আপিলের ওপর শুনানি শেষ হতে পারে আজ

0
100
Print Friendly, PDF & Email

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি আজ মঙ্গলবার শেষ হতে পারে।
প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে গতকাল সোমবার অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের আইনি সহায়তা-কারী) এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী বক্তব্য উপস্থাপন শেষ করেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘অ্যামিকাস কিউরিদের বক্তব্য উপস্থাপন শেষ হয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবী সমাপনী বক্তব্য দিয়েছেন। আদালত রাষ্ট্রপক্ষের সমাপনী বক্তব্য আজ মঙ্গলবার শুনবেন। আশা করি, আজ শুনানি শেষ হবে।’ কাদের মোল্লার আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘কাদের মোল্লার পক্ষে আমাদের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার অ্যাটর্নি জেনারেল বলবেন ও শেষ করবেন।’
গতকাল শুনানিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইনে আনা সংশোধনী কাদের মোল্লার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বলে মত দিয়েছেন অ্যামিকাস কিউরি এ এফ হাসান আরিফ। এর মধ্য দিয়ে ৮ জুলাই শুরু করে গতকাল পর্যন্ত সাতজন অ্যামিকাস কিউরিরই মতামত উপস্থাপন শেষ হলো। গত রোববার অ্যামিকাস কিউরি টি এইচ খানও মত দেন, ওই সংশোধনী কাদের মোল্লার মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তবে ওই সংশোধনী কাদের মোল্লার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলে ইতিমধ্যে মত দিয়েছেন পাঁচজন অ্যামিকাস কিউরি। তাঁরা হলেন রফিক-উল হক, এম আমীর-উল ইসলাম, মাহমুদুল ইসলাম, রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও আজমালুল হোসেন কিউসি।
আবদুল কাদের মোল্লার দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানিকালে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্ন ওঠায় গত ২০ জুন আপিল বিভাগ এ বিষয়ে মতামত দিতে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে জ্যেষ্ঠ ওই সাত আইনজীবীর নাম ঘোষণা করেন। প্রশ্ন দুটি হলো দণ্ড ঘোষণার পর আইনে আনা সংশোধনী কাদের মোল্লার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর অধীনে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইন প্রযোজ্য হবে কি না? এই প্রশ্নেও অ্যামিকাস কিউরিরা মতামত দেন।
হাসান আরিফ মতামতে বলেন, ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইনে আনা সংশোধনী বৈধ। তবে তা কাদের মোল্লার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল রায় দেন। আইন সংশোধনের আগেই মামলাটির রায় হয়েছে। সংশোধিত আইন প্রাথমিকভাবে পড়লে এটি স্পষ্ট হয় না যে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়া মামলার ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে। তিনি মত দেন, প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইনের রীতি দেশীয় আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হলে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের জন্য তা অনুসরণ করা যেতে পারে।
এরপর শুনানি করেন কাদের মোল্লার আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ৫ ফেব্রুয়ারি কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মামলার রায়ের পর ১৮ ফেব্রুয়ারি আইনে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা কাদের মোল্লার জন্য প্রযোজ্য নয়। তাই সরকারের আপিল অকার্যকর, এটা চলতে পারে না। প্রসিকিউশন যেসব সাক্ষী-প্রমাণ উপস্থাপন করেছে, এসব সাক্ষী-প্রমাণের ভিত্তিতে কাদের মোল্লাকে সাজা দেওয়া অসম্ভব। তাই কাদের মোল্লার আপিল গৃহীত হওয়া উচিত।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আনা ছয়টি অভিযোগের মধ্যে দুটিতে তাঁকে যাবজ্জীবন এবং তিনটিতে ১৫ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেন। অন্য অভিযোগ থেকে তিনি খালাস পান। কিন্তু কাদের মোল্লার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শাহবাগে গড়ে ওঠে গণজাগরণ মঞ্চ। পরে দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের সমান সুযোগ রেখে ১৭ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) (সংশোধন) বিল, ২০১৩ জাতীয় সংসদে পাস হয়। আগে কোনো অভিযোগে আসামির সাজা হলে সে ক্ষেত্রে আপিলের সুযোগ ছিল না সরকারপক্ষের।
৩ মার্চ কাদের মোল্লার সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। পরদিন ট্রাইব্যুনালের দেওয়া দণ্ডাদেশ বাতিল করে অব্যাহতি চেয়ে আপিল করেন কাদের মোল্লা। ১ এপ্রিল আপিলের শুনানি শুরু হয়।
জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মাদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধেও আপিল হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-১ সাঈদীর বিরুদ্ধে এবং ৯ মে ট্রাইব্যুনাল-২ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলার রায় দেন।

শেয়ার করুন