নারীদের দেখলে মুখে ‘লালা’ আসার তত্ত্বটি বিজ্ঞানসম্মত

0
95
Print Friendly, PDF & Email

নারীদের দেখলে পুরুষের মুখে ‘লালা’ আসে তত্ত্বটি বিজ্ঞানসম্মত বলে দাবি করেছেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমদ শফী। ওমরাহ হজ শেষে দেশে ফেরার পর গতকাল হাটহাজারী দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় সাম্প্রতিক বিতর্কিত ‘তেঁতুল ও লালা’ বিষয়ে তিনি প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের কাছে। একান্ত আলাপচারিতায় সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আল্লামা আহমদ শফী নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

নারীদের তেঁতুলের সঙ্গে তুলনা করার বিষয়ে আল্লামা শফী বলেন, ‘শুধু উদাহরণ দিতে গিয়ে হয়তো বা নারীদের তেঁতুলের সঙ্গে তুলনা করেছি। নারীদের অপমান বা অপদস্থ করার কোনো চিন্তা-ভাবনা নিয়ে ওই উদাহরণ দেওয়া হয়নি।’

নারীদের তেঁতুলের সঙ্গে তুলনা এবং নারী পোশাকশ্রমিকদের নিয়ে বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘উদাহরণ দিয়ে নারী সমাজকে অপদস্থ বা অপমান করা হয়নি। তাদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য ওই উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। বরং যারা আমার ওয়াজ মাহফিল শুনে তা অনুসরণ করেছেন তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে।’ নারী দেখলে পুরুষের মুখে লালা আসে তথ্যটি বিজ্ঞানসম্মত বলে দাবি করে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন আমেরিকার শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত অনলাইন পত্রিকা ‘ডেইলি মেইল’ প্রতিবেদন থেকে। প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘সুন্দরী নারীদের সংস্পর্শে এলে ব্রেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য পাঠাতে থাকে পিটুইটারি গ্লান্ডে। ফলে পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টরেন হরমোন নিঃসরিত হয়ে থাকে বেশি মাত্রার। এতে মুখে লালা বেড়ে যায়। আর যা তা প্রমাণ করেছেন আমেরিকার গবেষকরা।’ তিনি বলেন, এ গবেষণার ফলাফল দিয়ে পরবর্তীতে প্রতিবেদন করা হয়েছে বিশ্বের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পেপার ডেইলি মেইলের স্বাস্থ্য পাতায়। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হওয়া ভিডিওচিত্রের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শারীরিক অসুস্থতার কারণে দেড় থেকে আড়াই বছর ধরে কোনো ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য দিচ্ছি না। এ ছাড়া আমার কোনো মাহফিলের ভিডিও করতে দেওয়া হয় না। যে ভিডিওচিত্রের কথা বলে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে তা আদৌ আমার কি না, বুঝতে পারছি না। কারণ দীর্ঘ সময় আমি কোনো ওয়াজ করিনি। তাই ভিডিওচিত্রটি আমার কি না তা নিশ্চিত নই। ভিডিওটি আমার হলেও তা অনেক আগের।’

এ বিতর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যে ভিডিওচিত্র বিভিন্ন জায়গায় প্রচার করা হচ্ছে তা এখনো দেখিনি। ডিভিওটি দেখে পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন করে আমার অবস্থান জাতির কাছে তুলে ধরব।’ আল্লামা শফী বলেন, ‘এর আগে অনেক কবি-সাহিত্যিক নারীদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে অনেক কবিতা ও গল্প লিখেছেন। তাদের বিষয়ে কেউ মুখ খোলেনি। কিন্তু আমি উদাহরণ হিসেবে একটা কথা বলায় এটা আমার অপরাধ হয়ে গেছে! আমাকে গ্রেফতারের দাবি তুলছে। মনে হচ্ছে আমি হুজুর হয়ে একটা অপরাধ করে ফেলেছি।’

তিনি আবারও বলেন, ‘নারী দেখলে সব পুরুষের মুখে লালা আসে। যাদের মুখে লালা আসে না, বুঝতে হবে তাদের পৌরুষত্ব নষ্ট হয়ে গেছে।’ আল্লামা শফী কওমি মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন- প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের এমন বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার যোগ্যতা কমেনি। বরং বেড়েছে।’

শেয়ার করুন