অক্টোবরেই মহাজোট ছাড়বেন এরশাদ!

0
74
Print Friendly, PDF & Email

ঈদের পর পরই দল গোছাতে নব-উদ্যমে মাঠে নামছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান,  সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। আগামী অক্টোবরে রাজধানী ঢাকায় মহাসমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। এ সমাবেশ থেকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ছাড়ারও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি। এর আগে তৃণমূল পর্যায়ে দল গোছানোর কাজটি শেষ করতে চান। ঈদের পর আট বিভাগীয় শহরে জনসভার আয়োজন ছাড়াও বৃহত্তর জেলাগুলো সফর করবেন তিনি। এ সময় দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া ছাড়াও লাঙ্গলের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করবেন।

জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ২৫ অক্টোবর বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তাই দলের পক্ষ থেকে অক্টোবরের প্রথম ভাগে রাজধানী ঢাকায় স্মরণকালের বৃহত্তম মহাসমাবেশ আয়োজনের কথা ভাবা হচ্ছে। বিভাগীয় মহাসমাবেশের পর পরই ঢাকায় মহাসমাবেশের প্রস্তুতি শুরু হবে। আশা করি ঢাকার মহাসমাবেশ থেকেই মহাজোট ছাড়া এবং এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি। আগস্টের শেষ দিকে আট বিভাগে সমাবেশের আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।

পার্টি প্রেসিডিয়ামের একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ নিজেই বলেছেন ‘রমজানের পর মাঠেঘাটে ছড়িয়ে পড়ব। জনগণের কাছে যাব। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য রাজনীতি করে, কাউকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়। আগামীতে এককভাবেই নির্বাচন করব। এ নির্বাচনে আমাদের জয়ী হতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।’ এরশাদ মনে করেন মানুষ আর দুই দলকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তৃতীয় কোনো শক্তিকে চায়। জাতীয় পার্টিই হবে সেই শক্তি। জানা গেছে, জোট-মহাজোটের বাইরে থেকে আগামীতে এককভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য দলের পক্ষ থেকে সর্বাত্দক প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য পার্টি নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন এরশাদ। দলপ্রধান হিসেবে নিজেও নির্বাচনী ছক তৈরি করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে আসনভিত্তিক যোগ্য প্রার্থী চূড়ান্ত করা, দলের দুর্বলতা খুঁজে বের করা, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও কোন্দল নিরসন করা, জেলা-উপজেলাসহ মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করা। সব মিলিয়ে আগামী নির্বাচনে ফসল ঘরে তোলা নিয়ে ছক কাটছেন এরশাদ। তাদের মতে, দেশ পরিচালনায় বড় দুই দলের ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে আগামী নির্বাচনে ভালো ফলাফল অর্জনের মধ্য দিয়ে রাজনীতির মাঠে ঘুরে দাঁড়াতে শেষ চেষ্টা করবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ। আর এ লক্ষ্য নিয়ে ঈদের পর পরই কোমর বেঁধে মাঠে নামবেন তিনি। সরাসরি তৃণমূল পর্যায়ে সফরে বের হবেন। সূত্র জানায়, এরই মধ্যে নির্বাচন সামনে রেখে দুই শতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর একটি তালিকা তৈরি করেছেন তিনি। তাদের নামও ঘোষণা করা হয়েছে। আরও ১০০ প্রার্থীর তালিকা তৈরির কাজ চলছে। কোন প্রার্থীর কী অবস্থা নিজেই তা মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা করছেন। এক নেতা জানান, পার্টির চেয়ারম্যান মনে করছেন এ মুহূর্তে জোট-মহাজোটের বাইরে থেকে বিএনপি-আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল যদি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে ৯০ থেকে ১২০টি আসনে জয়ী হবে তার দল জাতীয় পার্টি। অতীতের মতোই ভবিষ্যতেও সরকার গঠনের প্রধান নিয়ামক শক্তি হবেন তিনি। তবে তার ভাষায়, আগামীতে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। সময় হলে মহাজোট ছাড়ার ঘোষণা দেবেন বলে জানান সাবেক রাষ্ট্রপতি। মাসব্যাপী এই সাংগঠনিক সফরে জাতীয় পার্টির নেতারা মাদারীপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ, বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, রাজবাড়ী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জসহ বেশ কিছু জেলায় সাংগঠনিক সফর করেন। এবার পার্টি চেয়ারম্যান নিজেই দেশব্যাপী ব্যাপক গণসংযোগ, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সভা-সমাবেশ করবেন। নির্বাচনের আগমুহূর্তে একাধিক রোডমার্চের আয়োজনের কথাও ভাবছেন তিনি।

শেয়ার করুন