৪৩০ পদের বিপরীতে ৯৪৪ জন যুগ্ম সচিব

0
102
Print Friendly, PDF & Email

পদ না থাকলেও গতকাল বৃহস্পতিবার যুগ্ম সচিব পদে আরও ৩২৬ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। ফলে ৪৩০টি পদের বিপরীতে এখন যুগ্ম সচিবের সংখ্যা দাঁড়াল ৯৪৪। একই কারণে উপসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পর্যন্ত কর্মকর্তার সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গেছে। এ ছাড়া লিয়েনে থাকা আরও ১৯ জন উপসচিবকে যুগ্ম সচিব করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, সবাইকে খুশি রাখতে সরকারের মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে নতুন বিসিএস ব্যাচ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আগেরবার বঞ্চিত বেশ কিছুসংখ্যক কর্মকর্তাকেও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। ফলে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এই পদে একসঙ্গে অনেক বেশি কর্মকর্তার পদোন্নতি হলো। এর পরও কিছু কর্মকর্তা বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পদোন্নতি পেলেও পদ পাচ্ছেন না কর্মকর্তারা। জনপ্রশাসনসচিব আবদুস সোবহান সিকদার জানিয়েছেন, পদ না থাকায় যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের আগের পদেই থাকতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, আগে কয়েক দফা পদোন্নতি দেওয়ার সময়ই ভারসাম্যটা নষ্ট করে ফেলা হয়েছিল। নতুন পদোন্নতির কারণে ভারসাম্যহীনতা আরও বাড়বে। তবে আগেরবার যাঁরা বঞ্চিত হয়েছিলেন, তাঁদের পদোন্নতি দেওয়াটা ভালো দিক।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে উপসচিবের পদ আছে ৮৩০টি। এই সরকারের আমলে কয়েক দফা পদোন্নতির ফলে কর্মরত উপসচিব হয়ে গেছেন দ্বিগুণেরও বেশি, এক হাজার ৭০৯ জন। সর্বশেষ গত মার্চে এই পদে ১৮২ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। অতিরিক্ত সচিবের ১০৭টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৪০ জন। বর্তমানে সচিব আছেন ৭০ জন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বলছে, কয়েক মাস ধরেই যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়ার আলোচনা চলছিল। এই পদটি সরকারের নীতিনির্ধারণী পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ জন্য যাঁরা পদোন্নতি পেয়েছেন, তাঁদের খুশির সীমা নেই। এবার পদোন্নতি পাওয়া বেশির ভাগ কর্মকর্তাই বিসিএস ১৯৮৬ ব্যাচের। তবে গত বছরের ফেব্রুয়ারির পদোন্নতিতে বাদ পড়া ১৯৮৫ ব্যাচের বেশ কিছু কর্মকর্তা এবার পদোন্নতি পেয়েছেন। তবে এবার ’৮৫ ও ’৮৬ ব্যাচের পদোন্নতির দাবিদার কিছু কর্মকর্তাও বাদ পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হওয়া ’৮৪ ব্যাচের বেশ কিছু কর্মকর্তাও বাদ পড়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই ব্যাচের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, তিনি বিগত বিএনপি সরকারের আমলে জেলা প্রশাসক ছিলেন। এসএসসি ও এইচএসসিতে মেধা তালিকায় স্থান ছিল তাঁর। তিনি পঞ্চমবারের মতো বঞ্চিত হয়েছেন।
অন্য সময়ের মতো এবারও পদোন্নতিবঞ্চিতদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, যোগ্য ও মেধাতালিকায় এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও তাঁদের পদোন্নতিবঞ্চিত করে দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রথম আলোকে বলেন, পদোন্নতির জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও বিগত কয়েক বছরে অধিকাংশ পদোন্নতি ও নিয়োগের ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি অনুসরণ করা হয়নি। তবে জনপ্রশাসনসচিব সোবহান সিকদার দাবি করেন, যোগ্য কর্মকর্তাদেরই পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
নিচের স্তরে পদ ফাঁকা: ওপরের স্তরে পদের চেয়ে কর্মকর্তার সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত হলেও নিচের স্তরের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব ও সহকারী সচিব (মাঠপর্যায়ে সহকারী কমিশনার) পর্যায়ে এখনো অনেক পদ ফাঁকা। বর্তমানে জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব আছেন এক হাজার ৪৩০ জন। কিন্তু পদ আছে প্রায় এক হাজার ৮০০। সহকারী সচিব (মাঠপর্যায়ে সহকারী কমিশনার) আছেন ৯৩৪ জন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলেছে, এই পদে দরকার আরও ৬০০ থেকে ৭০০ কর্মকর্তা।
নিচের স্তরে কর্মকর্তার অভাবে সহকারী কমিশনারের (এসি ল্যান্ড) প্রায় অর্ধেক পদই এখন শূন্য।

শেয়ার করুন