গ্রেফতারকৃত ৫ পুলিশ জেলহাজতে পৃথক ২টি তদন্ত কমিটি গঠন

0
84
Print Friendly, PDF & Email

নিরীহ তিন রিকশাচালককে বিনাদোষে আটক করে অবৈধভাবে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার পাঁচ পুলিশ সদস্যকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে শেরেবাংলা নগর থানার এসআই আকতার হোসেন ও এএসআই জাহিদুল ইসলামসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে আদালতে পাঠালে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও এক পুলিশ সদস্য পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার বিপ্লব সরকার যুগান্তরকে বলেন, পুলিশ আইনের রক্ষক। আর সেই পুলিশ যদি অপরাধ করে অবশ্যই তা ক্ষমাযোগ্য নয়। আইন সবার জন্যই সমান। সাধারণ মানুষ যে অপরাধ করে পুলিশ করলে সাজা আরও বেশি হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। তিনি জানান, ওই পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেছেন বাদী।
তাছাড়া তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেয়া হবে বলে জানান তিনি। রিকশা চালক উজ্জল ঠিকাদার বলেন, প্রথমে ১৩০ টাকা পকেট থেকে ছিনিয়ে নেয় এক পুলিশ সদস্য। এর পরই আমাকে জোরপূর্বক টেনে তোলে মাইক্রোবাসে। পুলিশ বলে, ২ লাখ টাকা দিবি, নইলে ফেনসিডিল মামলায় জেলে যাবি। পুলিশ জানায়, রিকশা চালক উজ্জল বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার এসআই আকতার হোসেন, এএসআই জাহিদুল ইসলাম, কনস্টেবল আবদুস সালাম, জহুরুল ইসলাম, আবদুল্লাহ ও ইকরামুল হকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে টাকা নেয়ার অভিযোগে দ্রুত বিচার আইনে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই ৬ পুলিশ সদস্য শেরেবাংলা নগর থানার সিভিল টিমের সদস্য।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, এসআই আকতার হোসেন, এএসআই জাহিদুল ইসলাম, কনস্টেবল আবদুস সালাম, জহুরুল ইসলাম, আবদুল্লাহ ও ইকরামুল হক বুধবার বেলা ১১টার দিকে একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করে ধানমণ্ডি এলাকায় যায়। ধানমণ্ডি মেডিনোভার সামনে রিকশা চালক উজ্জলকে আটক করে। ওই সময় তার কাছে থাকা ১৩০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে মাইক্রোবাসে উঠানো হয়। তার রিকশাটি সেখানে তালা দিয়ে রাখে পুলিশ। উজ্জল এজাহারে বলেছেন, তাকে গাড়ির ভেতরে মারধর করে ও ফেনসিডিল মামলায় ঢুকিয়ে চালান দেয়ার ভয় দেখিয়ে ২ লাখ টাকা দাবি করে। মোহাম্মদপুরের ভাঙ্গা মসজিদ হাউজিং এলাকার আলমের বাড়ির ভাড়াটিয়া উজ্জল। পুলিশ তাকে তার বাসায় নিয়ে যায়। তার ঘর তল্লাশি করে কোনো টাকা-পয়সা না পেয়ে তার গ্রাম থেকে আসা আনোয়ার ও খলিল এবং পাশের কক্ষের আক্কাস মাতবর ও মাসুদসহ উজ্জলকে মাইক্রোবাসে উঠায়। এর আগে আক্কাসের কাছ থেকে ৪৫০ টাকা, খলিলের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা ও আনোয়ারের কাছ থেকে ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় ওই পুলিশ সদস্যরা। মাইক্রোবাসে উঠিয়ে তাদের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। দুই লাখ টাকা দিলে তাদের ছেড়ে দেয়া হবে নইলে ফেনসিডিল মামলায় চালান দেয়ার হুমকি দেয় পুলিশ সদস্যরা। বেলা ১টার দিকে তাদের বাণিজ্য মেলার মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে আনোয়ার ও খলিলকে ছেড়ে দেয়। বাকি তিনজন উজ্জল, মাসুদ ও আক্কাসের স্বজনদের কাছে ফোন করিয়ে টাকা আনতে বলে পুলিশ সদস্যরা। উজ্জল জানান, বিকাল ৫টার দিকে তার ভাই বিন্দাবন বিকাশের মাধ্যমে (নম্বর-০১৮২১২০৪২৫১) ১৩ হাজার টাকা এবং মাসুদের স্ত্রী নার্গিস ১০ হজার টাকা দেয় দুদফায়। পুলিশ সদস্যরা তাদের স্বজনদের ফোন দিয়ে বলে, রাতের মধ্যে আরও ২৭ হাজার টাকা দিতে। আর বাকি দেড় লাখ টাকা আদালতে পাঠানোর আগে না দিলে আটক ৩ জনকেই ৬ মাস পঙ্গু হাসপাতালে থাকতে হবে। ৬/৭ বছর থাকতে হবে জেলে। রাত ৯টার দিকে তাদের নিয়ে আগারগাঁও বাজারে টাকার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে ওই ৬ পুলিশ সদস্য। এর মধ্যে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান উজ্জলের ভাই। তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব সরকার জানান, খবর পেয়ে আগারগাঁও বাজারে গিয়ে ওই তিনজনকে উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয় এসআই আকতার হোসেন, এএসআই জাহিদুল ইসলাম, কনস্টেবল জহুরুল ইসলাম, আবদুল্লাহ ও ইকরামুল হককে। আবদুস সালাম পালিয়ে যায়। উপ-কমিশনার জানান, নিজেদের ডিউটি বাদ দিয়ে তারা শেরেবাংলা নগর থানা এলাকার বাইরে গিয়ে চাঁদাবাজি করেছে। রাতেই তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়। তিনি বলেন, যেহেতু বাদী মামলা করেছে সেহেতু তদন্ত করার দরকার ছিল না। তবে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ওয়াহেদুল ইসলামকে প্রধান করে ২ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২ দিনের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত রিপোর্ট দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন