দুই দেশের স্বরাষ্ট্র সচিবদের বৈঠক শুরু হচ্ছে আজ

0
104
Print Friendly, PDF & Email

বাংলাদেশ ও ভারতের স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের চার দিনের বৈঠক আজ বৃহস্পতিবার দিল্লিতে শুরু হচ্ছে। আলোচ্যসূচিতে সীমান্ত-ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোতে অগ্রাধিকার থাকলেও এবারকার বৈঠকে গুরুত্ব পাবে বাংলাদেশের কারাগারে থাকা উলফার নেতা অনুপ চেটিয়াকে ভারতে হস্তান্তরের বিষয়টি।
এদিকে অনুপ চেটিয়াকে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করে সম্মানজনকভাবে ভারতের কাছে হস্তান্তরের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফা) একাংশ। ১৫ জুলাই পাঠানো এক চিঠিতে এই অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. কামাল উদ্দীন গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবদের বৈঠকে সীমান্ত-ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া নিরাপত্তা সহযোগিতা-সংক্রান্ত চুক্তির অগ্রগতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হবে। এসব বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য বিষয়গুলো নিয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করবে। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে মানবপাচার রোধের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খসড়া চূড়ান্ত করা নিয়ে আলোচনা হবে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অণু বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার উভয় দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবদের নেতৃত্বে যৌথ কর্মদলের বৈঠক হবে। এরপর শুক্রবার বৈঠকে বসবেন স্বরাষ্ট্রসচিবেরা। মাঝখানে শনি ও রোববার বিরতি দিয়ে আগামী সোমবার সংক্ষিপ্ত বৈঠক ও যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের এই বৈঠক শেষ হবে।
ঢাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই আলোচনায়, সীমান্ত-ব্যবস্থাপনার আলোচনায় ’৭৪-এর সীমান্ত চুক্তির প্রটোকল বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই সই হওয়া সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (সিডিএমপি) প্রয়োগ কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা-ও পর্যালোচনা করা হবে। এ ছাড়া সীমান্তে নিরপরাধ লোকজনের হত্যা বন্ধের বিষয়ে বাংলাদেশ বরাবরের মতো জোরালো অবস্থান তুলে ধরবে।
নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে মাদক, মানব ও অস্ত্র পাচার বন্ধ নিয়ে আলোচনা হবে। নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হিসেবে উভয় দেশই পালিয়ে থাকা চিহ্নিত অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়ে তালিকা বিনিময় করবে। নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করতে ইতিমধ্যেই বন্দী বিনিময় চুক্তিসহ চারটি চুক্তি সই হয়েছে। এসব চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং শান্তিপূর্ণ সীমান্ত প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ নিয়েও আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রথম আলোর নয়াদিল্লি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ভারতের পক্ষ থেকে আলোচনায় সীমান্ত প্রটোকল বাস্তবায়নের অগ্রগতির বিষয়ে প্রাধান্য দেওয়া হবে। ভারতের পক্ষ থেকে বৈঠকের খসড়া আলোচ্যসূচির এক নম্বর বিষয় এটাই।
‘অনুপ চেটিয়াকে দর-কষাকষির হাতিয়ার নয়’: ভারতে থাকা বাংলাদেশের সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও সাজ্জাদ হোসেনকে হস্তান্তরের বিনিময়ে উলফার নেতা অনুপ চেটিয়াকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে ভারতের গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। ওই খবরের পরিপ্রেক্ষিতে উলফার একাংশের চেয়ারম্যান অভিজিত আসাম ১৫ জুলাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে অনুপ চেটিয়াকে দর-কষাকষির হাতিয়ার না করার অনুরোধ জানান।
চিঠিতে বলা হয়, ‘অনুপ চেটিয়া কোনো অপরাধী নন, তিনি আসামের স্বাধীনতাকামী মানুষের নেতা। ভারতে আশ্রয় নেওয়া আপনার দেশের অপরাধীদের হস্তান্তরের বিনিময়ে তাঁকে ভারতের কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে দেওয়াটা অত্যন্ত অসম্মানজনক। আর এ ধরনের তৎপরতা আসামের মানুষের মর্যাদার জন্য হানিকর।’ ই-মেইলে পাঠানো ওই চিঠিতে অনুপ চেটিয়াকে সম্মানজনকভাবে ভারতের কাছে হস্তান্তরের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অভিজিত ও পরেশ বড়ুয়ার নেতৃত্বাধীন উলফার এই অংশ ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়ায় বাইরে রয়েছে। অরবিন্দ রাজখোয়ার নেতৃত্বে উলফার মূল ধারা নয়াদিল্লির সঙ্গে প্রায় দুই বছর ধরে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁরাও অনুপ চেটিয়াকে ফিরিয়ে নিয়ে তাঁদের আলোচনায় সম্পৃক্ত করার জন্য ইতিমধ্যে ভারত সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে।
দিল্লির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র প্রথম আলোর নয়াদিল্লি প্রতিনিধিকে ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছে, উলফার সাধারণ সম্পাদক অনুপ চেটিয়াকে নেওয়ার জন্য ভারতের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসবে।

শেয়ার করুন