

একের পর এক শীর্ষ নেতাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ড দেয়ায় জামায়াত সরকারবিরোধী দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে কৌশল নির্ধারণে ইতিমধ্যে দলীয়ভাবে আলোচনা হয়েছে বলে জানাগেছে। সেক্ষেত্রে সরকারবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে দলটি ঈদের পর টানা হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি দেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে। বৈঠক সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

জামায়াতে ইসলামী দলীয়ভাবে তার রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েনি। এমনকি স্বাধীনতা যুদ্ধের পরও নয়। যে যুদ্ধের ভূমিকার জন্য তাদের আজ কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে। বলা যায়, জামায়াতের প্রায় সব শীর্ষ নেতাই এখন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত। তাদের মধ্যে আবার অনেকে এ অপরাধে যাবজ্জীবন অথবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত।

এ পর্যন্ত জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দলটির সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের ৯০ বছর কারাদণ্ড, সেক্রেটারি জেনারের আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড, নায়েবে আমির  মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাইদীর মৃত্যুদণ্ড, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড ও আবদুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে।

এছাড়া জামায়াতের সাবেক নেতা মাওলানা আবুল কালাম আযাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাইবুনালে বিচারাধীন রয়েছে নায়েবে আমির একেএম ইউসুফ, সহকারী সেক্রেটারি এটিএম আজহারুল ইসলাম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর মামলা।

এদিকে বিশেষ একটি সূত্র জানায়,  জামায়াতকে ১৮দলীয় জোটের বাইরে এনে নির্বাচনে অংশ নেয়ার পক্ষে মত রয়েছে সরকারের নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে। জামায়াতের সঙ্গে সরকারের একাধিক মাধ্যমে আলোচনাও চলছে। জামায়াত আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিলে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের দণ্ড নির্বাচনের আগে কার্যকর না-ও করা হতে পারে।

তবে বিএনপির সঙ্গে গাঁটছড়া অক্ষুণ্ন রেখে জামায়াত আগামী জাতীয় নির্বাচন বিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে এক থেকে দু’জন দণ্ডিত শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড নির্বাচনের আগেই কার্যকর করার দিকটিও নীতি-নির্ধারকদের ভাবনায় রয়েছে। সেক্ষেত্রে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করা হতে পারে।

শেয়ার করুন