ডলারের বিপরীতে রুপির দরপতন

0
68
Print Friendly, PDF & Email

মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রা রুপির ব্যাপক দরপতনের কারণে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের সিমেন্ট রপ্তানিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এক মাসের ব্যবধানে দেশটিতে সিমেন্ট রপ্তানি অর্ধেক কমে গেছে।
রুপির দরপতনে আগের চেয়ে বেশি দরে ডলার ক্রয় করতে হচ্ছে ভারতীয় আমদানিকারকদের। আর তাই পণ্য আমদানিতে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। সে কারণে তাঁরা বাংলাদেশ থেকে সিমেন্ট আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন।
জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে মাসে প্রায় ১৮ হাজার টন সিমেন্ট রপ্তানি করা হতো। গত মে মাসেও রপ্তানির এই পরিমাণ বিদ্যমান ছিল। মূলত বাংলাদেশের আটটি সিমেন্ট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এই রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত ছিল।
কিন্তু জুন মাসে ডলারের বিপরীতে রুপির বড় ধরনের দরপতন ঘটায় তার প্রভাব এসে পড়ে রপ্তানিতে। ওই মাসের মাঝামাঝি থেকে হঠাৎ করেই আমদানি আদেশ কমে যায়। এতে করে রপ্তানিও কমে যায়। পাশাপাশি সিমেন্টের রপ্তানি মূল্যও কমে গেছে। রপ্তানিকারকেরা জানান, আগে মানভেদে প্রতি টন সিমেন্টের রপ্তানি মূল্য ছিল ৮০ থেকে ৮৬ ডলার। এখন সেটির দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৭৬ থেকে ৮২ ডলারে।
ভারতের আমদানিকারকেরা আগের দরেই সিমেন্ট ক্রয় করতে চাওয়ায় বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরা কম দাম পাচ্ছেন। যেমন—মে মাসে গড়ে এক ডলারের জন্য ৫৫ রুপি দিতে হলেও জুলাই মাসে দিতে হচ্ছে ৬১ রুপি। তাই এখন ভারতীয় আমদানিকারকদের ৮০ ডলারের সিমেন্টের জন্য চার হাজার ৮৮০ রুপি ব্যয় করতে হয়, যেখানে দুই মাস আগে ব্যয় করতে হতো চার হাজার ৪৪০ রুপি। আবার এখন চার হাজার ৪৪০ রুপির বিনিময়ে মিলছে ৭২ ডলার। কিন্তু বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য আবার প্রতি টন সিমেন্টের রপ্তানি মূল্য আট ডলার কমে গেছে।
জানা গেছে, আগে ভারতের সেভেন সিস্টারের আওতাভুক্ত ত্রিপুরা রাজ্যে মাসে প্রায় সাত থেকে আট হাজার টন সিমেন্ট রপ্তানি করত এমআই সিমেন্ট (ক্রাউন ব্র্যান্ড)। এখন তাদের রপ্তানির পরিমাণ নেমে এসেছে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টনে।
জানতে চাইলে এমআই সিমেন্টের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমগীর কবীর প্রথম আলোকে বলেন, সরকার এগিয়ে না এলে বা পণ্যের উৎপাদন খরচ না কমালে ভারতের বাজার ধরে রাখা সম্ভব হবে না। কিন্তু রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে খরচ কমানো সম্ভব নয়।
ত্রিপুরা, মিজোরাম, আসামসহ উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোয় সিমেন্ট রপ্তানি করে এমআই সিমেন্ট, প্রিমিয়ার, কনফিডেন্স, আলট্রাটেক, সেভেন সার্কেল, হোলসিম, টাইগার, আরামিট ও ফ্রেশ সিমেন্ট।
প্রিমিয়ার সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভারতের বাজারে আমাদের দেশের মোট যে রপ্তানির পরিমাণ ছিল, তা আমাদের কোম্পানির মাত্র কয়েক দিনের উৎপাদন। সেই রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেলে সাময়িকভাবে কোম্পানিগুলোর হয়তো খুব বেশি ক্ষতি হবে না। কিন্তু ভারতের বাজারে আমাদের সিমেন্টের যে বাজার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, সেটি আমরা হারাব।’
রপ্তানিকারকেরা বলছেন, ভারতের সেভেন সিস্টার বা ত্রিপুরা রাজ্যে এখন ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হচ্ছে। নতুন নতুন রাস্তাঘাট, ফ্লাইওভারসহ ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। কাজেই বাংলাদেশের সিমেন্ট রপ্তানি বৃদ্ধিরও যথেষ্ট সুযোগ ছিল।
ভারতে বাংলাদেশের সিমেন্ট রপ্তানি কমে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী গোলাম মোহাম্মদ কাদের প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি শুনেছি, ডলারের বিপরীতে রুপির দরপতনের কারণে সিমেন্ট রপ্তানি কমে গেছে। তবে এখনো পর্যন্ত রপ্তানিকারকেরা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানাননি। রপ্তানি বাজার ধরে রাখতে সরকারের সুনির্দিষ্ট কিছু করণীয় থাকলে সরকার তা করতে প্রস্তুত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে রপ্তানিকারকদেরই সুনির্দিষ্ট সুপারিশ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’

শেয়ার করুন