ইসির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ বিএনপি প্রয়োজনে আন্দোলন

0
75
Print Friendly, PDF & Email

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রস্তাবিত আচরণবিধিমালার তীব্র বিরোধিতা করেছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। দলটি বলেছে, ক্ষমতাসীন দলকে সুযোগ দিতেই প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও এমপিদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে চাচ্ছে কমিশন। এ ধরনের বিধি বাস্তবায়িত হলে ইসি আরও বিতর্কিত হয়ে পড়বে। সরকারের মতো নির্বাচন কমিশনকেও জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে। এটা চরম বৈষম্যমূলক ও অগ্রহণযোগ্য বিধিমালা। আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দলের কাছে এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। এ কারণেই নির্বাচন কমিশন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এ ধরনের দুরভিসন্ধিমূলক বিধি তৈরি করতে যাচ্ছে। এটা বাস্তবায়িত হলে নির্দলীয় সরকারের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে এই আইন বাতিলের জন্যও দাবি জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।

গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, এম কে আনোয়ার ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ এসব মন্তব্য করেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরাও বলেছেন, আচরণ-বিধিতে এই সুযোগ রাখা হলে তা হবে বৈষম্যমূলক। এতে নির্বাচনী প্রচারণায় ক্ষমতাসীন দল বাড়তি সুযোগ পাবে। ইসির প্রস্তাবিত বিধিমালায় বলা হয়েছে, দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন হলে এবং প্রধানমন্ত্রী যদি দলের প্রধান থাকেন, সে ক্ষেত্রে তিনি ও তার মনোনীত ২০ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বা নেতা দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর আলোকে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী আচরণবিধির যে খসড়া তৈরি করেছে, তাতে এই সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে বর্তমান আচরণবিধিতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী বা তাদের সমপদমর্যাদার সরকারি সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। বিএনপি নেতারা মনে করেন, এ ধরনের বিধি প্রণয়নের আগে নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল সব রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করা। কিন্তু তারা একতরফাভাবে আওয়ামী লীগকে সুবিধা দিতে এ ধরনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। তারা শুধুই সরকারের ভাষা বুঝেন, অন্য কারও না। তাদের ওপর সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো, সব দলকে আস্থায় নিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেওয়া। ইসি যে মেরুদণ্ডহীন ও সরকারের আজ্ঞাবহ তা এ ধরনের উদ্যোগেই বোঝা যায়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাব না। আর দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন না হলে প্রধানমন্ত্রী কিংবা মন্ত্রীরা তাদের পদে থাকবেন না। সুতরাং এ নিয়ে আমরা চিন্তিত নই। তাছাড়া নির্বাচন কমিশন যদি আচরণ বিধিমালায় এ ধরনের আইন করে থাকেন তাহলে প্রমাণিত হবে- তারা সরকারের আজ্ঞাবহ ও মেরুদণ্ডহীন। তাদের অধীনে আমাদের নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। নির্দলীয় সরকারের পাশাপাশি তাদের পদত্যাগেও আমরা আন্দোলন করব। এ ধরনের আইন করা থেকে ইসিকে সরে আসার আহ্বান জানাব। এ নিয়ে দলীয়ভাবেও প্রতিবাদ করা হবে। লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমানের মতে, এ ধরনের বিধিমালা করার উদ্যোগ নিলে তা হবে খুবই দুঃখজনক। এটা নির্বাচন কমিশনের এক ধরনের ভাওতাবাজি। এমনিতেই বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই। তারপর তারা যদি এ ধরনের উদ্যোগ নেয় তাহলে তাদের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ইসির উচিত, বিএনপিকে আস্থায় এনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা। যদি তা না করেন, তাহলে আমরাও এই ইসির পরিবর্তন চাইব। এর আগে নির্বাচনী আচরণবিধিমালায় এ ধরনের উদ্যোগ ছিল না। এখন তারা নতুন করে এ ধরনের বিধিমালা করলে তা হবে সম্পূর্ণ পক্ষপাতমূলক ও নগ্ন দলীয়করণ। তাদের প্রত্যাখ্যান করা ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প থাকবে না। এম কে আনোয়ার বলেন, এ ধরনের আইন নির্বাচন কমিশন করলে তারা আরও বিতর্কিত হয়ে পড়বে। সরকারের মতো নির্বাচন কমিশনও জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হবে। এটা আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোনো রাজনৈতিক দল মানবে বলেও আমার মনে হয় না। নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল, এ ধরনের খসড়া বিধিমালা প্রণয়নের আগে সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা। কিন্তু এখন বোঝা গেল, তারা শুধুই সরকারের ভাষা বোঝেন। কিন্তু তাদের ওপর সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো, সব দলকে আস্থায় নিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেওয়া। আমাদের নেত্রীর (খালেদা জিয়া) কথা অনুযায়ী ইসি যে মেরুদণ্ডহীন ও সরকারের আজ্ঞাবহ তা এ ধরনের উদ্যোগেই বোঝা যায়। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী বা এমপিরা পদে থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং আরেকজন নির্বাচিত হবেন_ এ ধরনের জঙ্গলের আইন খুবই দুঃখজনক। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ বলেন, আমরা জানি সরকারও নির্বাচন কমিশন মিলে ষড়যন্ত্র করছে। এ জন্য আমরা বলছি, সংসদ ভেঙে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। এ জন্য তত্ত্বাবধায়ক আন্দোলনের পাশাপাশি আমরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও আন্দোলন চালিয়ে যাব। দল সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন