ছুটির দিনে ঈদ বাজারে ক্রেতাদের

0
141
Print Friendly, PDF & Email

এগিয়ে আসছে ঈদ উল-ফিতর। ঈদ কেনাকাটার ভিড়ে ব্যস্ততাও বাড়ছে নগরীর প্রতটি মার্কেট, বিপনীবিতান,  দোকানপাট এমনকি ফুটপাতগুলোতেও। গতকাল (শুক্রবার) ছুটির দিন হওয়ায় নগরীর প্রতিটি শপিংমল ও মার্কেটগুলোতে প্রচ- রকমের কেনাকাটার ভিড় লক্ষ করা যায। জুম্মার নামাজের পর থেকেই নগরীর প্রতিটি বিপনীবিতানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। সময় যতো গড়াচ্ছে, ততোই জমজমাট হয়ে উঠছে কেনাকাটা। ব্যবসায়ীরা মনে করছে সামনে দিনগুলোতে হরতাল না থাকলে বেচাকেনা আরো বাড়বে। গত চারদিন হরতাালের পর গতকাল নগরীর প্রতিটি মার্কেটের ঈদের কেনাকাটা লক্ষ্য করা যায। রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, নিউমার্কেট, আজিজ সুপার মার্কেট, চাঁদনী চক, রাপা প¬াজা, এআর প্ল¬াজা, এলিফ্যান্ট রোডের দোকানপাট, ফার্মগেটের সব মার্কেট, ফুটপাথ, সেজান পয়েন্ট, গুলিস্তানের পুরো এলাকা, মিরপুর মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, খিলক্ষেতের রাজউক ট্রেড সেন্টার, উত্তরার নর্থ টাওয়ার, রাজলক্ষী কমপ্লে¬ক্সসহ মার্কেটগুলোতে ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। চলতি রমজানের দ্বিতীয় শুক্রবার ছিল গতকাল। ঈদের বাকি আর মাত্র ২২দিন। বিভিন্ন পেশায় মানুষেরা ঈদের কেনাকাটা রমজানের শুরুতেই কেনাকাটা পছন্দ করে। এছাড়াও অধিকাংশ চাকরিজীবীরা পরিবার আগেই বাড়িতে পাঠাবার জন্য রমজানের শুরুতেই ঈদ মার্কেট করে। রাজধানীর সুপার মার্কেটের কেনাকাটা করতে আসা এমনি একজন সরকারী চাকুরীজীবী জানালেন, ভাই দেখছেন তো কেমন ভিড়। একবারের বেশি কথা বলা যায় না। সামনে আরো ভিড় হবে তাই এখনি কেনাকাটা শুরু করছি। দোকানদাররা জানান, ঈদকে সামনে রেখে এবারো নতুন কিছু কেনার ধুম পড়েছে রোজার শুরু থেকেই। তবে হরতালের কারনে গেল সপ্তাহের তেমন কোন বেচাকেনা করতে পারিনি। আজকে একটু ক্রেতাদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে ফলে আমাদের বেচাকেনা ভাল হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সামনে যদি হরতাল না থাকে তাহলে যতোই দিন যাবে ততোই ক্রেতাদের ভিড় বাড়বে। ঈদের অগের দিন পর্যন্ত এরকম ভিড় থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। গতকাল ঢাকার অভিজাত মার্কেট ও বিপণী বিতান থেকে শুরু করে ফুটপাতে কেনাকাটায় মানুষের ঢল লক্ষ্য করা যায়। প্রতিটি মার্কেটে মানুষের ভিড় লক্ষ্যণীয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে। ক্রেতাদের ভিড় সামাল দিতে অনেক মার্কেটেই দোকানিদের হিমশিম খেতে দেখা গেছে। সন্ধ্যার পর ভিড় আরো বাড়বে বলেও জানান দোকানিরা। দেশি কাপড় ও ডিজাইনারদের তৈরি পোশাকের বুটিক হাউসগুলোতে ভিড় বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বেশিরভাগ ক্রেতাই পছন্দের জামা, শাড়ি, পাঞ্জাবি কিনছেন। মহাখালীর নাখালপাড়া থেকে নিউমার্কেটে ঈদের কেনাকাটা করতে সপরিবারে এসেছিলেন আকতার। তিনি জানান, রোজার শেষের দিকে ভিড় হবে এবং দামও বেড়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কার কথা চিন্তা করে অনেকেই এখনই কিনে নিচ্ছেন।  এদিকে শুক্রবার শপিং অনেকের করতে আসা যানজটে আটকা থাকতে হয়েছে অনেক সময়। গত চারদিন একটানা হরতাল থাকার কারনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে অনেকে কেনাকাটার পর ইফতারি ঠিক মত করতে পারেনি। নগরীর প্রতিটি রাস্তায় যানজটের লক্ষ করা যায়। একদিকে হরতালের পরবতী দির আবর শুক্রবার সরকারী বেসরকারী ছুটির দিন হওয়ার অনেকে তাদের গাড়িসহ কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। একটি আবাসন কোম্পানির কর্মকর্তা আলামীন জানালেন ঈদ ছুটি পাবো মূলত দুই একদিন আগে তখন তো আর কেনাকাটা করা যায় না। তাই এখন পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করে নিচ্ছি। সরকারী বেসরকারী সকল প্রতিাষ্ঠনের ছুটির দিন হওয়ায় চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সব বয়সী-পেশার মানুষকে দেখা গেছে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় কাটাতে। রাস্তা-ফুটপাতজুড়ে ঈদের কেনাকাটা জমে ওঠায় নগরীতে ছুটির দিনেও যানজটও ছিল মাত্রাতিরিক্ত। ফার্মগেট, এলিফ্যান্ট রোড, পান্থপথ, শাহবাগ, উত্তরা, গুলিস্থানসহ প্রায় এলাকার রাস্তার উভয়পাশে শত শত গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। নিউমার্কেট এলাকায় প্রায় অচলাবস্থা ছিলো সকাল থেকেই। অনেকই গাড়ি বা মোটরসাইকেল নিয়ে কেনাকাটা করতে এসে গাড়ি পার্কিং করার জায়গা পাননি। শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে গাড়ি পার্কিংয়ের ফলে যানবাহন চলাচল করতে অসুবিধা তৈরি হয়েছে। গুলিস্থানের কোনো কোনো রাস্তায় পার্কিং করার মতোও জায়গা দেখা যায়নি। গতকাল শুক্রবার হওয়ার কারণে নগরীর প্রতিটি বিপনীবিতানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। সাধারণত নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষেরা ফুটপাথের ক্রেতা। রাজধানীর বিলাসবহুল শপিং মলগুলোতে বিত্তশালীরা সপরিবারের নিয়ে কেনাকাটা করছেন। ঈদ যতোই এগিয়ে আসছে, বেচা-কেনা ততোই বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান বায়তুল মোকাররম মসজিদের পশ্চিম পাশে ফুটপাথে পসরা সাজিয়ে বসা পাঞ্জাবির দোকানি হালিম। তিনি জানালেন, আজ ভালই বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন যদি সামনে কোন দলের হরতাল না থাকে তাহলে আজকের মত প্রতিদিন তথা ঈদের আগের দিন পর্যন্ত  বিক্রি বেশি হয় বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

শেয়ার করুন