সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিএনপির ২১ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

0
74
Print Friendly, PDF & Email

কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি এয়ারভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে প্রধান আসামি করে বিএনপির ২১ নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

সংখ্যালঘু নির্যাতন, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে এ মামলা করা হয়।

২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ের সহিংস ঘটনা উল্লেখ করে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানায় বুধবার গভীররাতে এ মামলাটি দায়ের করেন আলতাফ চৌধুরীর নিজ এলাকা উপজেলার কাঠালতলী ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের কিরণ চন্দ্র সরকার। মামলার নম্বর নয়, তারিখ ১৭ জুলাই ২০১৩।

মামলার বাদী কিরণ চন্দ্র সরকার মাধবখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক।

মামলার অপর আসামিরা হলেন-আলতাফ চৌধুরীর দুই ভাই বাবুল চৌধুরী ও শাহিন চৌধুরী, ফিরোজ, বারেক, মনির খোন্দকার, খালেক শিকদার, নুরু মাস্টার, শাহনেওয়াজ, পলাশ, জব্বার, জয়নাল, দেলোয়ার, সেলিম খা, হাবিব হাওলাদার, মজিবর, শহিদ, মজিবব হাওলাদার, বাবলু মোল্লা, সুমন তালুকদার এবং খলিলুর রহমান।

এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বরাত দিয়ে মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবির মোহাম্মদ বাংলানিউজকে জানান, ২০০২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে ওই ২১ জনসহ বেশ কয়েকজন কাঠালতলী ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামের কাজী জুলফিকার আলীর ছেলে কাজী রফিকুল ইসলামের বাড়িতে জোড় করে ঢুকে পড়েন।

আওয়ামী লীগের সমর্থক হওয়ায় এসময় কাজী রফিককে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নির্দেশে তার ভাই শাহিন ও বাবুল চৌধুরী এবং শাহনেওয়াজ, পলাশসহ অন্যরা মিলে মারধর করেন। একপর্যায়ে কাজী রফিকের বাসায় ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। এসময় ৫০ হাজার টাকার মালপত্র লুট করে নিয়ে যান তারা।

মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, তারা বাসা ভাঙচুর ও লুটপাট করে যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগের আরেক সমর্থক কাজী মিজানকে দেশি অস্ত্র দিয়ে মারধর করেন।

এসময় মিজানের চিৎকার শুনে ছাত্রলীগ কর্মী কিরণ তাকে বাচাতে এগিয়ে গেলে আলতাফ চৌধুরীর নির্দেশে কিরণকেও মারধর করেন তারা।

এসব ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে ওসি জানান।

এতোদিন পরে কেন মামলা দায়ের করা হলো এমন প্রশ্নের জবাবে মামলার বাদী কিরণ বাংলানিউজকে বলেন, ‘‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হয়েছে এবং তাদেরই এ মামলা দায়ের করার কথা ছিল। কিন্তু এতোদিনেও কেন তারা মামলা করেনি তা আমার বোধগম্য নয়।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘যেহেতু আমি নির্যাতনের শিকার হয়েছি, তাই কোনো উপায় না দেখে দলীয় ফোরামে আলাপ করেই আমি বিলম্বে মামলা দায়ের করতে বাধ্য হয়েছি।’’

মামলার প্রধান আসামি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, ‘‘এটি একটি রাজনৈতিক মামলা। সামনে জেলা বিএনপির বড় ধরনের ইফতার পার্টির আয়োজন ছিল গোটা জেলায়। এটাকে বানচালের উদ্দেশে ও পাঁচ সিটি নির্বাচনের ফলাফলে কাবু হয়ে আওয়ামী লীগ এসব নোংরামি করছে।’’

শেয়ার করুন