ধর্ষণকারী মাদ্রাসা শিক্ষক জলিলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

0
203
Print Friendly, PDF & Email

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ১১ বছর বয়সী ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে মাদ্রাসার শিক্ষক আবদুল জলিলকে (৬০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. শফিকুল করিম এ রায় দেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি হাবিবুল ইসলাম তালুকদার জানান, হাজীগঞ্জ উপজেলার ৩ নং কালচো ইউনিয়নের কাপাইকাপ গ্রামের কাপাইকাপ সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষক আবদুল জলিল ২০১০ সালের ৩ আগস্ট একই মাদ্রাসার ১১ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করলে শিশুটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর ২০১১ সালের ১৯ এপ্রিল একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয় ধর্ষণের শিকার ছাত্রীটি। এরপর আবদুল জলিলকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন ওই ওই ছাত্রীর বাবা এরশাদ ব্যাপারী। মামলার পর ২০১১ সালের ১২ মে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. শফিকুল করিম অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকের ২০১২ সালের ২৩ মে শিশুকন্যা ও আবদুল জলিলের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন। ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় শিশুকন্যাটি অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের। এরই ভিত্তিতে আজ এ রায় ঘোষণা করা হলো। বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই ছাত্রী ও কন্যাশিশুটি বর্তমানে ঢাকার প্রশান্তি চাইল্ড হোম কেয়ারে রয়েছে। রাষ্ট্রকে শিশুটির ব্যয়ভার বহনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রায় প্রকাশের পর শিশুটির বাবা এরশাদ ব্যাপারি এক প্রতিক্রিয়া বলেন, আদালতের রায়ে আমি সন্তুষ্ট। স্থানীয় একটি স্বার্থানে�ষী মহল মামলার পর থেকে আমাকে এলাকা ছাড়া করবে বলে হুমকি দিয়ে আসছে। চলতি বছরে ইরি বোরা সেচ মৌসুমে কয়েকটি ধানের জমি চাষাবাদ করতে দেয়নি ওই মহল।

শেয়ার করুন