তারেক রহমানের অপেক্ষায় তৃণমূল

0
148
Print Friendly, PDF & Email

দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটে রাজপথে তারেক রহমান এখন বড় ফ্যাক্টর বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধী দলের ঝিমিয়ে পড়া আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নেয়া এবং বিজয় নিজেদের ঘরে আনতে তারেক রহমানের বিকল্প নেই।

তিনি দেশে এসে দলের হাল ধরলে বিএনপিতে নতুন প্রাণের জোয়ার জাগবে। নেতা-কর্মীরা সাহসী ভূমিকা পালন করবে বলেও মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পরই দলে তারেক রহমানের অবস্থান। বিএনপি নেতাদের অনেকেই বলেছেন, তারেক রহমান দেশে ফিরে যে দলের পুরো দায়িত্ব নিয়ে নেবেন, তা নয়। বেগম খালেদা জিয়ার হাতেই মুল নেতৃত্ব থাকবে। তারেক রহমান সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করার চেষ্টা চালাবেন। এসব নেতারা মনে করেন, অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অভূতপূর্ব সাফল্যের পেছনে গণমুখী চরিত্রের অধিকারী তারেক রহমানের ভূমিকা ও অবদান অনেক বেশি ছিলো।

তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপি নেতাদের চোখে তারেক রহমান অসাধারণ সাংগঠনিক ক্ষমতার অধিকারী। তাই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কৌশল নির্ধারণে বিচক্ষণ এই তরুণ নেতাকে কাছে পেতে অধীর আগ্রহে আছে তৃণমূল বিএনপি।

বিএনপির সিনিয়র নেতাদের অনেকেই বলছেন, আগামী দশম জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের প্রয়োজনে তারেক রহমান নিজেই দেশে ফেরার তাগিদ অনুভব করছেন। বিএনপির এসব নেতাদের তরফ থেকে বারবারই বলা হচ্ছে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টা এখন শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ মতে, ‘তারেক রহমান বাংলাদেশের একজন অত্যন্ত সম্ভাবনাময় তরুণ নেতা। তাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েই চক্রান্তকারীরা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছে। খুব শিগগিরই তারেক রহমান দেশে ফিরে আসবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।’

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিডিপ্রেস ডটনেটকে বলেন, ‘সামনে জাতীয় নির্বাচন বা আন্দোলন, সেখানে দলে তাঁর উপস্থিতি আমাদের কাছে যত না প্রয়োজন, তার কাছে বিষয়টা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের কাছে যদি তিনি না থাকতে পারেন, তা নিয়ে মানসিক পীড়া থাকতেই পারে। সে কারণে তারেক রহমানের আসার আগ্রহ আছে। আর বিষয়টা জোরালো হয়েছে বর্তমান সরকারের নানামুখী নির্যাতনের কারণে।’

আবদুল্লাহ আল নোমান বিডিপ্রেস ডটনেটকে বলেন, ‘তারেক রহমান এদেশের তৃণমূল রাজনীতির নতুন দর্শন দেখিয়েছেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শকে মানুষের মাঝে পৌঁছে দিতে তিনি কাজ করেছেন বলেই তাঁর বিরুদ্ধে এত ষড়যন্ত্র। এ চক্রান্ত রুখে দিয়েই তারেক রহমান দেশে ফিরবেন, বিএনপির হাল ধরবেন। শহীদ জিয়ার দেখানো পথে খালেদা জিয়ার সংগ্রামী রাজনৈতিক ভূমিকার সিঁড়ি বেয়ে তারেক রহমান হবেন এদেশের আগামী রাষ্ট্রনায়ক।’

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব শওকত মাহমুদ বিডিপ্রেস ডটনেটকে বলেন, ‘তারেক রহমান এদেশের মানুষের মনে স্থান করে আছেন। তিনি তৃণমূলে গিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন বলেই তার বিরুদ্ধে এত ষড়যন্ত্র। যতই ষড়যন্ত্র হোক, এদেশের মানুষ তাকিয়ে আছে, কখন তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করবেন। জাতি তার প্রতীক্ষায় আছে।’

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বিডিপ্রেস ডটনেটকে বলেন, ‘তারেক রহমান লন্ডনে চিকিৎসাধীন আছেন। তার দেশে আসা নিয়ে বর্তমান সরকারের এতো ভয় বা আতংকের কারণ একটাই তিনি দেশে আসলেই দেশজুড়ে জনগণ সরকারের দুঃশাসন রুখে দাঁড়াবে। তিনি আরো বলেন, তারেক রহমানকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। অনেক সঙ্কটের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান গণতন্ত্রের জন্য কাজ করছেন। কিন্তু কোনো ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করেও তাঁকে আটকে রাখা যাবে না।’

জাতীয় সংসদের বিএনপি দলীয় এমপি শাম্মী আক্তার বিডিপ্রেস ডটনেটকে বলেন, ‘তারেক রহমান দেশের বিপন্ন গণতন্ত্র নিয়ে যখন কথা বলেছেন, বর্তমান সরকারের বড় বড় মন্ত্রীদের পেটে ভূমিকম্প শুরু হয়েছে; মন্ত্রীরা আবোল-তাবোল বলছেন। তারেক রহমান অবশ্যই দেশে ফিরবেন, মানুষের জন্য তিনি ফিরে আসবেন। রাজনীতি করবেন। নেতৃত্ব দেবেন। দেশ গঠনে নিজেকে আত্মনিয়োগ করবেন।’

জয়পুরহাট জেলার তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপি নেতা জামসেদ আলম বিডিপ্রেস ডটনেটকে বলেন, ‘তারেক রহমান সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপির কর্মী সম্মলন করে দলকে একটা শক্ত অবস্থান দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন বিগত জোট সরকারের সময়ে। এখন বিএনপিতে সে ধরনের কোনো উদ্যোগ নেই। উত্তরবঙ্গের বেশিরভাগ জেলাতেই সাংগঠনিক দুর্বলতা সৃষ্টি হয়েছে। সরকার বিরোধী আন্দোলনেও বিএনপির নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ সেভাবে থাকছে না বলেও জানান তিনি।’

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান এবং এখনো তিনি সেখানেই চিকিৎসারত আছেন।

শেয়ার করুন