তারেককে আনার দায়িত্ব দুদকের নয়

0
32
Print Friendly, PDF & Email

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব সরকারের। দুর্নীতির মামলায় আদালত তার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও তাকে ফিরিয়ে আনার এখতিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেই।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সেগুনবাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কার্যালয়ে মাসিক ব্রিফিংয়ে প্রতিষ্ঠানটির সচিব মো: ফয়জুর রহমান চৌধুরী এ কথা বলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “তারেকের মামলা পরিচালনা করেছে দুদক। এখন এটা আদালতের বিষয়।”

সচিব বলেন, ‘‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসছে তারেককে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে-তারেককে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব দুদকের নয়। এটা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।’’

তিনি বলেন, ‘‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা তারেকের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করি। গ্রেফতারের দায়িত্ব এখন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর।’’

“আইন অনুযায়ী মামলা পরবর্তী তদন্তে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তার ক্ষমতা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার(ওসি) মতো রয়েছে এবং সে ক্ষমতা অনুযায়ী দুদক আসামিকে গ্রেফতারের ক্ষমতাও রাখে। তারেকের বিরুদ্ধে দুদকের গ্রেফতারের ক্ষমতা থাকলেও এখন সে অবস্থান থেকে সরে আসার কারণ কি?”- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তর সরাসরি না দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এখন বিষয়টি আদালত দেখছেন। আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এটি চলবে।’’

প্রসঙ্গত, দুদকের পক্ষে গত ২৬ মে ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল দুর্নীতি মামলায় তারেক রহমানকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আন‍ার আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. মোজাম্মেল হক আবেদনটির ওপর শুনানি গ্রহণ করেন। এরপর তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ইংরেজিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতার করে এ মামলায় আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন।

ওই মামলার বিবরণ থেকে ‍জানা যায়, টঙ্গীতে প্রস্তাবিত ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য নির্মাণ কন্সট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের মালিক খাদিজা ইসলামের কাছ থেকে গিয়াসউদ্দিন আল মামুন ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা নেন। সিঙ্গাপুরে এ টাকা লেনদেন হয়। এরপর মামুন ওই অর্থ সিঙ্গাপুরের ক্যাপিটাল স্ট্রিটের সিটি ব্যাংক এনএতে তার নামের ব্যাংক হিসাবে জমা করেন। এ টাকার মধ্যে তারেক রহমান তিন কোটি ৭৮ লাখ টাকা খরচ করেন বলে মামলায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর ক্যান্টনমেন্ট থানায় এ মামলা করে দুদক।

২০১০ সালের ৬ জুলাই তারেক রহমান ও গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর অভিযোগপত্র দাখিলের ১ বছর পর ২০১১ সালের ৮ আগস্ট এ মামলার অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

শেয়ার করুন