ঈদের পর ৯ পৌরসভার নির্বাচন

0
75
Print Friendly, PDF & Email

ঈদুল ফিতরের পর দেশের নয় পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তিন ধাপে এসব নির্বাচন হবে। আগামী সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কমিশন। তিন ধাপে ভোটগ্রহণের জন্য কমিশনকে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিভাগ। প্রথম ধাপে আগামী ২৯ আগস্ট ভোটগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ৪ আগস্ট চার সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে এ নয় পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৫ জুন চার সিটিতে নির্বাচন হলেও বাদ রয়ে যায় এ নয় পৌরসভা। ঈদের পর আগস্টের শেষ সপ্তাহ, সেপ্টেম্বরের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে এসব পৌরসভায় ভোটগ্রহণের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। পৌরসভা আইন অনুযায়ী আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পৌরসভাগুলো হচ্ছে- মানিকগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, শরীয়তপুর, রাজশাহীর নওহাটা, বগুড়ার দুপচাঁচিয়া, গাজীপুরের শ্রীপুর, ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া, সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড। কমিশন কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পৌরসভার প্রথম বৈঠকের পর থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা ও শরীয়তপুর পৌরসভার প্রথম বৈঠক ২০০৮ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। আইন অনুযায়ী আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা ও শরীয়তপুর পৌরসভায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে হবে। এ দুই পৌরসভায় ২৯ আগস্ট ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। পৌরসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণের অন্তত ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করার রেওয়াজ রয়েছে। এ সময়ে মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহার ও প্রচারণা চালিয়ে থাকেন প্রার্থীরা। এ হিসাবে আগামী সপ্তাহে কমিশনকে পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে হবে। বগুড়ার দুপচাঁচিয়া পৌরসভা নির্বাচন আগামী ৮ সেপ্টম্বর ও রাজশাহীর নওহাটা পৌরসভায় আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এবং গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার নির্বাচন ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ তিনটি পৌরসভায় আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ভোটগ্রহণ করা হতে পারে। একই মাসে চুয়াডাঙ্গা, মানিকগঞ্জ, ফুলবাড়িয়া, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ ও সীতাকুণ্ডে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইসি সূত্র জানায়, সবকটি পৌরসভা ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। প্রতিটি পৌরসভায় ৯ কাউন্সিলর ও তিন নারী কাউন্সিলর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ৩৮ হাজার ২০৫ জন ভোটার সংবলিত রাজশাহীর নওহাটা পৌরসভায় ১৬টি ভোট কেন্দ্র ও ১১৬ ভোটকক্ষ রয়েছে। এ পৌরসভায় ২০০৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এ পৌরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। বগুড়ার দুপচাঁচিয়া পৌরসভার ভোটার সংখ্যা ১৫ হাজার ১৬৫ জন, ভোট কেন্দ্র ৯টি ও ভোটকক্ষ ৪২টি। ২০০৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর এ পৌরসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর পৌরসভার মেয়াদ শেষ হবে। ৫৫ হাজার ৭৩০ জন ভোটারসংবলিত গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভায় ভোট কেন্দ্র ১৯ ও ভোটকক্ষ ১২৭টি। এ পৌরসভায় প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। বর্তমান পরিষদের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর। মানিকগঞ্জ পৌরসভায় ২০০৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর মেয়াদ শেষ হবে। এ পৌরসভায় ৪৭ হাজার ৭৬৯ জন ভোটার, ভোট কেন্দ্র ২৩ ও ভোটকক্ষ ১০২টি। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া পৌরসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ২০০৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর। এ পৌরসভায় ১৭ হাজার ২৬৬ জন ভোটার, ১০টি ভোট কেন্দ্র ও ৫৫টি ভোটকক্ষ। গোপালগঞ্জ পৌরসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ২০০৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর। এ পৌরসভায় ১৮ হাজার ৩২১ জন ভোটার, ভোট কেন্দ্র ৯ ও ভোটকক্ষ ৫০টি। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভায় প্রথম বৈঠক হয় ২০০৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর। এ পৌরসভায় ২৯ হাজার ৬৬৮ জন ভোটার, ভোট কেন্দ্র ১৩ ও ভোটকক্ষ ৬৯টি। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নির্বাচন কমিশনার মোঃ শাহনেওয়াজ যুগান্তরকে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণের দিন তারিখ সবাইকে জানানো হবে।

শেয়ার করুন