আওয়ামী লীগের কাছে ৫০ আসন চাইবে শরিকরা

0
54
Print Friendly, PDF & Email

পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একমাত্র রাজশাহীতে ওয়ার্কার্স পার্টি ছাড়া অন্যগুলোতে কোনো দল পাশে না থাকলেও আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ৫০টি আসন চায় ১৪ দলের শরিকেরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, পাঁচ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের শোচনীয় পরাজয়ের পর সংসদ নির্বাচনে জোটগত না এককভাবে করা হবে তা নিজ নিজ দলের মধ্যে আলোচনা শুরু করেছেন প্রথম বারের মতো ক্ষমতার স্বাদ পাওয়া বাম শরিক দলগুলো। জোটগতভাবে নির্বাচন করলে কোন দল কয়টা আসন দাবি করবে এবং চাওয়া পাওয়া কী থাকবে তার খসড়া তৈরি করছেন নিজ নিজ দলে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির ১৫টি, সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ ১৬টি আসন দাবি করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। নবম সংসদ নির্বাচনে ওয়ার্কার্স পাটি ৩টির মধ্যে দুটিতে, জাসদ ৪টির মধ্যে ৩টি জয় পেয়েছিল। জোটের অন্য শরিক গণতন্ত্রী পার্টির চাওয়া একটু বেশি। তাদের দাবি ১৬টি আসন। সাম্যবাদী দল ২টি, গণ আজাদী লীগ ১টি, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, ন্যাপও এবার আসন দাবি করবে। তবে নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বামদলগুলোর নেতারা।

পাঁচ সিটি নির্বাচনে ১৪ দল সমর্থিত প্রার্থীদের ভরাডুবির কারণে হঠাৎ করেই শরিকদের মাঝে চলছে স্নায়ুযুদ্ধ। এসব সিটিতে ১৪ দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের তেমন দেখা মেলেনি। একমাত্র রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর এক সদস্যকে ১৪ দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে দেখা গেছে। অন্য সিটিতে প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে দেখা না গেলেও পরাজয়ের জন্য আওয়ামী লীগকেই দুষছেন শরিকরা। তারা মনে করেন, এটা গত ৪ বছরে আওয়ামী লীগের জনবিচ্ছিন্নতা আর দলীয় কোন্দলেরই ফসল। এর দায়ভার আওয়ামী লীগের একার। জোটের নয়। তারা বলেন, আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল হলেও ক্ষমতায় গিয়ে ভুলে গেছে মানুষের কথা। গত নির্বাচনে টাকার বিনিময়ে কিছু ব্যবসায়ীকে নমিনেশন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। টাকা ছিটিয়ে নির্বাচন করে সেই টাকা উঠাতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তারা। যার কারণে সাধারণ মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে ক্ষমতাসীন এ জোট থেকে। যার প্রতিক্রিয়া জাতীয় নির্বাচনেও পড়বে বলে ধারণা শরিকদের। এ ছাড়া এক দলের এক নেতা খ্যাত দিলীপ বড়ুয়াকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া ছাড়া অন্য শরিকদের মূল্যায়ন করা হয়নি। ক্ষমতায় প্রায় শেষ সময়ে এসে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও জাসদ সভাপতিকে মন্ত্রিত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও রাশেদ খান মেনন দলের সিদ্ধান্তের কারণে মন্ত্রিত্বের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়ে তথ্যমন্ত্রী দায়িত্ব পান। অন্যরা ক্ষমতার সাড়ে চার বছরের অবহেলার কারণে দশম সংসদ নির্বাচন নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন। পরিস্থিতি দেখে জোট ছাড়ারও ইচ্ছে আছে শরিকদের। আর এ জন্য বিকল্প বামজোটের কথাও ভাবছেন তারা। শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচন সময় না হলেও আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে এখনই প্রার্থী ঠিক করতে চান তারা। আগে থেকে প্রার্থী ঠিক করা না হলে নির্বাচনের সময় সংকট সৃষ্টি হতে পারে এমন আশঙ্কা তাদের। গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নূরুর রহমান সেলিম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জোট আছে না নাই তাই বুঝতে পারছি না। সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী। পরাজয় হলে বলে ১৪ দলের। তিনি বলেন, আমাদের পার্টির মিটিংয়ে বলেছি, কারও দিকে তাকিয়ে লাভ নেই। কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫টি আসন ধরে নেতা-কর্মীদের কাজ করতে হবে। সেভাবে তারা কাজ শুরু করে দিয়েছে। কয়টা পাব সেটা পরের কথা। এটা আমাদের পরিকল্পনা। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের কয়েক মাস আগেই আমাদের জোটের প্রার্থী ঠিক করে রাখতে হবে। না হলে নির্বাচনের সময় সংকট সৃষ্টি হতে পারে। ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মলি্লক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, চারটি সিটি আমাদের জন্য একটি সতর্ক বার্তা দিয়েছে। জনবিচ্ছন্ন থাকলে, নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন না করলে এর ফল ভালো হয় না। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আমরা দলের মধ্যে কাজ করছি। নির্বাচনী এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। কারা প্রার্থী হবে তাও ঠিক করা হচ্ছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে কত আসন দাবি করবেন প্রধান শরিক আওয়ামী লীগের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের প্রথমত চাওয়া হলো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। তবে সবকিছু সিদ্ধান্ত হবে জোটের বৈঠকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওয়ার্কার্স পার্টির এক নেতা জানান, ১৫টি আসন চাওয়া হবে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে। তবে জোটের ফোরামেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলেও জানান তিনি। জাসদ সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের আসন সম্পর্কিত কোনো আলোচনা হয়নি।

জোটের বৈঠকে আমাদের দাবি দাওয়া নিয়ে আলেচনা করব। তবে দলের নেতা-কর্মীদের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এ দলও ১৫টি আসন দাবি করবে বলে জানা গেছে। সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, কয়টা আসন দেবে বা দেবে না তা বিষয় নয়। ১৪ দলকে আরও সুসংগঠিত করতে হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শরিক জোটের দুই শীর্ষ নেতা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিগত সাড়ে চার বছরে আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রীদের জনবিচ্ছন্নতা, লুটপাট আর যুবলীগ, ছাত্রলীগের টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির কারণে দেশের জনগণ ক্ষমতাসীন জোট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। আমরা জোটে থাকলেও ক্ষমতায় নেই। আওয়ামী লীগের দায়ভার নিতেও রাজি না। তাই সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

শেয়ার করুন