নজর এখন সুপ্রিম কোর্টের দিকে

0
71
Print Friendly, PDF & Email

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালসহ বিভিন্ন দাবিতে বিরোধী দলের আন্দোলন ঝিমিয়ে পড়েছে বেশ। সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ডামাডোলও শেষ হয়ে গেছে। শপথ নিয়েছেন বিজয়ী মেয়ররাও।

এ পরিস্থিতিতে হরতাল, প্রতিবাদ ও আন্দোলন বিমুখ জনগণের নজর এখন সুপ্রিম কোর্টের দিকে। কবে ঘোষণা করা হবে মানবতাবিরোধী অপরাধের চূড়ান্ত রায় তারই অপেক্ষা এখন জনমনে।

কারণ সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে নির্বাচনের ৯০ দিন আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া হবে। সে অনুসারে ২৫ অক্টোবরের পর সংসদ আর বসবে না।

এদিকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট চলবে ২৮ কার্যদিবস। আর এ জন্যই জনগণের নজর এখন সুপ্রিম কোর্টের দিকে। এ সময়ের মধ্যে ক’জন অপরাধীর বিচার শেষ হবে- এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সব মহলে।
তবে বর্তমানে আপিল বিভাগে আব্দুল কাদের মোল্লার মামলার শুনানি শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার। সোমবার সাংবিধানিক ও গুরুত্বপুর্ণ আইনি প্রশ্নে মতামত দিয়েছেন সাত অ্যামিকাস কিউরি(আদালতকে আইনি সহায়তাদানকারী)। শুনানি শেষ করেছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। মঙ্গলবার সকালে অ্যাটর্নি জেনারেল ৩০ মিনিটের মতো শুনানি করবেন।

অ্যামিকাস কিউরিদের বক্তব্য এবং আসামি পক্ষের শুনানি শেষ হওয়ার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, সোমবার অ্যামিকাস কিউরিদের বক্তব্য এবং আসামি পক্ষে শুনানি শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার ৩০ মিনিটের মতো বক্তব্য রাখবো। এরপর রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

কাদের মোল্লার মামলা ছাড়া বর্তমানে আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও কামারুজ্জামানের মামলা। সদ্য রায় হওয়া গোলাম আযম ও আলী আহসান মুজাহিদের মামলায় আসামি পক্ষ একমাসের মধ্যে আপিল করবে।

এছাড়া সরকার পক্ষে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আপিল করার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় আছে বলে বাংলানিউজকে জানান রাষ্ট্রের এ আইন কর্মকর্তা। অবশ্য গোলাম আযমের দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করার দাবি জানিয়ে আসছে গণজাগরণ মঞ্চও।

২০০৮ সালে দেওয়া আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, ২০১০ সালের ২৫ মার্চ মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচারে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সরকার। বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে গত বছরের ২২ মার্চ গঠিত হয় দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল। গত ৩ বছর দুই মাসে ৬ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল। দুই ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে বিএনপি-জামায়াতের আরও ৩ নেতা এবং আওয়ামী লীগের এক বহিষ্কৃত নেতার (জামায়াতের সাবেক রোকন)।

তারা হচ্ছেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, বিএনপির সাবেক নেতা সাবেক মন্ত্রী আব্দুল আলীম ও আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা মোবারক হোসেন।

আর বুদ্ধিজীবী হত্যা মামলায় আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মাঈনুদ্দীনের বিচার শুরু হয়েছে।

বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির আবুল কালাম মোহাম্মদ ইউসুফ ও জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাশেম আলীর মামলা। এছাড়া তদন্ত শেষ হয়েছে বিএনপি নেতা ও নগরকান্দা পৌর মেয়র জাহিদ হোসেন খোকন ও জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের।

আর তদন্তাধীন রয়েছে- জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সোবহান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কাওসার (হবিগঞ্জ), চট্টগ্রামের রাউজানের বিএনপি নেতা গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী, যশোরের মওলানা সাখাওয়াত হোসেন, পিরোজপুরের জাতীয় পার্টি নেতা ইঞ্জিনিয়ার আবদুল জব্বার, বাগেরহাটের সিরাজুল ইসলাম ওরফে সিরাজ মাস্টার, খুলনার আমজাদ মিনার, রাজশাহীর লাহার আলী শাহ ও আলবদর বাহিনীর উদ্যোক্তা জামালপুরের মোহাম্মদ আশরাফ হোসেনের। এদের মধ্যে আটক আছেন সৈয়দ মোহাম্মদ কাওসার ও আব্দুস সোবহান।

প্রথমবারের মতো চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আব্দুল কাদের মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন। ট্রাইব্যুনাল তাকে ৫টি অপরাধে দায়ী করে দু’টিতে যাবজ্জীবন ও তিনটিতে ১৫ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেন। 

এ রায়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ছাত্র-জনতা। শাহবাগে ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলে গণজাগরণ মঞ্চ। দাবি অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) (সংশোধন) বিল, ২০১৩ জাতীয় সংসদে পাস হয়। সংশোধিত আইনে রায়ের বিরুদ্ধে উভয় পক্ষের আপিল করার বিধান রাখা হয়। এ সংশোধনীর পর সর্বোচ্চ শাস্তির আরজি জানিয়ে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

১৭ ফেব্রুয়ারির ওই সংশোধনীতে ৬০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে আপিল আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশনামূলক বিধান করা হয়। তবে সেটি বাধ্যতামূলক নয়। কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে করা আপিলের এরইমধ্যে ৪ মাস পার হয়ে গেছে।

শেয়ার করুন