বিএনপি ক্ষমতায় এলে নতুন ধারার দূর্নীতি শুরু করবে : প্রধানমন্ত্রী

0
101
Print Friendly, PDF & Email

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আবারও নৌকায় ভোট দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল (শুক্রবার) বিকালে সবুজবাগ ও মুগদা থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এই আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা ২০০৮ সালের নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করেছিলেন। আমরা জনগণের কাছে যে ওয়াদা করেছিলাম, সে অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। কিছু কাজ অসমাপ্ত আছে। অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করতে আবারও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে হবে। তাই, আমাদের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে আগামীতেও নৌকায় ভোট দিন।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি দুর্নীতি লুটপাট, মানুষ খুন, জঙ্গিবাদ ছাড়া আর কোনো উন্নতি করতে পারেনি। দুর্নীতি করতে তারা হাওয়া ভবন খুলে বসেছিল। এখন আবার খালেদা বলছে, ক্ষমতায় আসলে নতুন ধারার সরকার চালু করবেন। ক্ষমতায় আসলে বিএনপি মূলত নতুন ভবন খুলে দুর্নীতি শুরু করবে। তারা দেশের উন্নয়ন চায় না। আগামী নির্বাচনে লুটেরা ও দুর্নীতিবাজরা যাতে আর ক্ষমতায় আসতে না পারে, সে জন্য দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপি সরকার বিগত সময়ে দেশে সন্ত্রাসী ক্যাডার বাহিনী, জঙ্গিবাদ, হাওয়া ভবন সৃষ্টি করেছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছিল। গ্যাস, বিদ্যুতের উৎপাদন কমে গিয়েছিল। ২০০১ সালে চার হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রেখে গিয়েছিলাম। তারা উৎপাদন কমিয়ে তিন হাজার ২০০ মেগাওয়াট করেছিল। জনগণকে গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকাকে পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ঢাকা শহরটাকে বসবাসযোগ্য করতে চাই। সায়েদাবাদে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট চালু করেছি। খিলগাঁওতেও করা হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, ৯৬ সালে সরকার গঠন করে ৩০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ হাতে নিয়েছিলাম। বিএনপি এসে সেগুলো লুটপাট করেছে। এবার আবার ক্ষমতায় এসে এক লাখ ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ হাতে নিয়েছি। আবার বিএনপি আসলে সে কাজ বন্ধ করে দেবে। তাই, নৌকা মার্কায় ভোট দিন।
রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা (বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট) কথায় কথায় ‘নাস্তিক’ ‘আস্তিক’ বলেন। আমরা নামাজ পড়ে হই-নাস্তিক, আর যাদের ফজর হয় দুপুর ১২টায়, তারা নাকি আস্তিক! মতিঝিলে হেফাজতের সমাবেশের দিন ধ্বংসযজ্ঞের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ মে বিএনপি-জামায়াত-হেফাজতের সন্ত্রাসীরা হাজার হাজার কোরআন শরীফ পুড়িয়েছে। মসজিদের জায়নামাজে আগুন দিয়েছে। মূলত বিএনপি এবং জামায়াত এ ধ্বংসজজ্ঞ চালায় বলে জানান হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুগদা ও তার আশপাশের এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। আজকে এ হাসপাতাল নির্মাণের ফলে তারা ঘরের কাছে সবধরনের চিকিৎসা সেবা পাবেন। এখানে একটি নার্সিং ইনস্টিটিউটও করা হবে বলে জানান তিনি। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমরা সক্ষম হয়েছি। বাংলাদেশকে আমরা আর্থ-সামাজিকভাবে উন্নত করব। ছেলে-মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করব। একে একে ৫টি মৌলিক চাহিদা পূরণ করব। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি আমরা নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থা করেছি। ঢাকায় ১১টি স্কুল-কলেজ নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলাম। ইতোমধ্যে, বেশ কয়েকটির কাজ শেষ হয়েছে। আমরা দেশটাকে উন্নত করতে চাই। শুধু ছাত্রীদের নয়, আগামীতে ক্ষমতায় আসলে ছাত্রদেরও উপবৃত্তি দেয়া হবে বলে। এ সময় খালেদাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, যারা নিজেরা ম্যাট্রিক পাস করতে পারেন নাই, তারা জাতির শিক্ষা চাইবেন কী করে!
তিনি বলেন, এখন একজন দিনমজুর দৈনিক যে আয় করেন, তা দিয়ে আট থেকে দশ কেজি চাল কিনতে পারেন। বিএনপির সময় রিকশাওয়ালারা দিনে ৭০ থেকে ৮০ টাকা আয় করতেন। এখন আয় করছেন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। দেশের মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি হয়েছে। যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আগেই দেশকে কলঙ্কমুক্ত করতে হবে। আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছি। শহীদদের আত্মা শান্তি পাচ্ছে। বিচার কাজে আপনাদের সহযোগিতা চাই। আসুন, বিএনপি-জামায়াত ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করি। এর আগে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মুগদা জেনারেল হাসপাতাল উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
স্থানীয় এমপি সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক এবং আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।

শেয়ার করুন