নগরকান্দার মেয়র খোকনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

0
94
Print Friendly, PDF & Email

ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র ও বিএনপির নেতা জাহিদ হোসেন ওরফে খোকন রাজাকারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালের মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব–্যনাল এ আদেশ দেন। ৩০ জুলাই এ মামলার অভিযোগের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে সব ডকুমেন্ট আসামিপক্ষকে দাখিল করতে রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেন ট্রাইব–্যনাল। আদেশ হওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মোকলেসুর রহমান বাদল সাংবাদিকদের বলেন, নগরকান্দা পৌর বিএনপির সহসভাপতি জাহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, ধর্মান্তর করাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ১১টি অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বলেন, জাহিদ হোসেন একজন স্বঘোষিত রাজাকার। তিনি (জাহিদ) বলেছেন আমি রাজাকার ছিলাম, আছি, রাজাকার হিসেবেই মারা যেতে চাই। আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বিএনপির এ নেতার বিরুদ্ধে একাত্তর সালে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, ধর্মান্তরিত করণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ১১টি অভিযোগ আনা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়, একাত্তর সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী রাজাকার হিসেবে জাহিদ হোসেন খোকন লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, আটক, নির্যাতন, ধর্মান্তরকরণ, ধর্ষণ, হত্যাসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার নগরকান্দায় এসব অপরাধ সংঘটিত করেন।
বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থেকে জাহিদ হোসেন খোকন জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন। ১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেন। খোকন রাজাকার ফরিদপুরে আরেক মানবতাবিরোধী অপরাধী ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আবুল কালাম আজাদ বাচ্চু রাজাকারের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন।
স্বাধীনতার পরে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। সর্বশেষ নগরকান্দা বিএনপির সহ সভাপতির পদে থেকে নগরকান্দা পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। তবে মেয়র হিসেবে শপথ নেয়ার পর থেকে তিনি পলাতক। তিনি এলাকায় খোকন রাজাকার নামে পরিচিত।
২৩ জুন ট্রাইব–্যনালের রেজিস্ট্রারের কাছে খোকন রাজাকারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকউটর মোখলেসুর রহমান বাদল। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানানো হয়। এর আগে ২৯ মে তার বিরুদ্ধে ১৩টি অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে তদন্ত শেষ করে তদন্ত সংস্থা চিফ প্রসিকিউটর বরাবর তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত কর্মকর্তা সত্য রঞ্জন রায় এ মামলার তদন্ত করেন। ২০১২ সালের ১৬ এপ্রিল শুরু হয়ে ২৮ মে শেষ হয় তদন্ত। তদন্তকালে এ মামলায় ৭৮ জনের বেশি লোকের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৫০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

শেয়ার করুন