মহাজোট সরকারের পরিবর্তন হলে পুরো দক্ষিণ এশিয়া সঙ্কটে পড়বে: মেনন

0
172
Print Friendly, PDF & Email

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, দেশে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক শাসন ও বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতা  যে কোনো মূল্যে ধরে রাখতে হবে। আগামী নির্বাচনে মহাজোট সরকারের পরিবর্তন হলে শুধু বাংলাদেশই নয় পুরো দক্ষিণ এশিয়া সঙ্কটে পড়বে। সেজন্য ভিন্নতা ও দূরত্ব কমিয়ে সংঘবদ্ধ জাতীয় ঐক্য দরকার।

আজ রাজধানীর তোপখানা রোডের শহীদ আসাদ মিলনায়তনে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কার্যালয়ে ‘অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল দল ও মুক্তিযুদ্ধের সকল শক্তিসমূহের ঐক্য গড়ার আহ্বান’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। এসময় তিনি বলেন, আমরা আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। কিন্তু নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। এর সমাধান না হলে আবারো ১/১১ এর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনও সম্ভব। ইতোমধ্যে তা প্রমাণিত হয়েছে।

মেনন বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধীরের বিচারের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে জামায়াতে ইসলামী একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। তাই জামায়াতকে নিষিদ্ধের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। সম্প্রতি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহাজোট সরকারের পরিবর্তন হলে পুরো দক্ষিণ এশিয়া সঙ্কটে পড়বে: মেনন
মহাজোট সমর্থিত প্রার্থীদের ভরাডুবির কারণ হিসেবে তিনি বলেন, একটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়েছিল। নির্বাচনে ব্যাপকভিত্তিক ধর্মকে ব্যবহার করা হয়েছে। বিরোধী দল সমর্থিত প্রার্থীরা এই ইসু্য ব্যবহার করেই জয়লাভ করেছে। তবে সিটি নির্বাচন ইস্যুতে হোজোট ছাড়ার কোন পরিকল্পনা আমাদের নেই। আমরা এখন বর্তমান সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্যের কথা বলছি। তিনি বলেন, আগামীতে হোজোট সরকারের সাফল্যগুলো যদি জনগনের সামনে নিয়ে আসা যায়, ভুলগুলো শুধরানো যায় তাহলে জাতীয় নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়া সম্ভব বলে মনে করি। এজন্য দরকার সরকারের প্রশাসনিক বিন্যাস। এ লক্ষ্যে সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রী পরিষদ বিভাগকে শক্তিশালী করতে হবে।

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক। বক্তব্যে বলা হয়, ২০০৮ সালের নির্বাচনে জনগণ বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে ১৪ দল ও হোজোটকে ধারণাতীতভাবে বিজয়ী করেছিল। কিন্তু অনেক সাফল্যের পরও সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে এককেন্দ্রিকতা, জোট চর্চা না করা, লুটপাট, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব সরকারে সাফল্যগুলোকে ম্লান করে দিয়েছে। সরকারকে জনগণ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে শেয়ার কেলেঙ্কারির কোন প্রতিবিধান না হওয়া, রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টের নামে দুর্নীতি ও দুর্ভোগ, ডেসটিনি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, পদ্মা সেতুর দূর্নীতির ষড়যন্ত্র সহ ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র ও যুব সংগঠনের বিতর্কিত কর্মকান্ড এই দূরত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, আগামী নির্বাচন ও এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল বাম ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তির দৃঢ় সংঘবদ্ধ জাতীয় ঐক্য।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের পলিটব্যুরোর সদস্য ফজলে হোসেন বাদশাহ, বিমল বিশ্বাস, হাজেরা সুলতানা প্রমুখ।

শেয়ার করুন