উত্তরাঞ্চলীয় যাত্রীদের আট বিড়ম্বনা

0
92
Print Friendly, PDF & Email

রাজধানী থেকে উত্তরাঞ্চলীয় ১৬ জেলায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া লাখো মানুষ এবারের ঈদেও রাস্তায় রাস্তায় যানজটে আটকে থাকার আশঙ্কা করছেন। শুধু যানজটের কারণে গত দুই বছরে অন্তত তিনটি ঈদে হাজার হাজার যাত্রী যথাসময়ে বাড়ি পৌঁছাতে পারেননি। তাদের অনেকেরই ঈদ কেটেছে আশুলিয়া, চন্দ্রা কিংবা কালিয়াকৈরের রাস্তায়। সড়ক সংলগ্ন বিভিন্ন মসজিদের মাঠে অনির্ধারিত ঈদ জামায়াতে নামাজ পড়তেও বাধ্য হন তারা।

আসন্ন ঈদ উপলক্ষে নিজ নিজ বাড়ি যাওয়ার জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া যাত্রীরাই যে শুধু যানজট-ভোগান্তির আতঙ্কে রয়েছেন- তা নয়। ওই সব জেলার ৩৮টি রুটে চলাচলকারী যানবাহনের চালক-শ্রমিকরাও রাস্তার ঝক্কির কথা ভেবে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন।

কুড়িগ্রাম, রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী রুটে চলাচল করা দূরপাল্লার কোচ চালকরা জানান, উত্তরার আবদুল্লাহপুর থেকে আশুলিয়া-চন্দ্রা রোডের ১৫ কিলোমিটার জুড়ে সীমাহীন যানজটে সবকিছু স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা জানান, রাস্তার বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের হয়রানি, মোড়ে মোড়ে চাঁদাবাজদের উৎপাত, রাস্তা দখল করে দোকানপাট গজিয়ে ওঠা, রাস্তার উভয়পাশ জুড়ে সারি সারি যানবাহন থামিয়ে রেখে টার্মিনালের আদলে ব্যবহার করা, সড়কের মাঝখানে যাত্রী ওঠানামা করানোসহ আটটি কারণে যানবাহন চলাচলে মারাত্দক বিঘ্ন ঘটে। বাইপাইল ব্রিজের ঠিক মোড়ের উপরই রাস্তার বিরাট এলাকা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে সুপার মার্কেট। টিনশেড এ মার্কেটে দেড় শতাধিক দোকানপাট রয়েছে। মার্কেটটির কারণে সড়ক সম্প্রসারণ কাজ পর্যন্ত আটকে পড়েছে। আমিন সুপার মার্কেটের দেখাদেখি আশপাশে আরও দেড় শতাধিক দোকানপাট বানিয়েছে দখলদাররা। তেজগাঁওয়ের ট্রাক মালিক ও চালকদের একটি সংগঠনের দোহাই দিয়ে গড়ে উঠেছে পিকআপ ও মিনি ট্রাকের বেআইনি টার্মিনাল এবং তা গড়ে উঠেছে ঠিক বাইপাইল মোড় সংলগ্ন স্থানেই। বাইপাইলের ব্যস্ততম মোড়ের পূর্ব পাশ ঘেঁষে ট্রাক, মিনি ট্রাক, পিকআপের জটলা ক্রমেই প্রধান রাস্তা গিলে খাচ্ছে। জবর দখলকারীরা চারদিক থেকেই বাইপাইল মোড়ের মূল চত্বরটি সংকুচিত করে ফেলেছে।

জামগড়া ফ্যান্টাসি কিংডমের সামনে প্রায় দেড়শ গজ রাস্তা তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে বৃষ্টির পানি আটকে হাজারো খানাখন্দকে পরিণত হয়েছে। ঠিক অভিন্ন অবস্থা রয়েছে জিরাবো বাসস্ট্যান্ডে। এটুকু রাস্তা পেরোতে গাড়িগুলোকে নিত্য ঝক্কি পোহাতে হয়। জিরানী এলাকায় সম্প্রসারিত সড়কে কাদা মাটি ফেলা হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সে স্থানটি সরোবরে পরিণত হয়। কাদা পানি গড়িয়ে পড়ে পাকা সড়কটুকু বিপজ্জনক পিচ্ছিল করে তোলে, তখন দুর্ঘটনা ঘটে অহরহ। আবদুল্লাহপুর মোড়, টঙ্গীর কামারপাড়া, তুরাগ মোড়, আশুলিয়া থানা সংলগ্ন বাইপাইল মোড় এবং কালিয়াকৈর থানার চন্দ্রার মোড়ে থানা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের সরব অবস্থান রয়েছে। বাস-কোচের ফাঁকে ফাঁকে ট্রাক, মিনিট্রাক, পিকআপ ভ্যান যাওয়ার চেষ্টা করলেই ট্রাফিক পুলিশ তৎপর হয়ে উঠে, বিপজ্জনক ভঙ্গিতে লাফিয়ে চলন্ত মিনিট্রাক-পিকআপের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। রাস্তার ঠিক মাঝখানেই গাড়ি থামিয়ে শুরু হয় কাগজপত্র চেকিং আর দর কষাকষির পালা। ততক্ষণে দাঁড় করানো পিকআপ-ট্রাকের পেছনে অসংখ্য গাড়ির দীর্ঘ জট বেঁধে যায়। এভাবেই দুঃসহ যানজটের সূত্রপাত ঘটে বলেই মনে করেন যান চালকরা। গণকবাড়ীর সাভার ম্যাক্সি মালিক সমিতির সভাপতি মনসুর আলম মাদবর জানান, ঈদকে সামনে রেখে যানজট নিরসন ও যাত্রী দুর্ভোগ লাঘবে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সমিতির দেড় শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী কর্মীদের দ্বারা জামগড়া, বাইপাইল মোড় ও শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ডে দূরপাল্লার যানবাহনগুলো নিরবচ্ছিন্ন চলাচলে সহায়তা করা হবে। কিন্তু এ কাজে আশুলিয়া অঞ্চলের শিল্প পুলিশ রীতিমতো বাধা প্রদান করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এদিকে আসন্ন ঈদ উপলক্ষে দূরপাল্লার যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সাভার-আশুলিয়ার ট্রাফিক বিভাগ থেকেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন সাভার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রাসেল আহমেদ।

শেয়ার করুন