‘আ.লীগ জামায়াতকে নিষিদ্ধ করবে না’

0
62
Print Friendly, PDF & Email

শনিবার বিকালে রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে বিবিসি বাংলা আয়োজিত সংলাপ অনুষ্ঠানে এক দর্শকের প্রশ্নের উত্তরে আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, “জামায়াতের বিরুদ্ধে যথাসময়ে সঠিক সিদ্ধান্তটিই নেয়া হবে।”

ওই দর্শক প্রশ্ন রেখেছিলেন- জামায়াতকে একটি অপরাধী সংগঠন হিসাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে চিহ্নিত করার পর এই দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কি হতে পারে?

অন্যদকে অপর প্যানেল আলোচক বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, “জামায়াতকে আওয়ামী লীগ কখনোই নিষিদ্ধ করবে না। এটা তাদের রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি।”

সংলাপ অনুষ্ঠানে অন্য প্যানেল আলোচকদের মধ্যে ছিলেন ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব শাহ আবদুল হান্নান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন।

এ বিষয়ে গীতি আরা নাসরিনের বক্তব্য: “এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর উপর। কারণ তাদের উপর ভর করেই জামাত টিকে আছে। তাই তারা চাইলে জামাত থাকবে। তারা না চাইলে জামাতের টিকে থাকা সম্ভব না।”

শাহ আবদুল হান্নান বলেন, “দল হিসাবে জামায়াতে ইসলামীকে ব্যান করার কোনো সুযোগ নাই। একাত্তরে জামাত সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে। তা সত্বেও এদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ জামায়াত করে। তাই জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হলে সেটা আইন বিরুদ্ধ হবে।”

আলোচনায় নারীদের দিয়ে সম্প্রতি আহমেদ শফির বক্তব্য প্রসঙ্গটিও উঠে আসে।

আহমেদ শফি নারীদের সম্পর্কে যেসব মন্তব্য করেছেন, তাতে কি তার বিরুদ্ধে সরকারিভাবে ব্যবস্থা নেয়া উচিত?- এমন এক প্রশ্নের জবাবে কামরুল ইসলাম বলেন, “শফি সাহেব যে কথা বলেছেন তাতে করে তার কওমী মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকা বিষয়ে সরকার অবশ্যই বিবেচনা করবে।”

আর শফির বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের এই সমাজে শফি সাহেবরা অনেকদিন থেকেই আছেন। শুধু বিচার করে তাই এই বিষয়টির সুরাহা হবে না। বাংলাদেশের সব নারী এবং মানুষকে একত্রিত হয়ে বিষয়টির সুরাহা করতে হবে।”

আহমেদ শফির বক্তব্য প্রসঙ্গে মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, “বাক স্বাধীনতার অধিকার সবার আছে। তবে কারো কথার পরিপ্রেক্ষিতে যদি কোনো সহিংসতামূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তবে সরকার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।”

তবে ‘ভোটের জন্যই’ হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গীতি আরা নাসরিন বলেন, “শুধুমাত্র একজন শফির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াটা কোনো সমাধান নয়। ওয়াজ মাহফিলসহ বিভিন্ন স্থানে ধর্মের যে অপব্যাখ্যা দেওয়া হয় আর এর মধ্য দিয়ে সঠিক ধর্মশিক্ষাটা যে মানুষের কাছে যাচ্ছে না সে বিষয়ে সরকারের মনোযোগ দেওয়া উচিত।”

শাহ আবদুল হান্নান নারীদের তেঁতুলের সঙ্গে তুলনার বিষয়টি ‘ভুল’ মন্তব্য করে বলেন, “বক্তব্য প্রদানে তুলনার ক্ষেত্রে অন্যান্য আলেমদেরও এ বিষয়ে সাবধান হওয়া উচিত।

পুরো সংলাপ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিবিসি বাংলার সাংবাদিক আকবর হোসেন।

শেয়ার করুন