‘নিজামীর নির্দেশে বাবাকে হত্যা করে’

0
62
Print Friendly, PDF & Email

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে মতিউর রহমান নিজামীর নির্দেশে পাবনার বেড়ায় আলবদর বাহিনী সোহরাব আলী প্রামাণিককে গুলি করে হত্যা করে বলে ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছেন তার ছেলে।

রোববার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর আমির নিজামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সেলিম লতিফ।

সাক্ষ্যে নিজামীর অনুসারী রাজাকারদের হাতে ধরার পর তার ওপর চালানো পাশবিক নির‌্যাতনের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে তিনি।

প্রসিকিউশনের চতুর্দশ সাক্ষী সেলিম বলেন, মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের নির্দেশে আলবদর, রাজাকার ও পাকিস্তানি আর্মিরা নির্মম অত্যাচার করে তার বাবাকে হত্যা করে। শুধু তাই নয়, একই গ্রামের মনু, ষষ্টি প্রামাণিক, ভাদু প্রামাণিক, জ্ঞানেন্দ্র নাথ হালদারসহ আরো অনেক নিরস্ত্র সাধারণ মানুষকে সেদিন হত্যা করা হয়।”

১৯৭০ সালে বেড়া কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র সেলিম জানান, ১৯৭১ সালের মে মাসে তিনিসহ এসএম আমির আলী, আলাউদ্দিন, সুজাউদ্দিন ও হারুন অর রশিদসহ অনেকেই ভারত থেকে এক সপ্তাহের প্রশিক্ষণ শেষে অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে বেড়ায় ফিরে আসেন। তারপর জাতীয় পরিষদের সদস্য আব্দুল লতিফ মির্জার নেতৃত্বে বিভিন্ন জায়গায় অপারেশন চালান।

তিনি বলেন, অগাস্টের মাঝামাঝি সময়ে বেড়ার এলএসডি লঞ্চঘাটে চাচাতো ভাই আলাউদ্দিনসহ তিনি নিজামীর অনুগত আলবদর ও রাজাকারদের হাতে ধরা পড়লে তারা তাদেরকে পিঠমোড়া করে বেঁধে প্রথমে থানার আলবদর ক্যাম্পে ও পরে নগরবাড়ি আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে পিঠমোড়া করে বেঁধে রাখা আরো কয়েকজনের সঙ্গে একটি ফেরিতে রাখা হয় তাদের।

সেলিম বলেন, “সে সময় দেখি একজন আর্মি অফিসারের সঙ্গে মতিউর রহমান নিজামীকে কথা বলছেন।”

এলাকার আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে তথ্য না দেয়ায় তাদের ওপর নির্মম অত্যাচার করা হয় বলে জানান তিনি।

এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, “জলন্ত সিগারেটের আগুন দিয়ে আমার পিঠে ছ্যাকা দেওয়া হয়। এভাবে প্রায় দুই/তিন ঘন্টা চলে নির‌্যাতন।”

তারপর হাত-পা বেঁধে তার দুই কাধে দুটি ইটের বস্তা ঝুলিয়ে নগরবাড়ী যমুনা নদীতে দুটি ফেরীর মাঝখানে ফেলে দেয় বলে জানান তিনি।

তবে পাশের ফেরির সঙ্গে ধাক্কা লেগে কাঁধের বস্তা দুটি খুলে যাওয়ায় তাৎক্ষণিক চেষ্টায় হাত-পায়ের বাঁধন খুলে সাঁতরে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের গোকসেলুন্দা গ্রামে গিয়ে আশ্রয় নেন তিনি।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর ভোরবেলা আলবদর, রাজাকার ও পাকিস্তানি আর্মিরা যৌথভাবে আমাদের বৃশালিখা গ্রাম ঘিরে ফেলে। তারা গ্রামের বহু বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। সেদিন আমার বাবাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে রাস্তার উপর ফেলে নির্মম অত্যাচার করতে করতে আমার অবস্থান সম্পর্কে জানতে চায়। কিছু না বলায় বাবাকে তারা গুলি করে হত্যা করে।”

তিনি নিজে এ ঘটনার সাক্ষী না হলেও তার মা, আজগর আলী মুন্সি, অহেদ আলী প্রামাণিক ও শাহজাহান আলীসহ আরো অনেকের কাছ থেকে ঘটনাটি শুনেছেন বলে জানান সেলিম।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের জেরা শুরু হলেও একটি মাত্র প্রশ্নের পরেই জেরা অসমাপ্ত রেখে সোমবার পর‌্যন্ত আদালত মুলতবি ঘোষণা করা হয়।

শেয়ার করুন